বণিক বার্তা
দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘বড় তিন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বৃহৎ সক্ষমতা উৎপাদনে না থাকায় বাড়ছে লোডশেডিং’। খবরে বলা হয়, দেশে বিদ্যুৎ চাহিদা ও উৎপাদনে গড়ে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের মতো ঘাটতি হচ্ছে। গতকালও তিন হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি হতে পারে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে জানানো হয়।
উৎপাদন ঘাটতির কারণে মফস্বলে বেড়েছে লোডশেডিং। গ্যাস, জ্বালানি তেল ও কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো দিয়ে ঘাটতি মোকাবেলার চেষ্টা করা হলেও তিনটি বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বৃহৎ সক্ষমতা উৎপাদনে না থাকায় সম্প্রতি লোডশেডিং বেড়ে গেছে। আদানি, এসএস পাওয়ার ও আরএনপিএলের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট সক্ষমতা ৪ হাজার ২৪০ মেগাওয়াট। বর্তমানে এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি করে ইউনিট বন্ধ থাকায় গ্রিডে এ তিনটি কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৬৮৯ মেগাওয়াট সরবরাহ হচ্ছে, যা মোট উৎপাদন সক্ষমতার ৩৯ শতাংশ। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এসব ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ ঘাটতি অনেকটা কমে আসবে।
বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা-১) উম্মে রেহানা গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমাদের আটটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে আমদানি করা আদানির একটি ইউনিটে কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এ কেন্দ্রের ইউনিটটি ২৬ এপ্রিল পুনরায় উৎপাদনে ফিরবে। এছাড়া বাঁশখালীতে আইপিপি-ভিত্তিক এসএস পাওয়ারের একটি ইউনিট (৬৬০ মেগাওয়াট) ২৮ এপ্রিলের দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করবে। ফলে বাড়তি আরো ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ দেয়া গেলে এ সংকট কিছুটা নিরসন হবে। জ্বালানি সংকটের কারণে আরএনপিএলের একটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে এটা উৎপাদনে আনার কথা জানিয়েছে তারা। সব মিলিয়ে গ্রিডে ১ হাজার ৯৮২ মেগাওয়াট বাড়তি বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হবে।’
বিপিডিবি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের আদানি পাওয়ারের মোট সক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। ২১ এপ্রিলও কেন্দ্রটি থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে আদানির বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৭৫০ মেগাওয়াটের কিছু বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছে বিপিডিবি। পটুয়াখালীতে আরপিসিএল ও নরিনকো পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি বা আরএনপিএলের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। এ কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে কয়লা সংকটে ভুগছে। বর্তমানে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট (৬৬০ মেগাওয়াট) থেকে ৩০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ নিচ্ছে বিপিডিবি। বাকি একটি ইউনিট কয়লা সংকটে বন্ধ রয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে আরএনপিএলের এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা একটি ইউনিট অর্ধেক সক্ষমতায় চালিয়ে যাচ্ছি। আরেকটি ইউনিটের জন্য কয়লা আমদানি অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মূলত কয়লা সংকট, টেন্ডার জটিলতার জন্য এ ইউনিটটি চালু করা যায়নি। বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিট চালু করার চেষ্টা চলছে। তবে মে মাসের শুরুতে করা যাবে কিনা তা নিয়ে একটু চ্যালেঞ্জ রয়েছে।’ চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বেসরকারি অর্থায়নে নির্মিত এসএস পাওয়ারের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় বর্তমানে ৬০০ মেগাওয়াটের কিছু বেশি উৎপাদন করতে পারছে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে এসএস পাওয়ার প্লান্টের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) মো. ইবাদত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের যে ইউনিটটি চালু করার কথা বলা হচ্ছে, সেটা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উৎপাদনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কতদিন চালু রাখা যাবে সেটা বলা মুশকিল। বিপিডিবির কাছে বকেয়া সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। চলতি মাসে পেমেন্ট দেয়া হয়েছে ৫০০ কোটি টাকা। আগামী মাসে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঋণের কিস্তি রয়েছে ১৪৫ মিলিয়ন ডলার। ফলে যে অর্থ দেয়া হচ্ছে তা দিয়ে কীভাবে জ্বালানি আমদানি করব আর কীভাবে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করব? আমরা বার বার বলছি বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে, কারণ টাকা ছাড়া তো জ্বালানি আমদানি করা যাচ্ছে না।’
এসএস পাওয়ার, আদানির ঝাড়খন্ডের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও আরএনপিএলের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট সক্ষমতা ৪ হাজার ২৪০ মেগাওয়াট। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির হিসাব অনুসারে বর্তমানে এ তিন কেন্দ্র থেকে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে ১ হাজার ৬৮৯ মেগাওয়াট (২২ এপ্রিলের হিসাব অনুযায়ী)। সক্ষমতা তুলনায় এ তিন কেন্দ্র থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ কম পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের মধ্যে সচল থাকা ১ নম্বর ইউনিটটির উৎপাদন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত বুধবার রাত ১০টার দিকে বন্ধ হয়। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, সবশেষ বন্ধ হওয়া ১২৫ মেগাওয়াটের ইউনিটটি থেকে প্রতিদিন ৫০-৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো।
জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চাহিদায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে চাহিদা অনুসারে বিদ্যুৎ উৎপাদন না হওয়ায় মফস্বল ও প্রান্তিক এলাকায় বড় আকারে লোডশেডিং হচ্ছে। এ লোডশেডিং এখন দিনে আড়াই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি পৌঁছেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্তের কথা গতকাল জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, বিদ্যুতের উৎপাদন ঘাটতি দুই হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি, যা সারা দেশে বিতরণ কোম্পানিগুলোর আওতায় লোডশেডিং করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ চাহিদা ও উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় ২২ এপ্রিল ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। তবে দেশের সবচেয়ে বড় বিতরণ সংস্থা পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) তথ্য বলছে, ২২ এপ্রিল দুপুর ১২টায় লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট। একই সময়ে পিজিসিবির হিসাবে লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৪৯৩ মেগাওয়াট। এর আগে বেলা ১১টায় আরইবির লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ১৯৫ মেগাওয়াট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন সংস্থার ভিন্ন তথ্যের কারণে লোডশেডিংয়ের প্রকৃত চিত্র উঠে আসছে না। তাদের দেয়া তথ্যে পার্থক্য থাকায় লোডশেডিংয়ের চিত্র নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের প্রকৃত তথ্য একমাত্র দিতে পারে সঞ্চালন সংস্থা পিজিসিবি। কারণ তারা এ তথ্য এনএলডিসি (ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার) থেকে দিচ্ছে। বিপিডিবি তথ্য দেয়ার সুযোগ নেই। সেই ধরনের প্রযুক্তিও তাদের নেই। আমি মনে করি লোডশেডিংয়ের সঠিক তথ্য জনসাধারণকে জানানো উচিত। এতে মানুষ প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারবে।’
জাতীয় সংসদে গতকাল ৩০০ বিধিতে দেয়া এক বিবৃতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, ‘আমরা মনে করি, শহরের মানুষ আরামে থাকবে এবং গ্রামের মানুষ অর্থাৎ খেটে খাওয়া কৃষক কষ্টে থাকবে, এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। কারণ, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ সমাজ অর্থাৎ শহর এবং গ্রামের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকতে পারে না, সেই বৈষম্যমুক্ত করার জন্য আমরা শহরেও প্রয়োজনে লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যাতে করে কৃষকরা তাদের সেচের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পেতে পারেন।’
