সরকারের দুই মাসে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন

সরকারের দুই মাসে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস পূর্তি হয়েছে। এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ৬০টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এ সব পদক্ষেপ নিয়েছেন। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর নেয়া এ সব পদক্ষেপের বিষয় গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমীন। তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও মুখপাত্র আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ শিবলীসহ, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইং এর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মাহদী আমিন বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি, সামনের দিনগুলোতেও এই ইতিবাচক ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। একইসঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গও নিজ নিজ অবস্থান থেকে তথ্যভিত্তিক বক্তব্য তুলে ধরে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন। আমরা ভেবেছিলাম, এই অল্প সময়ের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় সরকার যে সমস্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে, বিরোধী দল সেই কাজের জন্য সামগ্রিকভাবে সহযোগিতা করবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, তারা সেটি না করে সংসদে হট্টগোল করা, রাজপথে আন্দোলনের হুমকি, গুজব-অপপ্রচার ছড়ানোসহ বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে, যা দেশের অগ্রযাত্রার পথে প্রতিবন্ধকতা।

এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর নেয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়ার পাইলট প্রকল্প শেষ হয়েছে, ইতিমধ্যে ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দেশের কৃষক কৃষাণীর জন্য ১০টি সুবিধা ও নগদ অর্থায়ন সম্বলিত ‘কৃষক কার্ড’ প্রচলন করা। ইতিমধ্যে প্রাথমিকভাবে ১০টি জেলার ২২ হাজারেরও বেশি প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’ প্রদানের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও দেশের আইনি কাঠামোর ধারাবাহিকতা রক্ষায়, অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকার সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন, এ সব অধ্যাদেশের মধ্যে মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশসহ ১৬টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাই করে আবার সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে এবং সবচেয়ে বেশি গুম, খুন, মানবাধিকার হরণের শিকার দল হিসেবে বিএনপি এগুলো বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আরও পরামর্শ ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বিলেই উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের এ উদ্যোগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ও জুলাই সনদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ সহ বিএনপি সম্মত হয়ে যেভাবে স্বাক্ষর করেছিল-সেই স্বাক্ষরিত জুলাই সনদকে প্রধানমন্ত্রী বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, ইতিমধ্যে ৫৪ জেলায় এই কাজ শুরু করা হয়েছে।

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও সরকার জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, জনস্বার্থে ভর্তুকি বৃদ্ধি, বিকল্প উৎস থেকে ক্রয় করার উদ্যোগ, দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে তেলের সংস্থানকে প্রাধান্য এবং আন্তর্জাতিক দর-কষাকষিতে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান-এই বহুমুখী পদক্ষেপের ফলেই সামগ্রিকভাবে যেকোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশে তেলের দাম যথেষ্ট কম। জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিং-এর মাধ্যমে মোট ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সোলার বা সৌরশক্তি ব্যবহার করে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

জ্বালানি নেয়ার জন্য ফুয়েল কার্ড-এর পাইলটিং প্রজেক্ট ইতিমধ্যে চালু করা হয়েছে। প্রতিকূল বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে পবিত্র রমজান মাসে এবং এখনো অন্যান্য বছরের তুলনায় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে এবং একইসঙ্গে তারল্যসংকট থাকা সত্ত্বেও খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের আমদানি অব্যাহত রাখা হয়েছে ও ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে সংকট তৈরি হয়নি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা গেছে। ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজক ও পালকরা মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন, এই কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সব মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে বাস্তবায়ন করা হবে এবং প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

এ ছাড়া ঈদুল ফিতরের সময় সারা দেশে অসহায় ও গরিবদের ত্রাণ ও উপহার বিতরণ করা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ইসলামিক স্কলার ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে যাকাত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিগগিরই প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিগত সময়ের তুলনায় হজযাত্রার খরচ টিকিট প্রতি ১২ হাজার টাকা এ বছরেই কমানো হয়েছে, প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতেই ‘নুসুক হজ কার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। দেশের সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসে শূন্য পদ ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি, শূন্য পদ পূরণের জন্য ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রাধান্য পাচ্ছে চিনিকল, রেশম ও পাটশিল্প। স্বল্প ব্যবহৃত ইকোনমিক জোন, ইপিজেড, বিসিক এলাকা, হাই-টেক পার্ক ও ইন্ডাস্ট্রি ক্লাস্টারের তালিকা প্রস্তুত করে সেখানে সম্ভাবনাময় ব্যবসা ও স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইকোসিস্টেম তৈরি শুরু করা হয়েছে। সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অধিকতর শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে একগুচ্ছ বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে রূপান্তর-এ লক্ষ্য অর্জনে খাতভিত্তিক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতা, পুনর্গঠন ও বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির পথে নিতে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করা, মূল্যস্ফীতি নামিয়ে আনা, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।

