নগর অর্থনীতিতে আবাসন খাতের ভূমিকা অনস্বীকার্য

ফন্ট সাইজ:

রিয়েল এস্টেট ও নির্মাণ খাতকে নগর অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ইঞ্জিন বা চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, কৃষির পর আবাসন ও নির্মাণ খাত দেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার-স্থপতি ও প্রকৌশলী থেকে শুরু করে রাজমিস্ত্রি, রংমিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ানসহ লাখ লাখ মানুষের জীবিকা এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। শহুরে বেকারত্ব কমানো, আয়ের প্রবাহ তৈরি এবং নগরের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে এই খাতের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সমপ্রতি এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, সাকিফ শামীম এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ। তারা বলছেন, একটি শহর কতোটা সমৃদ্ধ, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য হবে, তা অনেকাংশেই আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়নের গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করে। এই খাতের সঙ্গে দুই শতাধিক ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প জড়িত। একটি বহুতল ভবন নির্মাণ মানেই সিমেন্ট, রড, ইট, বালু, পাথর, টাইলস, গ্লাস, অ্যালুমিনিয়াম, রঙ, স্যানিটারি ও ইলেকট্রিক্যাল সামগ্রীসহ বহু উপখাতের চাহিদা তৈরি হয়।
মীর নাসির হোসেন বলেন, রিয়েল এস্টেট ও নির্মাণ খাত যখন মন্থর হয়, তখন সিমেন্ট, স্টিল, কাঁচ এবং আসবাবপত্রসহ কয়েকশ’র বেশি উপখাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশে আবাসন সমস্যার সমাধানে বেসরকারি খাতই প্রধান ভূমিকা পালন করছে। রিয়েল এস্টেটকে একটি সামাজিক অনুঘটক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি আবাসিক প্রকল্প মানেই সেখানে নতুন স্কুল, দোকান এবং ক্লিনিক গড়ে ওঠা, যা একটি নতুন ছোট অর্থনীতি তৈরি করে।
সাকিফ শামীম বলেন, বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট ও হাউজিং সেক্টর সরাসরি ও পরোক্ষভাবে জিডিপি’র প্রায় ৭-৮ শতাংশ অবদান রাখে। তার মতে, এই খাতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ২৩০টিরও বেশি ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি, সিমেন্ট, রড, ইট, কাঁচ, স্যানিটারি, ইলেকট্রিক্যাল, ফার্নিচার, ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্সসহ নানা খাত। ঢাকার মতো শহরে বেসরকারি ডেভেলপারদের মাধ্যমেই অধিকাংশ আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন গড়ে উঠেছে, যা শহরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করেছে। তার মতে, খাত উন্নয়নে প্রয়োজন একটি স্থিতিশীল ও ভবিষ্যতমুখী নীতি কাঠামো, যাতে বিনিয়োগকারীর আস্থা, গ্রাহকের সুরক্ষা এবং শহরের পরিকল্পিত বিকাশ, সবকিছুই একসঙ্গে নিশ্চিত হয়।
ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, রিয়েল এস্টেট খাতের প্রবৃদ্ধি সরাসরি সিমেন্ট, স্টিল এবং নির্মাণসামগ্রীর মতো বহু উপখাতের প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে; ফলে আবাসন খাতে মন্দা মানে পুরো শিল্প খাতের সাপ্লাই চেইনে নেতিবাচক ধাক্কা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে জমি বা ফ্ল্যাট নিবন্ধন ও হস্তান্তর ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি, এ ধরনের উচ্চ ব্যয় বৈধ লেনদেনকে নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং অনানুষ্ঠানিক লেনদেনের প্রবণতাও বাড়াতে পারে। খাতকে গতিশীল করতে হলে কর ও ফি যৌক্তিক পর্যায়ে আনা জরুরি।




কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন