ডয়চে ভেলেকে দেয়া সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাক্ষাৎকার নিয়ে দৈনিক নয়াদিগন্তের শিরোনা- নির্বাচন ও সরকার কোনোটি মানে না আ’লীগ, হাসিনা ফিরবেন না। খবরে বলা হয়, ডয়চে ভেলের সাথে এক সাক্ষাৎকারে পালিয়ে যাওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচন সম্পূর্ণ সাজানো, এটি অবশ্যই আমরা মানছি না। কিভাবে মানব? একটা নির্বাচন- যেখানে অর্ধেক দলকে বাদ দেয়া হয় গায়ের জোরে, সেটা কিভাবে নির্বাচন হয়?
তাহলে কি, সেই সরকারকেও আপনারা মানবেন না- এমন প্রশ্নের জবাবে সজীব জয় বলেন- না, যেই নতুন সরকার গঠন হবে সেটা তো কোনো বৈধ সরকার হবে না।
এই সাক্ষাৎকারে দেয়া সজীবের বক্তব্য অনুসারে নির্বাচন ও সম্ভাব্য সরকারকে তারা বৈধ মনে করেন না। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে সরাসরি রাজনীতিতে নামার সিদ্ধান্ত তিনি নেননি। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ, তবে দমন-পীড়নের মুখে নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ ছাড়া নেতৃত্বের ফেরা কঠিন। ক্ষমার প্রশ্নে ‘সমান বিচার’ ও দায়বদ্ধতার দাবিও তার। অতীত সঙ্কটের চেয়ে বর্তমান দমন-পীড়নকে বড় বাস্তবতা হিসেবে দেখছেন তিনি। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা আর রাজনীতিতে ফিরবেন না।
ডয়চে ভেলের সাংবাদিক সমন্তক ঘোষ এই ভিডিও সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন।
সমন্তক ঘোষ : একদম সরাসরি প্রশ্নে ঢুকে যাই। আমার যেটা প্রথম প্রশ্ন, সেটা হচ্ছে যে নির্বাচন শেষ হয়ে গেছে এবং নির্বাচন কমিশন বলেছে যে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের ট্রেনের উঠে পড়েছে এবং অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হয়েছে, উৎসবের মেজাজে নির্বাচন হয়েছে। কী বলবেন আপনি?
সজীব ওয়াজেদ জয় : হ্যাঁ, এটা তো একটা সম্পূর্ণ সাজানো নির্বাচন হলো। এটি সুষ্ঠু আর উৎসবের নির্বাচন কিভাবে হয়? রাত থেকেই ভোটকেন্দ্র দখল, রাত থেকেই গোপন ভোট শুরু। দুই প্রার্থীর মধ্যে সহিংসতা, হামলা, ভোটকেন্দ্রের ওপর হামলা- এই তথ্য তো সারারাত ধরে বেরোচ্ছে, সারা দিন ধরে বেরোচ্ছে। আর মানুষ কতটা অংশগ্রহণ করতে গেছে? সকালবেলা সামান্য একটু উপস্থিতি ছিল। ভোটকেন্দ্রে দেখা যায় মাঝে মধ্যে কিছু লোক আছে, তা ছাড়া লোকজন নাই। তারপর অনেকেই যারা ভোট দিতে যাচ্ছে, গিয়ে দেখছে যে তাদের ভোট অলরেডি দেয়া হয়ে গেছে। সো, এটা তো কোনো নির্বাচনই হয়নি।
সমন্তক ঘোষ : আপনারা নির্বাচন নিয়ে যে অভিযোগ তুলছেন, সেটার প্রেক্ষাপটে একটা বিষয় জানতে চাই। আপনার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিবৃতিতে বলা হয়েছে- যারা ভোট দেননি, তাদের স্বাগত। আমার সহকর্মীরা মাঠ থেকে জানাচ্ছেন মানুষ ভোটকেন্দ্রে এসেছে, ভোট দিয়েছে। কিন্তু অতীতেও তো বাংলাদেশে কম ভোট পড়ার নজির আছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনকে ‘রাতের নির্বাচন’ বলা হয়েছিল, ২০২৪ সালেও অভিযোগ উঠেছিল, আবার কখনো ৪০-৫০ শতাংশ ভোট পড়েও সরকার গঠিত হয়েছে। তাহলে এই নির্বাচনের বিরুদ্ধে আপনারা যে অভিযোগ করছেন, সেটাকে কতটা বৈধ মনে করেন?
সজীব ওয়াজেদ জয় : আপনি যে উদাহরণ দিচ্ছেন-বিশেষ করে ২০১৪ সালের নির্বাচন- সেটা ছিল বিএনপির স্বেচ্ছা বয়কট। তখন কেউ তাদের জোর করে নির্বাচনের বাইরে রাখেনি। তারা নিজেরাই অংশ নেয়নি। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। এখানে কোনো দল স্বেচ্ছায় বয়কট করেনি। বরং জোর করে, প্রশাসনিকভাবে এবং রাজনৈতিকভাবে অনেক দলকে নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছে। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, অন্যান্য প্রগতিশীল দলগুলোকেও কার্যত নিষ্ক্রীয় করে দেয়া হয়েছে। অনেক নেতাকর্মী কারাগারে, অফিস পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, প্রচারণা চালাতে দেয়া হয়নি। তাহলে এই নির্বাচনকে কিভাবে গণতান্ত্রিক বলা যায়?
সমন্তক ঘোষ : তবু অতীতে আমরা দেখেছি- ৪০ বা ৫০ শতাংশ ভোট পড়লেও নির্বাচন বৈধ হিসেবে গণ্য হয়েছে এবং সরকার গঠিত হয়েছে। আপনারা বলছেন ভোট যথেষ্ট হয়নি, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। যদি আপনারা এই ফলাফল না মানেন, তাহলে আপনাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
সজীব ওয়াজেদ জয় : আবারো বলছি- আগের নির্বাচনগুলোয় বিএনপি নিজেই অংশ নেয়নি। এখানে কিন্তু দলগুলোকে বাধা দেয়া হয়েছে। এই নির্বাচন শুরু থেকেই সাজানো। প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর প্রচারণা বন্ধ, নেতাকর্মী গ্রেফতার, প্রশাসনিক চাপ- এসবের মধ্যে কোনো প্রতিযোগিতা থাকে না। ভোটার উপস্থিতিও ৫০ শতাংশের নিচে। এর সাথে নানা অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ আছে। বাস্তবে দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ ভোট দেয়নি। এটা জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন হতে পারে না।
সমন্তক ঘোষ : তাহলে কি আপনারা এই নির্বাচন মেনে নিচ্ছেন না?
সজীব ওয়াজেদ জয় : না, অবশ্যই না। অর্ধেক রাজনৈতিক শক্তিকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটাকে গণতান্ত্রিক নির্বাচন বলা যায় না।
সমন্তক ঘোষ : তাহলে যে নতুন সরকার গঠিত হবে, সেই সরকারকেও কি আপনারা বৈধ মনে করবেন না?
সজীব ওয়াজেদ জয় : না। এমন নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার বৈধ হতে পারে না। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো সরকার গণতান্ত্রিক বৈধতা পায় না।
সমন্তক ঘোষ : আপনারা যদি এই নির্বাচন না মানেন, তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?
সজীব ওয়াজেদ জয় : আমাদের পদক্ষেপ দেশের মানুষই দেখবে। যে-ই ক্ষমতায় আসুক, মানুষ বাস্তবতা বুঝবে। গত দেড় বছরে আমরা দেখেছি- আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে, অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে। পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।
সমন্তক ঘোষ : বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন- শেখ হাসিনার পরিবার থেকে কেউ রাজনীতিতে এলে স্বাগত জানাবেন। আপনি কি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে নামার কথা ভাবছেন? এ বিষয়ে আপনার মায়ের সাথে কোনো আলোচনা হয়েছে?
সজীব ওয়াজেদ জয় : এ বিষয়ে আমার কোনো সিদ্ধান্ত নেই। আমি কখনোই সরাসরি রাজনীতি করতে চাইনি। ভবিষ্যতে কী হবে বলা কঠিন। কে রাজনীতিতে আসবে, সেটা দলীয় কর্মী ও সমর্থকরাই ঠিক করবে। আমি দীর্ঘদিন বিদেশে আছি- প্রায় ৩০ বছর ধরে আমেরিকায়। ব্যক্তিগতভাবে শান্ত জীবনেই আছি। তবে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।
সমন্তক ঘোষ : জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে আপনি নিয়মিত রাজনৈতিক মন্তব্য করছেন- দলের ভবিষ্যৎ, আপনার মায়ের ভূমিকা ইত্যাদি নিয়ে। এতে দলের ভেতরে বিভাজন তৈরি হয়েছে- এমন কথাও শোনা যায়। আওয়ামী লীগের মধ্যে কি ভাঙন দেখা দিচ্ছে?
সজীব ওয়াজেদ জয় : না, ভাঙনের প্রশ্নই ওঠে না। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ। বরং দল এখন নির্যাতনের শিকার। হাজার হাজার নেতাকর্মী গ্রেফতার- গত কয়েক সপ্তাহেই প্রায় ২০ হাজারের বেশি। অনেকে জেলে, অনেকে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। আমার নিজের পারিবারিক বাড়িও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভাঙনের কথা বলার সুযোগ নেই।
সমন্তক ঘোষ : নতুন সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগ কি দেশে ফিরে রাজনীতি করতে পারবে? ফিরলে কি নতুন নেতৃত্ব বা নতুন প্রজন্ম সামনে আসবে?
সজীব ওয়াজেদ জয় : আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার দল, দেশের সবচেয়ে পুরনো দল। আওয়ামী লীগ মুছে যাবে না। ফেরার প্রশ্ন নয়- দল দেশে আছেই। এই নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি মানুষ ভোট দেয়নি, তাদের বড় অংশই আমাদের সমর্থক। নেতৃত্বে কে আসবে, সেটা ভবিষ্যৎ বলবে। তবে দলের ঐতিহাসিক রেকর্ড কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।
সমন্তক ঘোষ : তৃণমূল কর্মীরা মাঠে আছেন, হামলা-মামলার মধ্যেও দলের পাশে আছেন। কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকেই দেশে নেই। এতে কি সংগঠন দুর্বল হচ্ছে না? নেতাদের কি কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো উচিত নয়?
সজীব ওয়াজেদ জয় : সমস্যা হলো নেতারা দেশে ফিরলেই গ্রেফতার বা হামলার শিকার হবেন। গত দেড় বছরে আমাদের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। প্রায় ৩৫ জন কারাগারেই মারা গেছেন। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ নেই। তাহলে তারা ফিরবে কিভাবে?
সমন্তক ঘোষ : বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলো বলছে তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র চায়। অনেকেই বলছেন- আওয়ামী লীগ যদি অতীত ঘটনার জন্য ক্ষমা চায়, তাহলে রাজনীতিতে ফেরার পথ সহজ হবে। আপনারা কি ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত?
সজীব ওয়াজেদ জয় : প্রশ্ন হলো- ক্ষমা চাইলেই কি সুযোগ দেয়া হবে? নির্বাচন তো হয়ে গেছে। আমার মা নিহতদের পরিবারের সাথে দেখা করেছেন, বিচার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমরা একটি বিচার বিভাগীয় কমিটিও গঠন করেছিলাম, সেটি বাতিল করে দেয়া হয়েছে।
অন্য দিকে আমাদের শত শত কর্মী নিহত হয়েছে। যারা এসব করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং ইনডেমনিটি দেয়া হয়েছে। এক দিকে হত্যাকাণ্ডের দায়মুক্তি, অন্য দিকে শুধু আমাদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি- এটি দ্বৈত মানদণ্ড। বিচার হলে সবার জন্য সমান বিচার হতে হবে।
সমন্তক ঘোষ : জুলাই-আগস্টে যেসব ঘটনা ঘটেছিল, তখন আপনার মা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আপনার কি মনে হয় না- সেই পরিস্থিতি আরো মানবিকভাবে বা ভিন্নভাবে হ্যান্ডেল করা যেত?
সজীব ওয়াজেদ জয় : আমাদের ওপর যেভাবে নির্যাতন হয়েছে, সেখানে কারো কথা বলারই সুযোগ ছিল না। এখন দেড় বছর হয়ে গেছে। পরিস্থিতি এতটাই বদলে গেছে যে পেছনের বিষয় নিয়ে আর আলোচনা করার বাস্তব ক্ষেত্র নেই। আওয়ামী লীগের ওপর যে মাত্রার দমন-পীড়ন হয়েছে; গ্রেফতার, হামলা, হত্যা- এসব যদি স্বাভাবিক হিসেবে ধরা হয়, তাহলে আমাদের আর বলার কী থাকে? সেই অবস্থায় শুধু আমাদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলা যৌক্তিক নয়।
সমন্তক ঘোষ : বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা- অন্তর্বর্তী সরকার, তার পর নির্বাচন, এখন নতুন সরকার- এই প্রেক্ষাপটে আপনি আগে বলেছিলেন আপনার মা শেখ হাসিনা আর সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরবেন না। আপনি কি এখনো সেই অবস্থানে আছেন?
সজীব ওয়াজেদ জয় : তিনি অনেক আগেই অবসর নিতে চেয়েছিলেন। এত বছর রাজনীতি করার ইচ্ছা তার ছিল না। তিনি কী করবেন, সেটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমার মনে হয় তিনি হয়তো আর সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরবেন না। তবে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন। ২০১৮ সালের আগেও তিনি অবসর নেয়ার কথা বলেছেন।
সমন্তক ঘোষ : এটি কি পারিবারিক চাপ? আপনারা কি চান না তিনি রাজনীতিতে থাকুন?
সজীব ওয়াজেদ জয় : না, কোনো চাপ নেই। তিনি সম্পূর্ণ স্বাধীন ব্যক্তি। নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নেবেন।
সমন্তক ঘোষ : বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন একটা নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে বলা হচ্ছে। দীর্ঘদিন শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার রাজনীতিকে ঘিরে দেশ চলেছে। এখন নতুন প্রজন্ম সামনে আসছে। আপনি বা আপনার বোন- আপনারা কি ভবিষ্যতে রাজনীতিতে আসার কথা ভাবছেন?
সজীব ওয়াজেদ জয় : এমন কোনো পরিকল্পনা নেই। ব্যক্তিগতভাবে রাজনীতিতে সরাসরি আসার ইচ্ছা আমার নেই। তবে একটি বিষয় মানুষ বুঝেছে- আওয়ামী লীগের ১৬-১৭ বছরে যে অর্থনৈতিক অগ্রগতি, অবকাঠামো উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান ছিল- বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন স্থিতিশীল সময় খুব কম এসেছে। গত দেড় বছরে মানুষ তার পার্থক্যও টের পেয়েছে। ভবিষ্যতে যে সরকারই আসুক, আওয়ামী লীগের রেকর্ড সহজে কেউ ছাড়িয়ে যেতে পারবে না।
সমন্তক ঘোষ : আমাদের সাথে কথা বলার জন্য ধন্যবাদ।
সজীব ওয়াজেদ জয় : আপনাদেরও ধন্যবাদ।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘কোন পদ্ধতিতে হবে সংসদের উচ্চকক্ষ?’। প্রতিবেদনে বলা হয়, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় সবচেয়ে আলোচনায় এখন জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ। তবে উচ্চকক্ষ গঠনে নির্বাচিত সবগুলো দল একমত হলেও কোন পদ্ধতিতে আসন বণ্টন হবে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা আছে। গণভোটের রায় অনুসারে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে সংসদের উচ্চকক্ষের প্রতিনিধির সংখ্যা নির্ধারিত হবে। কিন্তু সরকার গঠন করতে যাওয়া দল-বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখ ছিল সংসদে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে গঠিত হবে উচ্চকক্ষ। এ ব্যাপারে বিএনপি প্রকাশ্যে এখনো কিছু বলছে না। কিন্তু সূত্র বলছে, তারা ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এক্ষেত্রে গণভোটের রায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। কারণ জনগণ সুনির্দিষ্টভাবে এই রায় দিয়েছে। প্রাপ্ত ভোট বিবেচনায় আসন বণ্টন হলে এককভাবে বিএনপি পাবে ৪৮টি এবং জামায়াত পাবে ৩৩টি। আবার নিম্নকক্ষের আসনের ভিত্তিতে বিএনপি ৬৯ এবং জামায়াত পাবে ২২টি। বিষয়টি চূড়ান্ত হতে কমপক্ষে ৮ মাস সময় লাগবে। তবে এর চূড়ান্ত রূপরেখা ঠিক করবে জাতীয় সংসদ। অর্থাৎ ত্রয়োদশ সংসদ কার্যকর হওয়ার পর প্রথম ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসাবে সংসদ-সদস্যরা এ সংক্রান্ত বিধিবিধান প্রণয়ন করবেন।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সদস্যের সংখ্যা ৩০০। জুলাই সনদ অনুসারে রাষ্ট্রের আইনসভায় ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে দুইকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়। এর নাম দেওয়া হয় সংসদের নিম্ন ও উচ্চকক্ষ। নির্বাচিত সদস্যদের নিম্নকক্ষ ধরে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব করা হয়। রাজনৈতিক দলগুলো এ সংক্রান্ত জুলাই সনদে স্বাক্ষর করলে তা গণভোটে দেয় সরকার। আর গণভোটের প্রশ্নপত্রে উল্লেখ ছিল-রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে সংসদের উচ্চকক্ষের প্রতিনিধির সংখ্যা নির্ধারিত হবে। কিন্তু বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ছিল সংসদে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে হবে উচ্চকক্ষ।
এক্ষেত্রে বিএনপি গণভোটের রায় মানতে বাধ্য কিনা-এ প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (জুলাই সনদসংক্রান্ত) মনির হায়দার বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে অনেক বিষয় থাকে। ফলে সেখানে একক কোনো বিষয় পরোক্ষ হিসাবে বিবেচিত হয়। কিন্তু গণভোটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে সংসদের উচ্চকক্ষ হবে। ফলে এর আইনগত ভিত্তি আছে। তিনি বলেন, দলগুলো যেমন নিজেদের ইশতেহার দিয়েছে, তেমনি দলের শীর্ষ নেতারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেও সমর্থন দিতে জনগণকে আহ্বান জানিয়েছেন। সুতরাং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়া কেবল সরকারের বিষয় নয়, এটি রাষ্ট্র এবং সব রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা।
এ ব্যাপারে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, গণভোটে যে প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে, তার ভিত্তিতেই জনরায় এসেছে। তিনি বলেন, বিএনপি সব সময় জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। তাই আশা করা যায়, দেশ পরিচালনা ও সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে দলটি জনগণের এই প্রত্যাশা বিবেচনায় নেবে। শনিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব বলেন।
কোন দল কত আসন পাবে : নির্বাচন কমিশন থেকে এখনো রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা অফিশিয়ালভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্তভোটের তথ্য মিলেছে। ওই তথ্যমতে, গণভোটের রায় অনুসারে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন হলে ১০০টির মধ্যে বিএনপি ৪৮টি আসন পাবে। জামায়াতে ইসলামী পাবে এককভাবে ৩৩ আসন। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ১১ দলীয় জোটের শরিকরা ৯টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর নিম্নকক্ষে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন হলে চিত্র পালটে যাবে। কারণ এবারের নির্বাচনে তিনশ আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসন পেয়েছে। সে হিসাবে দলটি উচ্চকক্ষে ৬৯টি আসন পাবে। জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। ফলে দলটি ২২টি আসন পাবে। এককভাবে ৬টি আসন পাওয়ায় জাতীয় নাগরিক পাটি উচ্চকক্ষে পাবে মাত্র ২টি আসন। অন্যান্য দল মিলে আরও ৭টি আসন পাবে।
উচ্চকক্ষের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা : জুলাই সনদে উচ্চকক্ষের সদস্য হওয়ার জন্য আলাদাভাবে কোনো যোগ্যতার কথা বলা হয়নি। জুলাই সনদের ২০ ধারায় বলা হয়েছে, সংবিধানে নিম্নকক্ষের সদস্যদের যে যোগ্যতা-অযোগ্যতার কথা বলা হয়েছে, উচ্চকক্ষেও সেটি কার্যকর হবে। কেউ বাংলাদেশের নাগরিক, ন্যূনতম ২৫ বছর বয়স, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণখেলাপি না হওয়া এবং ফৌজদারি অপরাধে ২ বছরের বেশি দণ্ডপ্রাপ্ত না হলে তিনি উচ্চকক্ষের সদস্য হতে পারেন। সহজে বললে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলো যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই উচ্চকক্ষের সদস্য হতে পারবেন। এক্ষেত্রে এবারের নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীরাও উচ্চকক্ষের সদস্য হওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে বিষয়টি যেহেতু নতুন, আগামীতে এ ব্যাপারে আইন ও বিধি প্রণয়ন করবে সরকার।
উচ্চকক্ষের কাজ ও ক্ষমতা : গণভোটের রায় অনুসারে সংবিধান সংশোধন করতে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠের অনুমতি লাগবে। আবার রাষ্ট্রপতির অভিসংশনে উচ্চকক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদন জরুরি। তারা সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবে। কিন্তু সরকারের ওপর অনাস্থা আনতে পারবে না। তবে এর বাইরে কোনো বিলে ভোট দিতে পারবে না।
উচ্চকক্ষ কখন গঠন হবে : জুলাই আদেশ অনুসারে নতুন এমপিরা শপথ গ্রহণের পর থেকে প্রথম ১৮০ কার্যদিবস সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসাবে কাজ করবে। এ সময়ে তারা জুলাই সনদে বর্ণিত সংস্কার প্রস্তাব সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করবে। এর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। আবার যেদিন নিম্নকক্ষের মেয়াদ শেষ হবে, একই দিনে উচ্চকক্ষের মেয়াদও শেষ হবে। এ হিসাবে ১৬ ফেব্রুয়ারি সংসদ-সদস্যরা শপথ নেবেন। ফলে আগামী ৮ মাসের আগে উচ্চকক্ষ গঠনের কোনো সম্ভাবনা নেই।
প্রথম আলো
‘কেমন হচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা, আলোচনায় কারা’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে আবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলীয় প্রধান তারেক রহমানই প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। এখন দলীয় অন্দরমহল ও রাজনৈতিক মহলে মূল আলোচনা নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে। সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় কাদের নাম থাকছে, তা নিয়ে চলছে জল্পনাকল্পনা।
বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা এখন ব্যস্ত তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতিতে।
বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এবারের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণ ও মেধাবীদের প্রাধান্য থাকবে। বয়োজ্যেষ্ঠ অনেক নেতাকে মন্ত্রিসভায় না-ও দেখা যেতে পারে। পুরো দেশ ও বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, অভিজ্ঞ ও দক্ষ তারুণ্যের মিশ্রণে এবারের মন্ত্রিসভা গঠিত হবে। জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ নেতাদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম আলোচনায় রয়েছে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করার পরামর্শ রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় বিপুল জমায়েতে দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দিয়েছেন নজরুল ইসলাম খান। এবার বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন তিনি। তাই নজরুল ইসলাম খান নতুন সরকারে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকছেন, এ আলোচনা দলের ভেতরে-বাইরে আছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর নামও আলোচনায় আছে। জাহিদ হোসেন বিএনপিপন্থী চিকিৎসক সংগঠনের নেতা এবং বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের একজন ছিলেন। আবদুল আউয়াল মিন্টু কৃষি ও খাদ্যপ্রযুক্তি খাতের বড় উদ্যোক্তা হিসেবে দেশ-বিদেশে পরিচিত। তাঁরা মন্ত্রিসভার নতুন মুখ হতে পারেন।
বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব পদের দুজন নেতাকে মন্ত্রিসভায় রাখার চিন্তা করা হচ্ছে। তাঁরা নির্বাচন করেননি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জন্য একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিবের কথা ভাবা হচ্ছে, যিনি দলের বিভিন্ন নীতি-গবেষণার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত আছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বিগত সময়ে দায়িত্বে ছিলেন, এমন কারও কারও নামও আলোচনায় আছে।
নারীদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং মানিকগঞ্জ, সিলেট ও ফরিদপুর অঞ্চলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে একাধিক জনকে মন্ত্রিসভায় রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে।
সংখ্যালঘু বা অন্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্য থেকেও মন্ত্রিসভায় একাধিক জনকে রাখা হবে। এই ক্ষেত্রে একজন প্রবীণ নেতা এবং পার্বত্য এলাকার একজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।
এবারের মন্ত্রিসভায় ১০ থেকে ১৫ তরুণ মুখ ঠাঁই পেতে পারেন। তাঁদের মধ্যে পঞ্চগড়, সিলেট, নোয়াখালী, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ঝিনাইদহ, নেত্রকোনা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ২০০১ সালের মন্ত্রিপরিষদে ছিলেন, অপেক্ষাকৃত বিতর্ক কম ছিল—এমন ব্যক্তিরাও কেউ কেউ নতুন মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন।
বিগত যুগপৎ আন্দোলনের সময় মিত্র দলগুলোকে নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতি ছিল বিএনপির। মিত্র বা শরিক দলগুলো থেকে নিজ নিজ দলের প্রতীকে জয়ী হয়েছেন তিনজন নেতা। এর মধ্যে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিভ রহমান পার্থকে মন্ত্রিসভায় রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে। এই নির্বাচনে মিত্র দলের ছয়জন নেতা নিজ দল ছেড়ে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। তাঁদের মধ্যে একমাত্র শাহাদাত হোসেন সেলিম জয়ী হয়েছেন। তাঁর নামও আলোচনায় আছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের মন্ত্রিসভা খুব বড়সড় না করার চিন্তা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কলেবর একটু বড় হতে পারে। একাধিক উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী বা অন্য কোনো নামে অনেককে যুক্ত করা হতে পারে। যার মধ্যে বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরাও থাকতে পারেন। এই ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকে কাজ করা, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে কাজ করা একাধিক ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার বিদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারেও আছেন, এমন একজনের নামও আলোচনায় আছে।
নতুন সংসদ, নতুন সরকার—এখন পুরো দেশ তাকিয়ে আছে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের দিকে। এখন সবার নজর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভার দিকে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, নতুন মন্ত্রিসভা কেমন হতে যাচ্ছে, তা দেখতে দেশবাসীকে আর অল্প সময় অপেক্ষা করতে হবে।
কালের কণ্ঠ
‘এবার দেশ গড়ার পালা’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর সরকার গঠনের অপেক্ষায় থাকা রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এবার দেশ গড়ার পালা। দেশ গঠনে যেকোনো মূল্যে আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে হবে এবং কোনো ধরনের সহিংসতা, প্রতিশোধ বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি গতকাল শনিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন।
সূচনা বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে দলের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন। নিজের বক্তব্যের শেষে তারেক রহমান উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
তারেক রহমান দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন দুর্বলতা।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশে সবাই সবার যোগ্যতা এবং মেধার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে। কোনো বিশেষ মহলকে সুযোগ দেওয়া হবে না। নির্বাচন-পরবর্তী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার প্রত্যয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।’
দলের নেতাকর্মীদের শান্ত ও সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে কোথাও কোথাও ভুল-বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা তৈরি হয়ে থাকতে পারে, তবে তা যেন কোনোভাবেই প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়।
আমার বক্তব্য স্পষ্ট, যেকোনো মূল্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনো রকমের অন্যায় কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ কিংবা ভিন্নমত যা-ই হোক কোনো অজুহাতেই দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ মেনে নেওয়া হবে না। ন্যায়পরায়ণতাই হবে আদর্শ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে সকল প্রচেষ্টা বৃথা যেতে বাধ্য।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল, অন্য মত কিংবা ভিন্নমত প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের জন্যই আইন সমান। আইনের প্রয়োগ হবে বিধিবদ্ধ নিয়মে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হলে গণতন্ত্র টেকসই হবে না।’
সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, ‘৩১ দফার আলোকে দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে বিএনপি জুলাই সনদেও স্বাক্ষর করেছে। আমরা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রত্যাশিত প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমিকভাবে বাস্তবায়ন করব ইনশাআল্লাহ।’
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘ঐক্যে শক্তি, বিভাজনে দুর্বলতা’। খবরে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বললেন, 'জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন দুর্বলতা।' একই সঙ্গে সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা ও সহযোগিতা চেয়েছেন। তাঁর ভাষায়, এখন দেশ গড়ার পালা। সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে
সংসদ নির্বাচনে ফল প্রকাশের পর গতকাল শনিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের বলরুমে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। এ সময় তাঁর পাশে ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রথমে নতুন সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এর পর তিনি দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই কথা বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে গতকাল সাদা শার্ট পরে এসেছিলেন তারেক রহমান। হাস্যোজ্জ্বল মুখে তিনি বলরুমে প্রবেশ করেন। এ সময় নেতারা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে সাংবাদিকদের দিকে হাত তুলে সালাম জানান বিএনপির চেয়ারম্যান। এর পর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চে বসেন।
সংযত, সতর্ক থাকার আহবান
দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হওয়ার পরেও তা উদযাপনে নেতাকর্মীদের সংযমী ও সতর্ক থাকার আহবান জানান বিএনপির চেয়ারম্যান। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, যে কোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে হবে। কোনো ধরনের সহিংসতা, প্রতিশোধ বা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
নির্বাচনে বিজয়কে পুরো বাংলাদেশের, গণতন্ত্রের ও গণতন্ত্রকামী জনগণের বলে অভিহিত করেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, আজ থেকে আমরা সবাই স্বাধীন। এ সময় দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানাচ্ছি। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে কোথাও কোথাও ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা তৈরি হয়ে থাকতে পারে, তবে তা যেন কোনোভাবেই প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ কিংবা ভিন্নমত যা-ই হোক; কোনো অজুহাতেই দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ মেনে নেওয়া হবে না।
তারেক রহমান বলেন, ন্যায়পরায়ণতাই হবে আমাদের আদর্শ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে সব প্রচেষ্টা বৃথা যেতে বাধ্য। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি কিংবা বিরোধী দল, অন্য মত কিংবা ভিন্নমত- প্রত্যেক নাগরিকের ক্ষেত্রেই আইনের প্রয়োগ করা হবে বিধিবদ্ধ নিয়মে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হলে গণতন্ত্র টেকসই হবে না। সরকারি দল বা বিরোধী দল- সবার জন্য আইন সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতিতে কেউ যেন সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
ইত্তেফাক
‘৩৭ দিনের মাথায় মাধ্যমিকের শতভাগ পাঠ্যবই বিতরণ’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর ৩৭ দিনের মাথায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষার্থীর হাতে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়ার দাবি করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য মুদ্রিত ও বাঁধাই করা সব পাঠ্যপুস্তক ৭ ফেব্রুয়ারি শতভাগ সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে। এনসিটিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম আসাদুজ্জামানের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জানা গেছে, সব বই পাঠানো হয়েছে, কিন্তু তার পরও কিছু শিক্ষার্থী বই পায়নি। এমন অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে এবার ভয়াবহ তথ্য বের হয়ে এসেছে। ৩০ লাখ বই না ছাপিয়েই কাজ শেষের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে ছয়টি ছাপাখানা। এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক, ইন্সপেকশন এজেন্ট ও মনিটরিং কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো এই অনিয়ম করেছে। আর তাদের অনিয়মের কারণে ঠিক সময়ে বই না পেয়ে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
এদিকে জালিয়াতি ধরা পড়ার পর গোপনে বই ছাপানোর কাজ চালিয়ে যায় অভিযুক্ত মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো। এখনো কয়েকটি ছাপাখানা বই ছাপাচ্ছে বলে জানা গেছে। আবার তাদের কেউ কেউ বিভিন্ন
উপজেলায় সরবরাহ করা অতিরিক্ত বই অল্প দামে সংগ্রহ করে পুনরায় বিতরণ করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এনসিটিবির সূত্র জানিয়েছে, ছয়টির বেশি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান বই ছাপানোর কাজ শেষ না করে ভুয়া সরবরাহ (ডেলিভারি) সনদ দাখিল করেছে। চলতি শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বই ছাপানোর কাজ পেয়েছে প্রায় ১০০ মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বর্ণমালা প্রিন্টিং, মিরাজ প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন, রাব্বিল প্রেস, মহানগর অফসেট প্রেস, আমাজন প্রিন্টিং প্রেসের ও অ্যারিস্টোক্রেট প্রেস—এই ছয়টি মুদ্রণপ্রতিষ্ঠান এখনো শিক্ষার্থীদের বই ছাপানোর কাজ করছে। এসব প্রেস মালিকরা এনসিটিবির কর্মকর্তা ও ইন্সপেকশন এজেন্টকে ম্যানেজ করে কাগজে-কলমে শতভাগ বিতরণ সনদ দাখিল করেন। অথচ তারা ৩০ লাখ পাঠ্যবই ছাপায়নি। এর ফলে প্রকৃত বই বিতরণের চিত্র আড়াল থেকে যায়। এদের মধ্যে কোনো কোনো মুদ্রণপ্রতিষ্ঠান বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষা অফিস ও বিদ্যালয় থেকে ‘অতিরিক্ত’ বই অল্প দামে সংগ্রহ করে সেগুলো আবার নিজেদের ঘাটতি পূরণে ব্যবহার করছে।
অর্থাৎ একদিকে বই ছাপানো শেষ না করেই সরবরাহ দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে অন্য জায়গা থেকে সংগ্রহ করা বই দিয়ে কাগজে-কলমে হিসাব মেলানোর চেষ্টা করেছে। মাঠপর্যায়ে বিতরণ যাচাই না করেই সরবরাহ সনদ দিয়েছে এনসিটিবির ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠান। আর তা গ্রহণ করেছে এনসিটিবির বিতরণ শাখা। এতে মুদ্রণপ্রতিষ্ঠানগুলো সহজেই অনিয়ম করার সুযোগ পেয়েছে। অভিযুক্ত প্রেসগুলোর বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে বিনা মূল্যের বই ছাপানোয় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল।
বণিক বার্তা
‘ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, চব্বিশের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর একে একে পদত্যাগ করেছিলেন ৪৮ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। কিছু সময়ের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো এক রকম অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দেয়। এছাড়া মেয়াদ শেষ হওয়ার মতো ঘটনা এবং কার্যক্রম শুরু হওয়া নতুন বিশ্ববিদ্যালয়েও উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়। সব মিলিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে উপাচার্য নিয়োগ করা হয়েছে ৫৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করবে। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান উপাচার্যদের অনেকেই তাদের মেয়াদের স্থায়িত্ব নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। বেশির ভাগ উপাচার্যই দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখতে আগ্রহী।
গত দেড় বছরে নিয়োগ পাওয়া উপাচার্যদের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে সাময়িকভাবে। আর বাকি ৫২ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের মেয়াদ চার বছর। তবে সব উপাচার্যের নিয়োগপত্রেই উল্লেখ রয়েছে যে রাষ্ট্রপতি ও আচার্য প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
সাময়িকভাবে নিয়োগ পাওয়া চার উপাচার্যের কেউ কেউ মনে করছেন, তাদের নিয়োগে নির্ধারিত সময় উল্লেখ না থাকায় গঠন হতে যাওয়া নির্বাচিত সরকার উপাচার্য হিসেবে নতুন কাউকে নিয়োগ দিতে পারে। তবে এ বিষয়ে কেউ নাম প্রকাশ করে মন্তব্য করেননি। কর্মকালের মেয়াদ উল্লেখ থাকলেও একই ধরনের মত প্রকাশ করেছেন দুটো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। কোনো কোনো উপাচার্য মনে করছেন, যদি নবনির্বাচিত সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যান্য সিদ্ধান্তের বৈধতা দেয়, তাহলে হয়তো তারা উপাচার্যদের পদ থেকে সরাবেন না। উপাচার্যদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, তারা পরিস্থিতি বিবেচনা করে দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে অধিকাংশই জানিয়েছেন, তারা দায়িত্ব অব্যাহত রাখতে চান।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জুলাই-পরবর্তী সময়ে উপাচার্যের দায়িত্বে আসা কোনো অভিলাষ থেকে ছিল না, বরং এসেছিলাম দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কাজ করার জায়গা থেকে। দেশের একটি গণতান্ত্রিক উত্তরণ হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষা খাত নিয়ে এখন আরো সুন্দরভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। দেশ ও জাতির জন্য কাজ করার এ জায়গাটি অব্যাহত রাখতে চাই।’
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান ১০ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সে সময় তিনি দাবি করেন, নতুন সরকার যেন নিজের মতো করে প্রশাসন সাজিয়ে নিতে পারে, এ কারণেই তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিশেষ ধরনের পরিস্থিতিতে এ দায়িত্ব পেয়েছিলাম, খুবই আপৎকালীন পরিস্থিতি ছিল। এখনো সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে বেশকিছু ক্ষেত্রে ভালো ফলাফলও দেখা যাচ্ছে। তবে আমি একটা সুযোগ দিচ্ছি আমাদের রাজনৈতিক সরকারকে। তাদের সহযোগিতায় যা প্রয়োজন আমরা সেটা করব। তারা যেন তাদের মতো করে সাজিয়ে নিতে পারে। এ কারণে আমি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চাই। তবে ধারাবাহিকতা ও শূন্যতা কমাতে অংশীজনরা যদি আমাকে রাখতে চান, আমি বিবেচনা করব।’ এ সময় তিনি তার বিভাগে শিক্ষকতায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
আজকের পত্রিকা
‘সংবিধানে আসতে পারে যেসব পরিবর্তন’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। এই গণভোটের বিষয়বস্তু ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর স্বীকৃত সংবিধান সংস্কারের বিভিন্ন প্রস্তাব। ১২ ফেব্রুয়ারি যাঁরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, তাঁদের বেশির ভাগই ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে (৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ) রায় দিয়েছেন। এর সুবাদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যরা একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত সংবিধানসম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো অনুযায়ী সংস্কার আনবেন তাঁরা।
গণভোটে ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬ বৈধ ভোটের মধ্যে ৪ কোটি ৮২ হাজার ৬৬০ ছিল ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে। অন্যদিকে ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ জন ‘না’ ভোটের পক্ষে মত দিয়েছেন।
গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংবিধান সংস্কার আদেশ ২০২৫-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে, ‘জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের দ্বারাই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে।’
আলী রীয়াজ বলেন, ‘তাঁরা দুটি শপথ গ্রহণ করবেন—একটি জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। এই পরিষদের মেয়াদ ১৮০ দিন।
ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক আলী রীয়াজ আরও বলেন, ‘গণভোট এখন একটি জনরায়ে পরিণত হয়েছে। জনগণ চায় এগুলো বাস্তবায়ন হোক। আমরা আশা করি, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল এবং অন্যান্য সব দল জনরায়ের এই আকাঙ্ক্ষা বিবেচনা করবে।’
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এক বছরের বেশি সময় বহুবার আলোচনায় বসে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ তৈরি করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সনদে ৮৪টি সংস্কারের বিষয়ে দলগুলো একমত হয়। এর মধ্যে ৪৮টি ছিল সংবিধানসম্পর্কিত প্রস্তাব। সনদের কিছু প্রস্তাবে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি ছাড়াও জামায়াত, এনসিপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত ছিল। পরে সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারের কাছে দুটো সুপারিশ করে কমিশন। সেখানে দলগুলোর আপত্তি রাখা হয়নি। এর ভিত্তিতে গত বছরের ১৩ নভেম্বর জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করে সরকার। সেখানে গণভোট করা এবং তাতে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে নতুন জাতীয় সংসদকে ১৮০ কার্যদিবসের জন্য একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের দায়িত্ব পালনের কথা বলা হয়েছে।
আদেশের ‘ক’ অংশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান (পিএসসি, দুদক, ন্যায়পাল) জুলাই সনদের আলোকে গঠন করা হবে। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, পিএসসি, দুদক ও ন্যায়পাল গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপির আপত্তি ছিল; কিন্তু আদেশে তা রাখা হয়নি।
‘খ’ অংশে দুই কক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠা করার কথা বলা হয়। বলা হয়, সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে এই উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে। সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ ঐকমত্য হওয়া ৩০টি বিষয় বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকবে। বাকি বিষয়গুলো রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী করতে পারবে।
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘এবার দেশ গড়ার সংগ্রাম’। খবরে বলা হয়, জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রত্যাশিত প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনে বড় জয়ের পর গতকাল প্রথম সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেছেন, ‘এবার দেশ গড়ার পালা। দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রায় আপনি, আমি, আমাদের প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা। পথ-মত ভিন্ন থাকতে পারে, দেশের স্বার্থে সবাই এক। কোনো অপশক্তি যাতে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে, দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
একটি নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক দেশ প্রতিষ্ঠার যাত্রাপথে ভিন্ন দল কিংবা ভিন্নমতের সবার সহযোগিতাও প্রত্যাশা করেন দেশের আগামী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশের পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, রাজনীতি, উন্নয়ন কর্মকা-সহ নানা বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্রকামী জনগণের প্রতি আহ্বান, আসুন যেভাবে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ভূমিকা রেখেছিলাম, একইভাবে এবার দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহির মাধ্যমে দেশকে একটি নিরাপদ মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য যে যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখি।’
গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিএনপি আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমার বক্তব্য স্পষ্ট, যেকোনো মূল্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনো ধরনের অন্যায় কিংবা বেআইনি কর্মকা- বরদাশত করা হবে না। দল-মত-ধর্ম-বর্ণ কিংবা ভিন্নমত যাই হোক, কোনো অজুহাতেই দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ মেনে নেওয়া হবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে সব প্রচেষ্টা বৃথা যেতে বাধ্য। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল, অন্যমত কিংবা ভিন্নমত, প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের জন্যই আইন সমান। আইনের প্রয়োগ হবে বিধিবদ্ধ নিয়মে।’

BB
৪ মাস আগেএদের মানা না মানায় কারো কিছু যায় আসে?