নির্বাচন-উত্তর সহিংসতা দমনে কঠোর পদক্ষেপ দাবি হেফাজতের

ফন্ট সাইজ:

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার সততা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় অগ্রসর হবে এবং দেশের সার্বিক উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে হেফাজতে ইসলাম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জন করায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি জোটকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে গতকাল হেফাজতের আমীর মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সেইসঙ্গে মসজিদ-মাদ্রাসা, আলেম-ওলামা, জনগণের ধর্মীয় ও মানবাধিকার সংরক্ষণ, আইনের শাসন নিশ্চিতকরণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মুসলিম শিক্ষা, সভ্যতা ও তাহজীব তামাদ্দুন সংরক্ষণে দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তারা।
বিবৃতিতে সংগঠনটির আমীর মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান বলেন, দেশের জনগণের প্রত্যাশা ও গণরায়ের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জন করায় তারেক রহমান ও বিএনপি জোটকে আন্তরিক মোবারকবাদ, অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। একইসঙ্গে নির্বাচিত সকল সংসদ সদস্যদের প্রতিও জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। অন্তর্বর্তী সরকার, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকেও ধন্যবাদ জানাই। এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করা হয়।
বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতা আল্লাহতাআলার পক্ষ থেকে দেয়া এক মহান নেয়ামত। তিনি যাদের ওপর দেশ শাসনের দায়িত্ব অর্পণ করেন, তাদের ওপর জনগণের হক আদায়ের গুরুদায়িত্বও ন্যস্ত হয়। রাষ্ট্রক্ষমতা কোনো সম্মান লাভের উপায় নয়, বরং এটি একটি কঠিন আমানত। এই আমানতের জিম্মাদারি সঠিকভাবে পালন করা এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা প্রত্যেক শাসকের প্রধান কর্তব্য।
বিবৃতিতে বলা হয়, সব রাজনৈতিক মত ও পথের প্রতি সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে হবে এবং ফ্যাসিবাদী যেকোনো পন্থার শিকড় মূলোৎপাটনে সাহসী ভূমিকা পালন করতে হবে। ক্ষমতাসীনদের নিজেদেরকে শাসক নয়, জনগণের সেবক হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়।
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা প্রসঙ্গে হেফাজত নেতারা বলেন, দেশে নির্বাচন পরবর্তী যে সন্ত্রাস, সহিংসতা ও নৈরাজ্য দেখা যাচ্ছে তা কখনোই কোনো জাতির কল্যাণ বয়ে আনবে না, বরং এগুলো সরকার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। নতুন সরকারের প্রতি সন্ত্রাস ও সহিংসতা দমনে কঠোর কিন্তু ন্যায়ভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণমূলক কর্মপন্থা গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
তারা তরুণ সমাজ ও নাগরিকদের প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। উস্কানিমূলক স্ট্যাটাস, প্রতিপক্ষকে আক্রমণ, মিথ্যা তথ্য ছড়ানো ও সহিংস কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানান। শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালন, বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা ও ছোটদের প্রতি মমত্ববোধ প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শান্তি প্রতিষ্ঠা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি সকল নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাই পারে একটি নিরাপদ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। দেশ পরিচালনায় ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবিচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। জনগণের জান-মাল, ইজ্জত ও অধিকার রক্ষা করাকে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বিশেষভাবে দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে হেফাজত নেতৃদ্বয় আশা প্রকাশ করেন, দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নতুন সরকার একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন