তৃণমূল কংগ্রেসের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর অনেক আশা নিয়ে দল গঠন করে নির্বাচনে নেমেছেন। মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের সাবেক এই বিধায়ক বাবরি মসজিদ তৈরির ঘোষণা দিয়ে নিজেকে মুসলিমদের অন্যতম মুখ হিসেবে হাজির করেন। তিনি এমনও ঘোষণা করেছিলেন, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তার নির্ণায়ক ভূমিকা থাকবে।এরপর আম জনতা উন্নয়ন পার্টি তৈরি করে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে মাঠে নামলেও বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে কার্যত একঘরে হুমায়ুন কবীর। জোটের জল্পনা থাকলেও শুরুতেই বামফ্রন্ট তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আসাদউদ্দিন ওয়েসির দল 'মিম' শুরুতে পাশে থাকলেও বিজেপির সঙ্গে আঁতাতের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর তারাও জোট ভেঙে দেয়। ফলত একলা চলো নীতি নিয়ে চলতে হচ্ছে হুমায়ুনকে।
তবে সম্প্রতি নিজের সাম্প্রদায়িক অবস্থানের পক্ষে সাফাই গেয়ে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা বলেন, 'আমি হিন্দু-মুসলমান করি তখনই যখন কোনও অমুসলিম আমার পিছনে লাগতে আসে। যারা ৩০ শতাংশ তাদের আমি ছেড়ে কথা বলব না। ৩০ শতাংশকে ৩০ শতাংশের মতো থাকতে হবে। আমরা ৭০ শতাংশ ৭০ শতাংশের মতো থাকব। তার এই মন্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হতেই তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি এবং বাম-কংগ্রেস নেতৃত্ব। রাজনৈতিক মহলের মতে, সব দল ত্যাগ করার পর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই তিনি মেরুকরণের তাস খেলছেন।
হুমায়ুন একের পর ধাক্কা খেয়ে চলেছেন। সর্বশেষ ধাক্কাটি দিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেছেন, হুমায়ুন কবীরকে বাবরি মসজিদ তৈরির অনুমতি দেওযা হবে না। এদিকে তার দলেও নির্বাচন এগিয়ে আসার মুখে একের পর এক ভাঙ্গনের সুর শোনা যাচ্ছে।
জানা গেছে, হুমায়ুনের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী ইসরাফিল মোল্লা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছেন। ভাঙড়ের নারায়ণপুর অঞ্চলের ঘোজেরমাঠ এলাকায় নির্বাচনী সভায় তিনি তৃণমূলে যোগদান করেন। এদিকে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির দুই প্রার্থী তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন বীরভূমেও। তার আগে মঙ্গলবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চার জন প্রার্থী তৃণমূলে যোগদান করেছিলেন।মঙ্গলবার পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির রানিগঞ্জের প্রার্থী রাহুল ঘোষ, দুর্গাপুর পূর্বের রুবিয়া বেগম, বারাবনির অদ্বৈত দাস এবং পাণ্ডবেশ্বরের জাবেদ শেখ। এদিকে বীরভূমেও আমজনতা পার্টিতে ভাঙন ধরেছে। হুমায়ুনের দলের নানুর বিধানসভার প্রার্থী কিরণ দাস ও দুবরাজপুরের প্রার্থী শুভাশিস দাস তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছেন হাসন কেন্দ্রের প্রার্থী কাজল শেখের হাত ধরে।
জানা গেছে, বাবরি মসজিদ তৈরির ট্রাস্ট থেকেও পদত্যাগ করেছেন কয়েকজন।
হুমায়ুন কবীরের আশায় একের পর এক ধাক্কা
বাবরি মসজিদ তৈরির অনুমতি দেবে না ভারত সরকার
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা
ভারত
২ মাস আগে
২২ এপ্রিল (বুধবার), ২০২৬, ৪ঃ০৪ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
