দেশের উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য অবকাঠামো নির্মাণ, পুননির্মাণ, উন্নীতকরণ, নব রূপায়ণ এবং মেরামত ও সংস্কার কাজ সম্পর্কিত সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।
বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশেনে সাংসদ হাফেজ মুহা. রবিউল বাশারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। বুধবার টেবিলে প্রশ্ন উপস্থাপিত হয়।
তারেক রহমান বলেন, 'সবার জন্য স্বাস্থ্য' নীতির আলোকে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ) নিশ্চিত করা এবং প্রত্যেক নাগরিককে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করার বিষয়কে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বিশেষভাবে গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে চিকিৎসা অবকাঠামো উন্নয়ন, জনবল বৃদ্ধি ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য অবকাঠামো নির্মাণ, পুননির্মাণ, উন্নীতকরণ, নব রূপায়ণ এবং মেরামত ও সংস্কার কাজ সম্পর্কিত সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা' শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদিত হলে এর সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সাংসদ মো. আব্দুল আজিজের টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় বিভিন্ন সংস্থা/দপ্তর তথ্যপ্রযুক্তির সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নানাবিধ পরিকল্পনা ও কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
সেগুলো হল- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর কর্তৃক ৫ বছরে ১০০০ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সার তৈরি করা হবে এবং ৫ বছরে ২ লাখ ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড প্রদান করা হবে। ইতোমধ্যে ৭ হাজার ৫০০ জন ফ্রিল্যান্সারকে ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ: বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ২০২৬ সালে ২ হাজার ৪০০ জনকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেশিন লার্নিং (ML), এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মতো উচ্চপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ত্বরান্বিত করতে ৮৩টি সেবা অনলাইনে প্রদান করা হচ্ছে এবং আগামী ১ বছরে আরও ১০টি নতুন সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হাই-টেক/সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারসমূহ কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য এবং বাংলাদেশে Paypal এর কার্যক্রম আরম্ভে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল: আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের মাধ্যমে ২০টি ব্যাচে প্রায় ১ হাজার আন্ডার গ্র্যাজুয়েট/গ্র্যাজুয়েটদের ITEE (Information Technology Engineers Examination) প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে। বিসিসির মাধ্যমে ৫ হাজার ২০ জন চাকুরী প্রার্থী এবং ছাত্র-ছাত্রীদের এআই, মোবাইল অ্যাপ্স ডেভেলপমেন্ট, Python প্রোগ্রামিং, ডাটা অ্যানালাইটিক্স, সাইবার সিকিউরিটি ইত্যাদি স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণসহ ১বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় ৭০০ জন বিশেষ
চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীকে বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। প্রায় ৭০০ জন নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে WIFI (Women in ICT Frontier Initiative) বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে চাকুরীর ক্ষেত্র তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ITEE প্রশিক্ষণের আওতায় এপ্রিল-২০২৬ সেশনে ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০০ জন শিক্ষার্থীর প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে। ৪০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীকে বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও ২০ জন নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে WIFI প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হয়েছে।
সাংসদ মাছুম মোস্তাফারের টেবিলে উপস্থাপিত
এক লিখিত প্রশ্নের জাবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রত্যেক নাগরিককে মর্যাদা ও সম্মানের সাথে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে যে কোনো নতুন স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে আমাদের বর্তমান সক্ষমতা এবং সম্পদের সঠিক বণ্টনের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হয়। হাসপাতালের মান উন্নয়নে কেবল শয্যা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, আধুনিক যন্ত্রপাতিও প্রয়োজন। এছাড়া জনসংখ্যা ও বেড অকুপেন্সি রেট বিবেচনায় হাসপাতাল নির্মাণ বা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে সাধারণত ৩১/৫০/১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। ১০০ এর অধিক শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে সেকেন্ডারি লেভেলের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। আপনার নির্বাচনী এলাকার পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ থেকে ২০০ শয্যায় উন্নীতকরণের পরিকল্পনা সরকারের এই মুহূর্তে না থাকলেও ভবিষ্যতে ফিজিবিলিটি স্টাডির মাধ্যমে যাচাই-বাছাইসাপেক্ষে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করবে।
সাংসদ আবদুল হান্নান মাসউদের টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, নোয়াখালী জেলার পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে হাতিয়া ও নিঝুম দ্বীপকে আদর্শ পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করার জন্য বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। 'নোয়াখালী জেলার হাতিয়া ও নিঝুম দ্বীপে পর্যটন সুবিধাদি নির্মাণ' শীর্ষক একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে, যার প্রাক্কলিত ব্যয় ৪৯.৬১ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের আওতায় হাতিয়া উপজেলায় তমরউদ্দিন মৌজায় ৬ তলা এবং চর উসমান মৌজার নিঝুম দ্বীপে ৪ তলা ফাউন্ডেশনসহ হোটেল বিল্ডিং নির্মাণের লক্ষ্য কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের আওতায় 'নিঝুম দ্বীপ ইন্টিগ্রেটেড ট্যুরিজম জোন' শীর্ষক নতুন একটি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত নতুন করে জাগ্রত অন্যান্য চরগুলো ও সম্ভাব্য পর্যটন এলাকা লালচর, নিমতলি, কমলার দিঘী ও নিঝুম দ্বীপকে পরিকল্পিত পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পাদন করে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
সাংসদ মো. মনোয়ার হোসেনের টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাগুরা মেডিকেল কলেজের জন্য এখনো আলাদা কোনো ভবন নির্মাণ করা হয়নি। বর্তমানে মাগুরা মেডিকেল কলেজটির কার্যক্রম অস্থায়ীভাবে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে পরিচালিত হচ্ছে এবং উক্ত লাশ কাটা ঘরটি মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা
হাসপাতালের অধীন। এখানে পোস্টমর্টেমের কাজগুলো হচ্ছে কিন্তু মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য কোন ব্যবস্থা নেই। বিদ্যমান লাশকাটা ঘরটি সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মাগুরা মেডিকেল কলেজের জন্য নতুন একটি ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে 'মাগুরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ স্থাপন' শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে এবং উক্ত প্রকল্পের ডিপিপিতে একটি অত্যাধুনিক লাশ কাটা মর্গ স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে মাগুরা মেডিকেল কলেজে একটি অত্যাধুনিক মর্গ নির্মিত হবে বলে আশা করছি।
সাংসদ মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানের টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতায় 'উপজেলা পর্যায়ে ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন (টিএসসি)' শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলাতে একটি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ (টিএসসি) স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে উক্ত টিএসসি'র স্থান নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। আনুষঙ্গিক কার্যাদি সম্পন্ন করে শীঘ্রই গফরগাঁও উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপনের কাজ শুরু হবে আশাবাদ ব্যক্ত করছি।
সংসদে প্রধানমন্ত্রী
উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য অবকাঠামো নির্মাণে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে
সংসদ রিপোর্টার
অনলাইন
৩ মাস আগে
২২ এপ্রিল (বুধবার), ২০২৬, ৪ঃ০১ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
