রাজধানীজুড়ে বসছে ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা: ডিএমপি কমিশনার

রাজধানীজুড়ে বসছে ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা: ডিএমপি কমিশনার

ফন্ট সাইজ:

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার বলেছেন, অপরাধ দমনে রাজধানীজুড়ে ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস, ছিনতাই ঠেকাতে মোহাম্মদপুর এলাকাতেই ৭শ’ সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। গতকাল বসিলা অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের উদ্বোধন এবং মোহাম্মদপুর থানার ‘ওপেন হাউজ ডে’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. সরওয়ার বলেন, গুলশান বনানী এলাকায় আগে থেকেই ১৩০০ সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে। যার কারণে ওই এলাকায় অপরাধ কম। এখন মোহাম্মদপুর, বছিলা এলাকায়ও সরকারিভাবে সিসি ক্যামেরা লাগানোর কাজ শুরু হবে। মোহাম্মদপুর বসিলাবাসীর উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনাদের বাসা বাড়ির আশেপাশে আপনারাও সিসি ক্যামেরা লাগান। আমরা বিভিন্ন পয়েন্টে পয়েন্টে বা যেখানে যেখানে প্রয়োজন সেখানে ৭০০ ক্যামেরা স্থাপন করবো। এর বাইরেও ঢাকাজুড়ে ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা লাগানোর একটা প্রজেক্ট বর্তমান সরকার অচিরেই পাস করে দিবে। এই সিসি ক্যামেরাগুলো স্থাপন করলে ঢাকা মহানগর আরও নিরাপদ হবে।

এছাড়াও আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থার অংশ হিসেবে হোটেল, রেস্টুরেন্টের মালিক ও ম্যানেজারদের তথ্য এবং বাসাবাড়ির ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংরক্ষণে একটি অ্যাপভিত্তিক সিস্টেম চালু করা হবে। এতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তথ্যভিত্তিক নজরদারি আরও কার্যকর হবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, মোহাম্মদপুর ও বসিলা এলাকাকে অপরাধমুক্ত করতে সমন্বিত অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রয়োজন হলে অন্য থানা থেকেও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করা হবে। অপরাধ প্রবণ এলাকা হওয়ায় ইতোমধ্যে যে ফাঁড়ি উদ্বোধন করা হয়েছে সেখানে পুলিশের অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। এখানে আমরা আরো একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করবো। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে অবৈধ আয়ের উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘নো ড্রাগস’ কর্মসূচি চালানো হবে।

তিনি বলেন, বসিলা বা মোহাম্মদপুর এলাকার অপরাধী যারা আছে তাদের তালিকা আমাদের কাছে আছে। এই তালিকা আমরা এনালাইসিস করব। এখানে বৈধ ইনকামের বাইরে যদি কেউ থাকে এই অবৈধ ইনকামের প্রত্যেককে আমরা এনালাইসিস করবো, তারা কি করে, কি না করে। প্রয়োজন হলে তাদেরকে ধরবো। যেকোনোভাবে তারা আমাদের পুলিশের অ্যাক্টিভিটিসের বাইরে থাকবে না। যারা অপরাধী তাদের ছবি প্রচার করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধীদের আপনারা ধরিয়ে দিবেন পুরস্কার দেয়া হবে। আপনারা আমাদের গোপনে চিনিয়ে দিবেন, গোপনে তথ্য দিবেন অপরাধী কারা কারা আছে। ‘জেনেভা ক্যাম্পে ৫ তারিখের পরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। সেখানে অনেক পুলিশ মোতায়েন করা ছিল, কিন্তু বর্তমানে সেটি তুলে নেওয়া হয়েছে কেনো’- এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমরা এখানে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়িয়েছি। পাশাপাশি র‌্যাব, ডিবি, পুলিশ কাজ করছে। নতুন সরকার আশায় আমরা এ কার্যক্রমকে আরো বেগবান করেছি। অপরাধীদের ধরতে আমরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছি। এই এলাকায় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করেই বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড করছে কিশোর গ্যাং সদস্যরা। আমরা তাদের আইডেন্টিফাই করে আইনের আওতায় আনবো। অপরাধ দমনে আমরা কোন কিছু থ্রেট মনে করছি না। অপরাধীদের ধরা আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাজধানীর ৫০টি থানায় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি), সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) ও পেট্রোল ইন্সপেক্টর দেয়া হয়েছে। তবে তাদের আবাস সেভাবে গড়ে ওঠেনি। সেগুলোরও ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, এসময় তিনি এই এলাকার অটোরিকশার দৌরাত্ম্যের কথা উল্লেখ করে সচেতন সমাজের মানুষকে অটোরিকশা বর্জনের আহবান জানান তিনি।

‎আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসময় আরো স্থানীয়রা মোহাম্মদপুরের অপরাধ দমনে নানান পরামর্শ ও অপরাধীদের থামানোর নানান বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে স্থানীয়দের কাছে অপরাধ দমনে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে অপরাধীদের যেকোনো ধরনের তথ্য জানাতে অনুরোধ জানানো হয়।

সিরু

২ মাস আগে

> প্রত্যেকটি অপরাধের উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করতে পারলেই দেশ জঙ্গি রাজাকার, গুপ্ত রাজাকার আর জুলাই বাটপার মুক্ত হবে।
> কারন, যে খানে অপরাধ সে খানেই জঙ্গি রাজাকার, গুপ্ত রাজাকার আর জুলাই বাটপার।

তপু

২ মাস আগে

ট্রাফিক লাইট ঠিক করতে পারেনা,সিসি ক্যামেরা নিয়ে ব্যস্ত!

ম নাছিরউদ্দীন শাহ

২ মাস আগে

এটি যুগান্তকারী প্রদক্ষেপ আইন শৃংখলা স্বার্থেই গোটা ঢাকা শহর ডিজিটাল ক‍্যামরা পদ্ধতিতেই তাৎক্ষণিকভাবে চিহ্নিত করে ব‍্যবস্থা নিয়ে পারবে।
মানুষের জীবনের নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী হবে।
অপরাধীদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সিদ্ধান্ত ঢাকা মেট্রো পলিটন পুলিশের। অপরাধ অবিশ্বাস্য ভাবে কমে যাবে। রাত দিন পাহারা দিনের ক‍্যামরা গুলো
অভিনন্দন ডিএম কে।

মন্তব্য করুন