দেড় মাসের শিশুসহ যুবলীগ নেত্রীকে কারাগারে পাঠানোর পর দ্বিতীয় দফা শুনানিতে তার জামিন মিলেছে। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান পুলিশ রিপোর্ট পাওয়ার আগ পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বলেন, কারাগারে পাঠানো যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমকে ফের শুনানি করে জামিন দিয়েছেন আদালত। আশা করছি, বুধবার তারা কারামুক্ত হবেন।
এর আগে মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার এসআই শেখ নজরুল ইসলাম। দুপুর ২টার দিকে আসামিকে এজলাসে তোলা হয়। শিল্পীর স্বামী, বোন, ননদ, খালাসহ স্বজনরা আদালতে হাজির হন। তারা বলছিলেন, গেল মাসের ৪ তারিখে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে সিজারিয়ানের মাধ্যমে জন্ম নেয় শিশু; মাতৃদুগ্ধ পান করে। বাথরুমে পড়ে বাম হাত ভেঙে গেছে শিল্পীর। বাচ্চাকে ঠিকমতো কোলেও নিতে পারেন না, একা সামলাতে পারেন না।
শিল্পীর পক্ষে তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। জামিন নাকচের আদেশ শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিল্পী। শিল্পী অসুস্থ থাকায় আদালতপাড়ায় স্বজনরাই বাচ্চাকে কোলে করে রাখেন। কান্নাকাটি করলে বাচ্চাকে দুধ পান করান তিনি। শিল্পী বলেন, সিজারের কাটা জায়গায় এখনো ব্যথা করে। বাচ্চাকে ঠিকমতো খাওয়াতে পারি না। ও তো মরে যাবে। আমার বাচ্চা মরে যাবে। আমার হাতে সমস্যা, বাচ্চা পালতে পারি না। ওকে আমি আমার সঙ্গে নেবো না। বিকাল ৩টা ১২ মিনিটের দিকে শিল্পীকে আদালত থেকে বের করে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় নেয়া হয়। আদালতের চতুর্থতলা থেকে কাঁদতে কাঁদতে বাচ্চাকে কোলে করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে থাকেন। আর বলেন, রাজনীতির কারণে আমার এ অবস্থা। রাজনৈতিক কারণে বাচ্চাসহ কারাগারে যেতে হচ্ছে। জেলখানায় নিয়ে গেলে আমার বাচ্চাটা মরে যাবে। ওরে আমি আমার সঙ্গে নেবো না। এ ঘটনার খবর ও ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জামিন শুনানির ব্যবস্থা করেন আদালত। রাতে জামিন আবেদন পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন শিল্পীর আইনজীবী। শুনানি নিয়ে আদালত তার জামিনের আদেশ দেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর তেজগাঁও থানার বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ তার জামিন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন।
এর আগে সোমবার (২০শে এপ্রিল) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর নিজ বাসা থেকে শিল্পী বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০২৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় দায়ের করা একটি মামলার সূত্র ধরে তাকে আটক করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল-এর ওপর হামলা এবং পরবর্তীতে তার বাসায় ভাঙচুর ও পাঁচ লাখ টাকা লুটপাটের ঘটনায় শিল্পী বেগম জড়িত ছিলেন। ওই ঘটনায় গত বছরের ১লা জানুয়ারি ভুক্তভোগীর মা শাহনূর খানম সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১০৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১২০-১৩০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে আসামির বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনে সক্রিয় ভূমিকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন বলে তিনি আদালতকে অবহিত করেন।
