রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ঢুকে ভাঙচুর ও একজন শিক্ষিকার সঙ্গে অশোভন আচরণের ঘটনায় জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপি’র সহসভাপতি আকবর আলীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ঢুকে ভাঙচুর এবং একজন শিক্ষিকার সঙ্গে অশোভন আচরণের ঘটনা ঘটেছে দূর্গাপুর উপজেলাধীন জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপি’র সহসভাপতি আকবর আলীর বিরুদ্ধে। সুতরাং দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে আকবর আলীকে বিএনপি’র প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার কলেজে ২০২৪ সালের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলছিল। ফলে পরীক্ষাকেন্দ্র বিবেচনায় কলেজ ও আশপাশের ১০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করেছিলেন প্রশাসন। এরই মধ্যে এই ঘটনা ঘটে।
এদিকে কলেজের শিক্ষকরা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাফসির মাহফিলের আয়োজন উপলক্ষে সাবেক এক পুলিশ সদস্যের নেতৃত্বে কয়েকজন বিএনপি নেতা কলেজে আসেন। তারা অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলছিলেন। সে সময় কলেজ প্রদর্শক শিক্ষিকা আলিয়া খাতুন ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় জয়নগর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন আলিয়া খাতুনের মুঠোফোন কেড়ে নিতে বলেন। আফাজ উদ্দিন তার মুঠোফোন কেড়ে নিতে যান। তখন আলিয়া তাকে থাপ্পড় মারেন। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে মুঠোফোন কেড়ে নেয়া হয়। পড়ে আলিয়া খাতুন নিচে নেমে আসেন। এরপর আফাজ উদ্দিনকে ধাক্কা দিয়ে মাঠে ফেলে দেন।
একই সময়ে ওই কলেজের পুকুরের ইজারাদার বিএনপির কর্মী শাহাদাত আলী অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে আসেন। তার বিরুদ্ধে কলেজের পুকুর ইজারা নিয়ে টাকা না দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। শাহাদত আলীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকেও থাপ্পড় মারেন আলিয়া খাতুন। তখন শাহাদত আলী পা থেকে জুতা খুলে আলিয়া খাতুনকে মারপিট করতে থাকেন। এ সময় অন্যান্যদের বসে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে শাহাদত আলীর ছেলে লিটন ও কর্মচারী মাহাবুর অধ্যক্ষ এবং আলিয়ার ওপরে হামলা চালান।
এ ব্যাপারে শাহাদত আলী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে তার টাকাপয়সা পরিশোধ আছে। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর সব এলোমেলো থাকার কারণে টাকা দেয়া হয়নি। তিনি ওই টাকার হিসাব–নিকাশ করতেই কলেজে এসেছিলেন। তার আগেই তাফসির মাহফিলের চিঠি দিতে যাওয়া লোকজনের সঙ্গে আলিয়া খাতুন দুর্ব্যবহার করেন এবং একজনকে চড়ও মারেন। এই পরিস্থিতি মধ্যে তিনি অধ্যক্ষের কার্যালয়ে গিয়ে বলেন, ‘এই পরিস্থিতির মধ্যে কথা বলার পরিবেশ নাই। আমি না হয় পরের একদিন আসি।’
শাহাদত আলী আরও বলেন, ‘‘অধ্যক্ষ মহোদয় বিষয়টি আন্তরিকভাবে নিলেন, কিন্তু পাশ থেকে আলিয়া বলে ওঠেন, ‘তুই ওদের সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিস, তুই কিসের বিএনপি নেতা?’’
শাহাদত আলী দাবি করেন, এ কথা বলার পরই আলিয়া তার গালে একটা থাপ্পড় মারেন। তখন তিনি পা থেকে স্যান্ডেল খুলে তাকে মেরেছেন।
এদিকে আলিয়া দাবি করেন, অধ্যক্ষের ওপরে হামলা চালাচ্ছিল, অধ্যক্ষ স্যারের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। এ অবস্থায় তিনি ভিডিও করছিলেন। তারা ভিডিও করতে দেবে না, এ জন্য তার ওপরে হামলা করে তাকে স্যান্ডেল দিয়ে মারপিট করে এবং তার মুঠোফোনটা কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলে।’
তাফসির মাহফিলের দাওয়াত কার্ড বিতরণ করতে দাউকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের কক্ষে যান বিএনপির জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলী, ১ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মো. এজদার (৪৫) ও ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আফাজ উদ্দিনসহ (৪৫) দলীয় নেতাকর্মীরা। হামলার বিষয়ে জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘পূর্বের দুর্নীতির হিসাব চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষকদের পক্ষ থেকেই আগে হামলা করা হয়।’
দুর্গাপুর থানার ওসি পঞ্চনন্দ সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি।’

N Islam
২ মাস আগেভিডিওতে দেখলাম ওখানে আরও বেশ কয়েকজন বসে আছে, তারাতো থামানোরও চেষ্টা করলোনা । আমারতো মনে হয় ওদেরকে আগে শাস্তি দেওয়া উচিৎ ।