অচলাবস্থার মধ্যেই সংলাপের প্রস্তুতি

অচলাবস্থার মধ্যেই সংলাপের প্রস্তুতি

ফন্ট সাইজ:

অচলাবস্থা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই ফের সংলাপের সময় ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। রোববার নিজের মালিকানাধীন সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে সংলাপে বসতে মার্কিন প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের পথে রয়েছেন। তারা সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইসলামাবাদে পৌঁছেই তেহরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন তারা। তবে (গতরাতে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত) সংলাপে কোনো প্রতিনিধিদল পাঠানো হবে না বলে জানিয়েছে ইরান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, যতক্ষণ যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ বলবৎ রাখবে ততক্ষণ কোনো আলোচনা হবে না। প্রথম দফার আলোচনা শেষ হওয়ার পর সামপ্রতিক দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছে পাকিস্তান। গত সপ্তাহের শ্বাসরুদ্ধকর আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাভিলাষী দাবির কারণে কোনো চুক্তি হয়নি বলে দাবি করেছিল ইরান। এবার এই বিষয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে দেশটির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের ওপর নৌ অবরোধ বহাল থাকবে, ততক্ষণ কোনো আলোচনা হবে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ওই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।

এবার ইসলামাবাদ আসছেন না জেডি ভ্যান্স: রোববার নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, দ্বিতীয় দফার সংলাপে তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারকে পাঠাচ্ছেন। তবে এবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট সংলাপে অংশ নিচ্ছেন না। ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রথমে পরিকল্পনা থাকলেও নিরাপত্তা ইস্যুতে ভ্যান্স সংলাপে আসছেন না। এদিকে ইরান যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন করছে বলেও অভিযোগ করেছেন ট্রাম্প। বলেছেন, তারা সেখানে (হরমুজ প্রণালিতে) গুলি চালিয়েছে, যা একটি ফরাসি জাহাজ ও যুক্তরাজ্যের একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে করা হয়। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের কর্মকাণ্ড কৌশলগত এই নৌপথে পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে। তিনি বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে মার্কিন অবরোধের কারণেই এটি কার্যত বন্ধ রয়েছে। যার ফলে প্রতিদিন বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত চুক্তি’ প্রস্তাব করেছে। তবে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, যদি তারা এই চুক্তি না মানে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতু ধ্বংস করে দেবে।

ইরানের পাল্টা হুমকি: ট্রাম্পের হুমকির প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ফের সর্বাত্মক লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের সামরিক প্রধান আমির হাতামি। বলেছেন, তার বাহিনী শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, ইরানের সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে নিরাপত্তা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অন্যান্য সব বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী কাজ করছে বলেও জানান আমির হাতামি। তিনি জানান, ইরানি বাহিনী আত্মত্যাগ ও সর্বাত্মক লড়াইয়ের চেতনায় অনুপ্রাণিত এবং তাদের দায়িত্ব পালনে অবিচল। সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তারা সবসময় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। হাতামির ভাষায়, আমাদের বাহিনী আঙ্গুল ট্রিগারে রেখে সর্বদা প্রস্তুত। প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করতেও পিছপা হবে না।

চূড়ান্ত সমঝোতা এখনো বহু দূরে- ইরানি স্পিকার: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে এখনো দীর্ঘ পথ বাকি বলে জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। গালিবাফ বলেন, কিছু বিষয়ে আলোচনায় সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গেছে। আবার কিছু বিষয়ে হয়নি। আমরা এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা থেকে অনেক দূরে আছি। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ বজায় রাখায় বার বার আস্থাভঙ্গের অভিযোগ তুলে শনিবার ইরান আবারো হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। এর আগে প্রণালিটি দিয়ে নিরাপদে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোকে ফি দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল ইরান। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, যারা এই ফি পরিশোধ করবে তাদের জাহাজগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। তবে গালিবাফ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিকে তেহরানের জন্য একটি কৌশলগত সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমরা শত্রুকে ধ্বংস করিনি। তাদের এখনো অর্থ ও অস্ত্র রয়েছে। কিন্তু কৌশলগতভাবে তারা আমাদের সামনে পরাজিত হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন