মমতা একাই একশো, বিজেপির ১৮ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রী প্রচারে

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন

মমতা একাই একশো, বিজেপির ১৮ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রী প্রচারে

ফন্ট সাইজ:

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অন্য কোনও রাজ্যে এতবার প্রচারের এসেছেন বলে জানা নেই। অথচ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে মোদি এবং অমিত শাহ রাজ্যজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে কটাক্ষ করে বলেছেন, সরকার, দেশের কাজ ছেড়ে মোদি যেভাবে বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ঘুরছেন তাতে মনে হচ্ছে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হতে চান।

এদিকে, বিজেপির তাবড় তাবড় জাতীয় স্তরের নেতারা প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং, ধর্মেন্দ্র প্রধান, কিরেন রিজিজুসহ ১৮ জন মন্ত্রী সকলেই পশ্চিমবঙ্গের প্রচারে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছন। সেই সঙ্গে রয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ, ভজনলাল শর্মা ও হিমন্ত বিশ্বশর্মার মত মুখ্যমন্ত্রীরা। অমিত শাহ মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গে শেষ প্রচার সারছেন। আর প্রধানমন্ত্রী মোদি মঙ্গলবার একদিনের ব্যবধানে ফের রাজ্যে এসেছেন। মমতার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন শাহ। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে বিজেপি নেতাদের এই সর্বাত্মক অভিযান কতটা সফল হবে তা বোঝা যাবে আগামী ৪ মের গণনার পর।

বিজেপির এই প্রচারের ঝড় তোলার পাল্টা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী একাই রাজ্য জুড়ে প্রচারে সমানভাবে ঝড় তুলেছেন। কোনও তারকা প্রচারক নেই, শুধুমাত্র ভাইপো তথা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তার এক মাত্র সঙ্গী। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রতিদিন রাজ্যের নানা প্রান্তে তিনটি থেকে চারটি জনসভা করে বিজেপির মিথ্যাচার ও বিপদ সম্পর্কে সকলকে সতর্ক করে চলেছেন। অবশ্য মোদি ও অমিত শাহর বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েও চলেছেন অনবরত।

সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন দাবি করেছেন, তাদের কাছে খবর রয়েছে অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডেকেছেন। আমাদের কাছে নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবর আছে, অমিত শাহ সিবিআই প্রধান, ইডি প্রধান এবং এনআইএ প্রধানকে বৈঠকে ডেকেছেন। বাংলা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য। তার পরেই তৃণমূল নেতার আশঙ্কা, আগামী ১৫০ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গে বড় কিছু ঘটতে চলেছে।

পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ঘটবে না কি কোনও নির্দিষ্ট জায়গায়—সে সম্পর্কে অনুমানও করেছেন ডেরেক। তিনি বলেন, সম্ভবত এই ঘটনা ঘটতে চলেছে দক্ষিণবঙ্গে। অর্থাৎ দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি এবং কলকাতায়। ডেরেকের মতে, এই সব জায়গায় বিজেপি বিগ জিরো। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিজেপি। সেই কারণে সর্বশক্তি লাগিয়ে দিচ্ছে। ডেরেকের কথায়, এক জন মহিলাকে হারাতে মরিয়া হওয়ার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে গিয়েছে বিজেপি। এক দিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ ১৮ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, হাফ ডজন মুখ্যমন্ত্রী, সিএপিএফ, সিআরপিএফ, আইটিবিপি, সিবিআই, এনআইএ, আর অন্য দিকে, একজন মহিলা।

কংগ্রেস এবারের নির্বাচনী প্রচার অনেকটাই নিষ্প্রভ। এককভাবে নির্বাচনে অসম লড়াই করছে কংগ্রেস। তবে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে কংগ্রেসের প্রচারে সক্রিয় রয়েছেন। উত্তরবঙ্গে একাধিক সভা থেকে মোদিকে মিথ্যার সর্দার অখ্যা দিয়েছেন তিনি।

খাড়গে এক জনসভায় বলেন, এখন একদিকে বিজেপি, আর এক দিকে তৃণমূল কংগ্রেস। স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ায় যেমন বাচ্চাদের ক্ষতি হয়, তেমনি দুই জনের ঝগড়ায় বাংলার ক্ষতি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারের এসেছিলেন রাহুল গান্ধী। বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের কড়া সমালোচনা করে রাহুল বলেছিলেন, বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস দু’টি দলই দুর্নীতিগ্রস্ত। এই দুর্নীতিগ্রস্ত পশ্চিমবঙ্গে সরকার চালাচ্ছে এখানের সিন্ডিকেটরাজরা। এই তৃণমূলের হাতে এখন নিয়মিত কংগ্রেসকর্মীরা মার খাচ্ছেন, লাঞ্ছিত হচ্ছেন। কংগ্রেসের এই নেতা আরও বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় মোদি সরকার যেমন গোটা দেশে শিল্পকারখানা বন্ধ করে দিচ্ছে, তেমনি এই রাজ্যেও শিল্পকারখানা বন্ধ করে দিচ্ছে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। আর এই পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস জায়গা করে দিচ্ছে বিজেপিকে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন