চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেয়ার পরিকল্পনা নেই: নৌ-মন্ত্রী

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেয়ার পরিকল্পনা নেই: নৌ-মন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রাম বন্দর কোনো বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেয়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বুধবার সংসদে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেনের টেবিলে উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বলেন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ) অথবা সরকার কর্তৃক জারিকৃত অথবা অনুমোদনকৃত ক্ষেত্রে শুধু বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনার লক্ষ্যে অপারেটর নিয়োগ করা হয়। এক্ষেত্রে দেশি এবং বিদেশি উভয় ধরনের অপারেটর বিবেচনা যোগ্য।

তিনি বলেন, বর্তমানে বন্দরের আধুনিকায়ন এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের অব্যাহত অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি অপারেটর দ্বারা বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল পরিচালনা করা হচ্ছে। যেমন, বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি)-এ বিদেশি অপারেটর দ্বারা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া, কর্ণফুলি নদীর ডান তীরে লালদিয়া চর নামক স্থানে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য পিপিপি পদ্ধতিতে ডেনমার্কস্থ মার্কস গ্রুপের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস বিভি-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর একটি স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২ অনুযায়ী একজন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বোর্ড এবং সংস্থার কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ দ্বারা পরিচালিত। উপরন্তু সরকার কর্তৃক সময় সময় যেসব নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তা সরকারি নির্দেশনামতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রতিপালন করে থাকে বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

ডিসেম্বরের মধ্যে পায়রা বন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর প্রত্যাশা: নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই পায়রা বন্দরকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে সরকার ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং মূল কার্যক্রমগুলো ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। সংসদে পটুয়াখালী-৪ আসনের সরকারি দলের সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনের উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, ২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এইচআর ওয়ালিংফোর্ড পায়রা বন্দর স্থাপনের জন্য টেকনো-ইকোনমিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে, যা স্বাধীনতার পর দেশে সমুদ্রবন্দর নির্মাণের প্রথম উদ্যোগ হিসেবে চিহ্নিত।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালে ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৯ সালে দুটি বড় দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প—বন্দরের প্রথম টার্মিনাল নির্মাণ এবং সড়ক ও সেতু সংযোগ উন্নয়ন-হাতে নেয়া হয়। ‘প্রকল্পগুলো যথাক্রমে জুলাই ও ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আন্ধারমানিক নদীর ওপর ১ হাজার ১৮০ মিটার দীর্ঘ চার লেনের সেতু এবং ঢাকাুকুয়াকাটা মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগকারী ৬.৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ছয় লেনের টার্মিনাল অ্যাক্সেস সড়ক নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে। ‘এসব কাজ শেষ হলে আগামী বছরের শুরু থেকে বন্দরটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, বন্দরের প্রধান নৌপথ রাবনাবাদ চ্যানেলে বর্তমানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত গভীরতা নেই। উচ্চ মাত্রার পলি জমার কারণে নিয়মিত ড্রেজিং প্রয়োজন হবে। এ লক্ষ্যে দুই বছর মেয়াদি ড্রেজিং প্রকল্প এবং দুটি ট্রেইলিং সাকশন হপার ড্রেজার (টিএসএইচডি) ক্রয়ের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।

বন্দরের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৯৬ শতাংশ সামুদ্রিক বাণিজ্য চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পরিচালিত হয়। ‘বর্ধিত বৈদেশিক বাণিজ্যের চাপ সামাল দিতে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প কৌশলগত সুবিধা নিশ্চিত করতে পায়রা বন্দরের উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও জানান, পায়রা এলাকায় ইতোমধ্যে ২ হাজার ৬৪০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার দুটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে, ফলে কয়লা আমদানি পরিচালনার জন্য বন্দরের কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন। বন্দরটি দেশের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অবকাঠামোগত অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ৫,৯০০.৯৯ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং পুনর্বাসন কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

এছাড়া নেদারল্যান্ডসের রয়্যাল হাসকোনিংডিএইচভি এবং বুয়েট যৌথভাবে একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করেছে। সাতটি সহায়ক জাহাজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ১ লাখ বর্গমিটার গুদাম সুবিধা নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম টার্মিনাল প্রকল্পের আওতায় ৬৫০ মিটার জেটি এবং ৩.২৫ লাখ বর্গমিটার ব্যাকআপ ইয়ার্ড নির্মাণ শেষ হয়েছে, যেখানে একসঙ্গে তিনটি ২০০ মিটার দীর্ঘ জাহাজ ভিড়তে পারবে।

তিনি বলেন, ১০০ মিটার সার্ভিস জেটি, কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন, কার ইয়ার্ড এবং প্রয়োজনীয় কার্গো হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতিও স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি টার্মিনাল ভবন, সাবস্টেশন, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ভিটিএমএস) স্থাপন করা হয়েছে।

কার্যক্রম প্রস্তুতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কাস্টমস ও শিপিং সুবিধা স্থাপন করা হয়েছে এবং আইএসপিএস কোড অনুযায়ী স্মার্ট অ্যাক্সেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করা হয়েছে। ড্রেজিং ব্যয় মেটাতে জাহাজের ওপর যৌক্তিক ফি আরোপের জন্য গেজেট চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি আরও জানান, রাবনাবাদ চ্যানেলের রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং ও দুটি হপার ড্রেজার ক্রয়, বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসন ও ইউটিলিটি সুবিধা নির্মাণ এবং আইসিটি-ভিত্তিক বন্দর পরিচালনা ব্যবস্থা উন্নয়নসহ কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে পায়রা বন্দরের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়নের পর ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে বন্দরটি ২২০ মিটার দৈর্ঘ্য, ১০.৫ মিটার ড্রাফট এবং ৪৫ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার জাহাজ পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।

MD SAHID ULLAH

১ মাস আগে

দেশীয় লোকগুলো বিদেশি কিনা?

মন্তব্য করুন