জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরকারের সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। গতকাল এক বিবৃতিতে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি উদ্বেগ জানিয়েছে। বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সমপ্রতি ঘোষিত নতুন দরে ডিজেল লিটারে ১৫ টাকা, কেরোসিন ১৮ টাকা, অকটেন ২০ টাকা এবং পেট্রোল ১৯ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ধরনের খাতওয়ারি মূল্যবৃদ্ধি দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনে নতুন করে দুর্ভোগ ডেকে আনবে। আমি সরকারের এই গণববিরোধী সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ওপর। খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের আয় না বাড়লেও ব্যয় বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে, ফলে স্বাভাবিক জীবনযাপন ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়বে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে প্রতিফলিত হবে। এতে বাজারে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। একই সঙ্গে কৃষি খাতও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে। সেচ, পরিবহন ও কৃষি উপকরণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, এমনিতেই সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দেবে। অবিলম্বে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তা সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য আমি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।
তেলের দাম বৃদ্ধি জীবনযাত্রাকে আরও দুরূহ ও কঠিন করে তুলবে: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, তেলের দামবৃদ্ধির সঙ্গে নিত্যপণ্যের দাম, যোগাযোগ খরচসহ জীবনযাত্রার প্রতিটি কাজ জড়িত। তেলের দাম বৃদ্ধি হলে সকল কিছুর দাম বাড়ে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ওপরে, যাদের আয় সীমিত। এর মাধ্যমে জীবনযাত্রা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। বিবৃতিতে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবিলায় তেলের দাম বৃদ্ধি করে সমস্যার বোঝা জনগণের ওপরে চাপানো একটি সহজ ও বহুল প্রচলিত পন্থা। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবো, বৈশ্বিক সমস্যার সমাধানে নিম্ন ও মধ্যবিত্তকে বলির পাঁঠা বানাবেন না বরং বিকল্প উপায় খুঁজে বের করার প্রতি মনোযোগী হন।
চরমোনাই পীর বলেন, তেলের দাম লিটার প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। প্রথমত, লিটার প্রতি একসঙ্গে ১৫-২০ টাকা বৃদ্ধি সকল ক্ষেত্রে অনেক বড় চাপ তৈরি করবে। দ্বিতীয়ত, একদল অসাধু ব্যবসায়ী এর অপব্যবহার করে আনুপাতিক হারে অনেক বেশি মূল্যবৃদ্ধি করে জনজীবনকে আরও কঠিন করে তুলবে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ক্ষোভ ও প্রতিবাদ: বিবৃতিতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, সরকারি এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কষ্টের মধ্যে ফেলে দেবে। দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতিতে নাকাল কোটি কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা আরও দুর্বিসহ হয়ে উঠবে। দেশে জ্বালানি সংকটের মধ্যে তেলের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।

সিরু
৩ মাস আগেমিথ্যুক জামাতি জঙ্গি রাজাকারেরা মিথ্যাচার করে পরিকল্পিত পেনিক সৃষ্টি করছে।