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘স্বীকার করতে কোনো দ্বিধা নেই, এ উত্তপ্ত গরমে অনেককেই বিদ্যুৎ সমস্যায় নাজেহাল হতে হয়েছে। এ সমস্যা একদিনের নয়। এ পুঞ্জীভূত সমস্যার দায় কোনোভাবেই বর্তমান নির্বাচিত সরকার কিংবা কারো নয়। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অব্যবস্থাপনার দায় সবাইকে নিতে হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, জাতীয় গ্রিডে সব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা ৮ হাজার ৯০০ মেগাওয়াটের কিছু বেশি (আদানিসহ)। এর বিপরীতে বর্তমানে গড়ে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে। বাকি অর্ধেক সক্ষমতা জ্বালানি সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদনে নেই। পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ দেয়ার সুযোগ থাকলেও এ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জ্বালানি সংকট দীর্ঘদিনেও কাটানো যায়নি।
প্রথম আলো
‘পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, চাপে সাধারণ মানুষ’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান একটি বেসরকারি প্রকাশনা সংস্থায় কাজ করেন। তাঁর মাসিক বেতন ৫৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে ঘরভাড়া, দুই সন্তানের লেখাপড়া, ওষুধ ও যাতায়াতের জন্য খরচ হয় ৩৮ থেকে ৩৯ হাজার টাকা। গ্রামের বাড়িতে বৃদ্ধ মা–বাবাকে মাসে ১০ হাজার টাকা পাঠান তিনি। বাকি ৯-১০ হাজার টাকা খরচ করেন দৈনন্দিন বাজারের জন্য।
কয়েক মাস আগেও বেতনের এই টাকায় টেনেটুনে হাবিবুরের সংসার চলে যেত। কিন্তু চার-পাঁচ মাস ধরে সংসারের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। কারণ, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। এ অবস্থায় খরচ সামলাতে গরুর মাংস ও ফল খাওয়া কমিয়েছে তাঁর পরিবার। আগে ছুটির দিনে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মাঝেমধ্যে ঘুরতে বের হতেন হাবিবুর। এখন সেটাও বন্ধ। তারপরও মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আব্বাস আকন্দ জানান, এখন বাজারে গ্রীষ্ম মৌসুমের সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। ফলে গ্রীষ্মের সবজির দাম কিছুটা কমার কথা। কিন্তু গাড়িভাড়া বাড়ার কারণে সবজির দাম কমছে না।
ব্যয় সামলাতে পারছেন না। এখন প্রতি মাসে তাঁকে ঋণ করতে হচ্ছে। হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সবজি থেকে শুরু করে পোশাক, ওষুধ—সবকিছুর দাম বেড়েছে। আগে ৬-৭ হাজার টাকায় মাসের বাজার হয়ে যেত। এখন লাগছে ৯-১০ হাজার টাকা। গত এক সপ্তাহে ফার্মের মুরগির ডিম, চিনি, বেগুন, পটোলের দাম বেড়েছে। সোনালি মুরগির কেজিও ৩৫০ টাকার ওপরে। বাড়তি এই খরচ আমার জন্য অসহনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
হাবিবুরের সঙ্গে কথা হয় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে। এরপর রাজধানীর জোয়ার সাহারা, মহাখালী, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহে এসব পণ্যের পাশাপাশি মোটা ও মাঝারি চাল, খোলা আটা, ময়দা ও সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত এক-দুই মাসে খুচরা পর্যায়ে আরও কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুগন্ধি চাল, ডিটারজেন্ট ও সাবানের মতো পণ্য। তেলাপিয়া, রুই, পাঙাশ, গরুর মাংসের দামও আগের তুলনায় বাড়তি।
বিক্রেতারা জানান, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বাজারে একসঙ্গে অনেক পণ্যের দাম বেড়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি রয়েছে। সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানিসংকট হওয়ায় বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এতে নতুন করে খরচের চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
ভোগাচ্ছে জ্বালানির দাম
দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মধ্যে গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে বিএনপি সরকার। এর মধ্যে চলতি মাসে দুই দফায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজির) দাম কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা বেড়েছে। এতে বাসাবাড়িতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি সিলিন্ডারে ৬০০ টাকা দাম বেড়েছে। তবে বাজারে এর চেয়ে বাড়তি দামে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হয়।
দেশে ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দামও বাড়িয়েছে সরকার। তাতে প্রতি লিটার ডিজেলে ১৫ টাকা, কেরোসিনে ১৮ টাকা, অকটেনে ২০ টাকা ও পেট্রলে ১৯ টাকা দাম বেড়েছে। এসব জ্বালানির দাম বাড়ায় কৃষি উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পণ্যের দামে।
রাজধানীর আদাবর এলাকায় গৃহকর্মীর কাজ করেন লাইজু বেগম। তিনি বাসায় এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আমি ভাড়া বাসায় থাকি। সেখানে লাইনের গ্যাস নাই। সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করি। গত কয়েক দিনে সিলিন্ডারের দাম ৬০০ টাকা বাড়ছে। অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও বাড়ছে। এত খরচ সামলাব কেমনে।’
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘এমন সংসদই চায় জনগণ’। খবরে বলা হয়, বুধবার এক অভূতপূর্ব সংসদ অধিবেশন দেখল পুরো জাতি। জ্বালানি সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় এ ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।
এ ইস্যুতে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ কয়েকজন মন্ত্রীর ইতিবাচক বক্তব্য দেশবাসীকে উজ্জীবিত করেছে। রাজনৈতিক শীর্ষ নেতাদের এমন সৌহার্দপূর্ণ, সহনশীল ও দেশপ্রেমের বক্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। বাংলা ভাষাভাষী কোটি কোটি মানুষ তাদের বক্তব্য শুনে অনুপ্রাণিত হন।
টক শো ছাড়াও বিভিন্ন মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে এমন বক্তব্যের বেশ প্রশংসা করতে শোনা যায়। সবাই বলছিলেন, সংসদে সত্যিকারার্থে এমন গণতন্ত্রের চর্চা ও জাতীয় ঐক্য দেখার জন্য মানুষ বহুকাল ধরে অপেক্ষা করে আসছিল। বিশেষ করে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর ছাত্র-জনতাসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে নতুন বাংলাদেশের যে প্রত্যাশা ছিল, সেখানে সরকার ও বিরোধী দলকে সবাই এভাবেই দেখতে চেয়েছে। এ বিষয়ে যুগান্তরের কাছে কয়েকজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষকও এভাবেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
জ্বালানি সংকটসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানে বিরোধী দলের প্রস্তাব সাদরে সরকারি দলের গ্রহণ করাকে রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য বড় ধরনের ইতিবাচক অগ্রগতি বলে তারা মন্তব্য করেন। তারা বলেন, আমাদের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি হচ্ছে, যে কোনো ইস্যুতে বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করা। দেশে সংকট বা সমস্যা দেখা দিলে তা আরও প্রকট করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা। দেশের মানুষের কষ্ট কমিয়ে আনতে সরকার ও বিরোধী দলের একসঙ্গে কাজ করার উল্লেখযোগ্য নজির খুব কম। অনন্ত নিকট-অতীতে এমন কোনো উদাহরণ নেই।
তারা আরও বলেন, এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যেই বুধবার জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের কমিটি গঠনের প্রস্তাব এবং প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান তা মেনে নিয়ে কমিটি গঠন করে দেওয়া রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে। দেশের স্বার্থে এমন ধারা অব্যাহত রাখার ওপর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সংস্কারসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও সরকার ও বিরোধী দল পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থেকে এভাবে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছাতে পারেন বলে তারা পরামর্শ দেন। বিশ্লেষকরা এ-ও মনে করেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রের যে স্বপ্ন দেখে আসছে তা কিছুটা হলেও পূরণ হবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকার ও বিরোধী দল মিলেমিশে কাজ করার বিষয়ে যে কমিটি গঠন হলো, তা ইতিবাচক। দেশে তেলের সংকটে মানুষের কষ্ট হচ্ছে সত্য। মানুষের এই কষ্ট সরকার ও বিরোধী দল অনুধাবন করে পদক্ষেপ নেওয়া অবশ্যই দেশের জন্য মঙ্গলজনক।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতি হচ্ছে, এ ধরনের সংকটের সময় বিরোধী দল পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করে সুবিধা নেয়। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, বিরোধী দলও সমস্যার সমাধান চায় এবং সরকারি দলও সংকট নিরসনে বিরোধী দলের প্রস্তাবকে আমলে নিতে চায়। এটাই জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী ছাত্র-জনতার কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি।
কালের কণ্ঠ
নির্বাহী প্রকৌশলীর কেরামতি দুর্নীতি ধুয়ে ৭ দিনেই ‘পবিত্র’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, হয়তো একটা বিশ্বরেকর্ড, নয়তো একটা জাতীয় রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে দেশের আমলাতন্ত্রের আঁতুড়ঘর সচিবালয়ে। একজন সচিব এক নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পেয়ে সাসপেন্ড করে দেন তাঁকে। দুই দিন বাদেই সেই প্রকৌশলী চিঠি হাঁকেন প্রতিমন্ত্রী বরাবর। সাত দিন বাদে আবার সেই সচিবই আরেক প্রজ্ঞাপন দিয়ে বলেন, দুর্নীতির প্রমাণ মেলেনি, বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার ও তাঁকে স্বপদে পুনর্বহাল করা হলো।
আমলাতন্ত্রের ফাঁদ, লালফিতার দৌরাত্ম্য—এই শব্দবন্ধগুলো এ দেশে বহুল ব্যবহৃত। সরকারি দপ্তরগুলোয় কাজের কচ্ছপগতি বোঝাতে এসব শব্দ চলে আসছে। দেশের আমলাতন্ত্রে কোনো কাজই যে ‘বিশেষ ব্যবস্থা’ ছাড়া গতি পায় না, তা মোটামুটি বিশ্ববিদিত। এই অবস্থায় ওপরের ঘটনাটি ‘বিশেষ কেরামতি’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে পাওয়া নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তবিবুর রহমান তালুকদারকে চলতি মাসের ৯ তারিখে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান। প্রজ্ঞাপনে সচিব স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, ওই নির্বাহী প্রকৌশলী ও জনস্বাস্থ্যের দুটি বড় প্রকল্পের পরিচালক মো. তবিবুর রহমান তালুকদারের বিরুদ্ধে ‘স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্তে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে।’
প্রজ্ঞাপনের শেষে যথারীতি লেখা হয়েছে, ‘জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হলো।’ কিন্তু সচিবের এই জনস্বার্থের আদেশটি টিকতে পেরেছে মাত্র ১১ দিন।
নিজেদের তদন্তকে মিথ্যা ও তবিবুর তালুকদারকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সময় লেগেছে মাত্র সাত কর্মদিবস। নথি ঘেঁটে দেখা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলী তবিবুর তালুকদার দুই দিন বাদেই ১২ এপ্রিল সাজা বিবেচনার আর্জি জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ পুনঃ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং আমি যে নির্দোষ তা প্রমাণিত হবে।’
আবেদনে তাঁর ওপর দায়িত্ব দেওয়া বড় প্রকল্প দুটির কথা উল্লেখ করে তবিবুর তালুকদার আরো যা লেখেন তা হুবহু এ রকম : ‘এমতাবস্থায় উপর্যুক্ত বিষয়সমূহ মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে আমার ওপর আরোপিত সাময়িক বরখাস্তের আদেশটি রহিত করে পুনঃ তদন্তের মাধ্যমে পর্যালোচনা করার জন্য আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হলো।’
এই আবেদনের একদম ওপরে কলম দিয়ে হাতে লেখা একটি নির্দেশ : ‘সচিব, এলজিইডি; জরুরিভিত্তিতে আলোচনা করুন। ’ লেখাটির নিচে একটি স্বাক্ষর, তার নিচে ওই দিনের তারিখ ১২-৪-২৬। তারও নিচে সিল দেওয়া—মীর শাহে আলম এমপি; প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
আর আবেদনপত্রটির একদম নিচে কলমের কালিতে আরেকটি হাতে লেখা এ রকম : ‘মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সহিত আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে আলোচনা করুন।’
এই হাতে লেখাটির নিচে স্বাক্ষর; তার নিচে একই তারিখ; তার নিচে সিল মারা : মো. শহীদুল হাসান; সচিব; স্থানীয় সরকার বিভাগ।
এরপর একই সচিব মো. শহীদুল হাসান স্বাক্ষরিত গত বুধবার, ২২ এপ্রিলে জারি করা আরেক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বাস্থ্যের ওই নির্বাহী প্রকৌশলী তবিবুর রহমান তালুকদারের বিরুদ্ধে ‘স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক দায়েরকৃত বিভাগীয় মামলা নং- ০১/২০২৬-এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) ও ৩(ঘ) অনুসারে অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।’
এরপর তাঁর সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করা এবং ওই দুটি প্রকল্পের পরিচালক পদে পুনর্বহাল করার কথা বলা হয়। ‘তাঁর বরখাস্তকালীন সময়কে কর্মকাল হিসেবে গণ্য করা হবে’—এ কথাও প্রজ্ঞাপনে লেখা হয়। সব শেষে যথারীতি এখানেও লেখা হয়, ‘জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হলো।’
গত পরশু এই আদেশ জারির পর গতকাল জনস্বাস্থ্যের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী তবিবুরের পক্ষের লোকজনকে মিষ্টি খাওয়াখাওয়ি করতে দেখা যায়।
ইত্তেফাক
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম ‘বেড়েছে চালসহ সব নিত্যপণ্যের দাম’। খবরে বলা হয়, বাজার করতে গিয়ে রীতিমতো হোঁচট খেয়েছেন ফরহাদ হোসেন। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক ডজন ডিমের দাম ১৫ টাকা বেড়েছে। তিনি সাধারণত মাঝারি মানের চাল (পাইজাম) কিনে থাকেন। চালের দোকানে গিয়ে দেখলেন, এই চালও প্রতি কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। শুধু এ দুটি পণ্যই নয়, আটা, ময়দা, তেল, ডাল থেকে শুরু করে সবজি সবকিছুর দামই বেড়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরান বাজার, শান্তিনগর ও তুরাগ এলাকার নতুন বাজারে খোঁজ নিয়ে বিভিন্ন পণ্যের দামের এ চিত্র দেখা যায়। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর দেশের নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন ভোক্তারা। কারণ, আয় না বাড়ায় এই বাড়তি ব্যয়ের চাপ সরাসরি তাদের ওপর পড়ছে। ফলে প্রতিদিনের হিসাব মেলানোই এখন তাদের বড় চ্যালেঞ্জ।
উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১১৬ থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। এছাড়া, চলতি মাসেই মাসেই দ্বিতীয় বারের মতো ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ানো হয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, জ্বালানির দাম বাড়ার পর প্রথম ধাক্কা লাগে পরিবহন খাতে। সরকারিভাবে ভাড়া পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্তের আগেই বিভিন্ন অঞ্চলে ট্রাক ভাড়া এক লাফে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের পাইকারি বাজারে। পাইকারি দামের এই পরিবর্তন ধীরে ধীরে ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে শুরু করেছে। অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি অর্থনীতিতে একটি ‘চেইন প্রভাব’ সৃষ্টি করে। এর ফলে উত্পাদন, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে খরচ বাড়ে, যা শেষ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করে। তারা সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি খরচ দীর্ঘ সময় উচ্চ অবস্থানে থাকলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরো বেড়ে যেতে পারে।
চালের দামে উল্লম্ফন :গতকাল বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মাঝারি মানের চাল (পাইজাম/লতা) গত তিন দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে দুই থেকে পাঁচ টাকা বেড়েছে। তিন দিন আগেও যে চাল ৫৫ থেকে ৬৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা এখন ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আটা ও ময়দার দামও প্রতি কেজিতে দুই থেকে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি খোলা আটা (সাদা) ৪২ থেকে ৪৬ টাকা, প্যাকেট আটা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং খোলা ময়দা ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা তিন দিন আগে যথাক্রমে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বেড়েছে খোলা সয়াবিন তেলের দামও। প্রতি লিটারে পাঁচ টাকা বেড়ে গতকাল তা ১৮৫ থেকে ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত তিন-চার দিনের ব্যবধানে দাম বেড়েছে এমন পণ্যের তালিকায় আরো রয়েছে ছোলা, ডিম ও সবজি। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়, যা আগের দিন ৮০ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ফার্মের ডিমের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। এক সপ্তাহ আগেও প্রতি ডজন বাদামি ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা গতকাল ১৩৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) প্রতিদিন নিত্যপণ্যের বাজারদর নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে। সংস্থাটির এই প্রতিবেদনেও পণ্যগুলোর দাম বাড়ার তথ্য উঠে এসেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। সরকার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এদিন দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক টাস্কফোর্স কমিটির বৈঠক শেষে তিনি বলেন, বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিমসংকট বা কারসাজি বরদাশত করা হবে না।
বেশির ভাগ সবজি ৭০ টাকার ওপরে :জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে পরিবহন খরচ বাড়ায় সবজির দামেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বেশির ভাগ সবজির কেজি ৭০ টাকার ওপরে। এর মধ্যে প্রতি কেজি বেগুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা, ঝিঙা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা এবং কচুমুখী ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নয়া দিগন্ত
‘মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে উভয় সঙ্কটে বাংলাদেশ’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উভয় সঙ্কটে পড়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে একটি অন্যায় যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়ার বিরোধিতা করে বাংলাদেশের অবস্থান আশা করছে ইরান। কিন্তু বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলো বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। এ ছাড়া বাংলাদেশের অন্যতম রফতানি খাত তৈরী পোশাকের একক বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্র। এসব কারণে ইরানের পক্ষে বাংলাদেশ সরাসরি কোনো অবস্থান নিতে পারছে না।
এ দিকে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল বাংলাদেশমুখী ছয়টি জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিলেও ইসলামী রেভ্যুলেশনারি গার্ড কোর্পের (আইআরজিসি) বাধার মুখে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে না। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের পণ্যবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ একাধিকবার চেষ্টা করেও এই প্রণালী পার হতে পারেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আক্রমণের পর থেকে জাহাজটি পারস্য উপসাগরে আটকে আছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সম্প্রতি তুরস্কে অনুষ্ঠিত আন্তালিয়া কূটনীতি ফোরাম সম্মেলনের সাইডলাইনে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটে বাংলাদেশের ধারাবাহিক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কথা উল্লেখ করে হরমুজ প্রণালী পার হতে বাংলাদেশের পতাকাবাহী ও বাংলাদেশমুখী জাহাজগুলোকে সহায়তা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে তিনি ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদির সাথে বৈঠকেও একই অনুরোধ জানান। উভয় ক্ষেত্রেই আশ্বাসের বাণী শুনানো হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই।
১ এপ্রিল ঢাকায় আয়েজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আক্রমণ নিয়ে ঢাকার অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদি বলেছেন, এ-সংক্রান্ত বাংলাদেশের দেয়া বিবৃতি নিয়ে আমাদের কষ্টের জায়গা রয়েছে। জাতিসঙ্ঘ সনদ অনুযায়ী ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ অবৈধ। এটিকে বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ এই অবৈধ যুদ্ধের নিন্দা জানাতে পারে। মুসলিম দেশ না হয়েও স্পেনের মতো অনেক ইউরোপীয় দেশ এই অবৈধ যুদ্ধের নিন্দা জানিয়েছে। খোদ যুক্তরাষ্ট্রেও এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। আমরা চাই বাংলাদেশ এই অন্যায় যুদ্ধের প্রতিবাদ স্পষ্টভাবে জানাক। এর চেয়ে বেশি কিছু না।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আক্রমণ শুরু হলে ইরান বিশেষ করে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোন হামলা শুরু করে। বাংলাদেশের দেয়া প্রথম বিবৃতিতে জিসিসি দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। পরে সমালোচনার মুখে দ্বিতীয় বিবৃতিতে যুদ্ধের প্রথম দিনই নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়েছে; কিন্তু কোনো বিবৃতিতেই ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আক্রমণের নিন্দা জানানো হয়নি। খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর ১৩তম সংসদ অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সরকারের পে ইরান দূতাবাসে শোক বইয়ে স্বার করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপীয়) ড. নজরুল ইসলাম। সর্বশেষ বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে ইরানে জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী পাঠানোর উদ্যোগ নেয় সরকার। ইরান এসব পদক্ষেপের প্রশংসা করলেও যুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করার ইস্যুতে অনড় থাকে।
দেশ রূপান্তর
‘পুলিশে ফের অস্থিরতা’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, পুলিশ বাহিনীতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিবিধ কারণে এ অস্থিরতা চলছে। পুলিশের পেশার ধরনটাই অস্থিরতার এ কথা অনস্বীকার্য। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা অনেক বেড়েছে। এখনকার অস্থিরতা ভীতিজনিত কখন চাকরি চলে যায়, এই হচ্ছে ভয়। চাকরিহীন হয়ে পড়ার ভয় পুলিশ সদস্যদের তাড়া করছে। চাকরি হারালে পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে চলবেন, সমাজে অবস্থানই বা কী হবে এসব চিন্তা তাদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে সারাক্ষণ।
পুলিশের কেউ বলেছেন, ‘কখনো রাজনৈতিক আজ্ঞাবহ হয়ে দায়িত্ব পালন করিনি। সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করেছি। লোভনীয় কোনো পদেও ছিলাম না। কর্তৃপক্ষের নির্দেশানুযায়ী কাজ করেছি। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বলির পাঁঠা বানানোর চেষ্টা চলছে। তারপরও কাজ করছি। শুধু ভয় কখন চাকরি চলে যায়! প্রতিদিনই পরিবারের কাছে বলে আসছি চাকরি চলে গেলে ক্ষমা করে দিতে। এভাবে কী চাকরি করা যায়? যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, তাদের কথা শুনতে হয় এটাই পুলিশের চাকরির নিয়ম। কিন্তু সরকারের কথা শুনতে গিয়ে কালোতালিকাভুক্ত হতে হচ্ছে। কালোতালিকাভুক্তি থেকে কবে পরিত্রাণ মিলবে?’
গত বুধবার সকালে ক্ষোভের সঙ্গে কথাগুলো বলেন ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা। নাম গোপন রেখে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারপ্রধান বাংলাদেশকে বদলে দিতে চান। অথচ পুলিশের ভেতরে থাকা একটি চক্র সরকারকে ভুল বুঝিয়ে পুলিশে আতঙ্ক তৈরি করছে।’
ওই কর্মকর্তার মতো পুলিশের ঊর্ধ্বতন থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত সবাই অস্থির। কার কখন চাকরি যায় বা সংযুক্ত হওয়ার পাশাপাশি খারাপ স্থানে বদলি হয়ে যায় এ দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। গত বুধবার ১১ ডিআইজি ও দুজন অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর পর আতঙ্ক আরও বেড়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতনরা যদিও বলছেন, ‘যারা গত ১৭ বছর সরকারের লেজুড়বৃত্তি করেছে, তাদেরই বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি জনবান্ধব পুলিশ গড়তে।’
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় ছিল অন্তর্র্বর্তী সরকার। পুলিশের কিছু কর্মকর্তা আওয়ামী আমলেও ক্ষমতাধর ছিলেন, অন্তর্র্বর্তী সরকারের আমলেও তাদের প্রভাব কমেনি। তারা সব সরকারের লেজেই তেল মাখিয়েছেন। বিএনপি সরকার গঠন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ শুরু করেছে। বাহিনীর যারা সব সরকারের আমলেই সুবিধা নিয়েছে, তাদের বিষয়ে খোঁজ নিতে সরকারের উচ্চমহল থেকে গোপন বার্তা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী, পুলিশের দুটি ইউনিটসহ গোয়েন্দারা কাজ শুরু করেছে। তারা কয়েকজন অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ইন্সপেক্টর, সাব-ইন্সপেক্টরসহ অনেক কর্মকর্তার বিষয়ে বিশদ তথ্য সংগ্রহ করেছে। ওই সব কর্মকর্তা সব সরকারের আমলেই বিশেষ সুবিধা এবং পদোন্নতি নিয়ে ভালো স্থানে রয়েছেন। এখন ভোল পাল্টে বিএনপি আদর্শের কথা বলে সুবিধা নেওয়ার পাঁয়তারা করছেন।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘সেবার আড়ালে সরঞ্জাম বাণিজ্য’। খবরে বলা হয়, সাত বছরের নুসরাত আক্তার বৃষ্টি। পরিবারের সঙ্গে থাকে রাজধানীর মেরুল বাড্ডায়। বড় বোনের সঙ্গে খেলার ছলে খাট থেকে পড়ে গিয়ে বাঁ হাতে গুরুতর আঘাত পায়। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে (পঙ্গু হাসপাতাল)। এক্স-রেতে ধরা পড়ে কনুইয়ের ওপরের হাড়ে ফাটল। অপারেশন হয়, হাড়ে বসানো হয় একটি স্ক্রু। কিন্তু চিকিৎসার চেয়েও বড় হয়ে ওঠে খরচের বোঝা। অপারেশন ‘বিনামূল্যে’ হলেও, বাস্তবে একের পর এক খরচের তালিকা ধরিয়ে দেওয়া হয় তার বাবা ইসমাইল হোসেনের হাতে। শুধু স্ক্রুই কিনতে হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। এর বাইরে প্রায় ৭ হাজার টাকার ওষুধ, ইনজেকশন, সুই, সেলাইয়ের সুতা, গজ- সবই কিনতে হয়েছে বাইরে থেকে। একটি ছোট চায়ের দোকানের আয়ে চলা পরিবারটির জন্য এই খরচ যেন হঠাৎ নেমে আসা এক দুর্ভার চাপ।
জানতে চাইলে ইসমাইল হোসেন বলেন, অপারেশনটা ফ্রি বলেই এখানে এসেছি। কিন্তু পরে দেখি, সবকিছুই নিজের টাকায় কিনতে হচ্ছে। হাসপাতালের ভিতরেই বিভিন্ন কোম্পানির লোকজন ঘোরে, তারাই এসব জিনিস এনে দেয়। রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের আগে চিকিৎসকরা একটি ‘লিস্ট’ ধরিয়ে দেন। সেই তালিকায় থাকে অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব উপকরণ- সুই থেকে শুরু করে সুতা, গজ, ইনজেকশন পর্যন্ত। কোনো কিছুই হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা হয় না। তবে অপারেশনের আগে যেসবের লিস্ট ধরিয়ে দেওয়া হয় সেগুলো সরবরাহ করে থাকেন হেলথ কেয়ার ক্লিনিকের প্রতিনিধিরা। এরা এই সরকারি হাসপাতালে বিভিন্ন আড়ালে বেসরকারি বাণিজ্য করে থাকেন।
আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে অপারেশনের আগে ওই তালিকা ঘিরে। অনেক স্বজনের দাবি, তালিকায় থাকা সব উপকরণ অপারেশনে ব্যবহারই হয় না। অতিরিক্ত এসব সামগ্রি পরে বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মো. মোক্তার। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দুর্ঘটনায় তার ডান হাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাকে পাঠানো হয় পঙ্গু হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, তার ডান হাত কেটে ফেলতে হবে।
অপারেশনের আগে তাকেও দেওয়া হয় প্রায় ৭ হাজার টাকার ওষুধ ও সরঞ্জামের তালিকা। মোক্তার বলেন, রাতে অপারেশন। ডাক্তারের দেওয়া সবকিছু আগেই কিনে রেখেছি। না হলে অপারেশনই হবে না।
সহযোগীদের খবর
বড় তিন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বৃহৎ সক্ষমতা উৎপাদনে না থাকায় বাড়ছে লোডশেডিং
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন
২ মাস আগে
২৪ এপ্রিল (শুক্রবার), ২০২৬, ৯ঃ১৯ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