মাহদী আমিন বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণের জন্য ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গত প্রায় ১৮ বছরের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কোনো শ্রমিককে হাহাকার করতে হয়নি- শ্রমিক, মালিক, সরকার ও অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিত আলোচনার ভিত্তিতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকিং সহায়তা প্রদান করে নিশ্চিত করা হয়েছে, সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের ঈদের আগেই তাদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধাদি পরিশোধ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন পর আবারো খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, দুই দেশের অভূতপূর্ব যৌথ বিবৃতিতে উঠে এসেছে অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও প্রবাসীদের জনকল্যাণ। বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজতে ইউরোপের ৭টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। দেশে বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর অংশ হিসেবে সরকার বিদেশে অধিক সংখ্যক জনশক্তি রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছে- দক্ষ এবং আধা দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির ওপর গুরুত্ব প্রদান করে অভিবাসনের পরিমাণ এবং গুণমান উভয়ই বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নিয়েছে, এই লক্ষ্যে দেশ জুড়ে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার ও কারিগরি শিক্ষায় বহুভাষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির কারিকুলামে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

উত্তরবঙ্গকে অ্যাগ্রো প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রির ‘হাব’ বা প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পে-পাল ও অন্যান্য পেমেন্ট গেটওয়ে কার্যক্রম বাংলাদেশে শুরুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেয়া হয়েছে- এই নিয়োগের ক্ষেত্রে নারী ক্ষমতায়নকে প্রাধান্য দিয়ে মোট কর্মীর ৮০ শতাংশই নারী থেকে নেয়া হবে এবং এর মূল উদ্দেশ্য নারীর ক্ষমতায়ন। সঠিক ও গুণগত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে, সারা দেশে হাসপাতালগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। প্রতি বছর পুনরায় ভর্তি ফি বাতিল, অর্থাৎ পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ হবার পর নতুন করে আর ভর্তি ফি না নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, লটারির পরিবর্তে আধুনিক ভর্তি পরীক্ষা বা বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের ভর্তি, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং সকল স্তরের শিক্ষাবৃত্তির অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সহায়তায় সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক এবং শূন্য পদসমূহে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে; উপজেলা পর্যায়ে ৬টি খেলায় ৩ জন করে মোট ১৮ জন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ শুরু হয়েছে- মহানগর পর্যায়ে উন্মুক্ত খেলার মাঠের সংস্থান করা হচ্ছে এবং আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবারো শুরু হয়েছে শিশু কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণের প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি’, প্রথমবারের মতো সংযুক্ত হচ্ছে ক্রীড়া ও কোরআন তেলাওয়াত, জাতীয় সংসদের গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আসন বরাদ্দ এবং দেশব্যাপী বই পড়াকে উৎসাহিত করার জন্য বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের তৈরি ব্যাগ বিতরণের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং বিভিন্ন স্কুলে পর্যায়ক্রমে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস, কারিগরি শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি যুক্ত করে শিক্ষাক্রমকে সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। স্পোর্টস কার্ড ও স্পোর্টস অ্যালাউন্স কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ইতিমধ্যে শতাধিক ক্রীড়াবিদকে ভাতা দেয়া হচ্ছে। ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে, বনায়ন সৃজনের জন্য এরই মধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করা হয়েছে, উৎপাদিত চারাগুলো চলতি বছর আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রোপণ করা হবে, এ ছাড়া শহরের মধ্যে থাকা খালের পাশে আধুনিক নেটিং ব্যবস্থা এবং হাঁটার রাস্তা তৈরি করা হবে। রাষ্ট্রীয় ভবন যমুনা ব্যবহার না করে প্রধানমন্ত্রী গুলশানে নিজের বাড়ি ব্যবহার করছেন, নিজের গাড়ি ব্যবহার করছেন, নিজ খরচে তেল ব্যবহার করছেন, যা রাষ্ট্রীয় ব্যয় হ্রাসের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রী শনিবারও অফিস করছেন, কর্মকর্তাদের সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করেছেন, ভিভিআইপি প্রটোকল না নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতি সাধারণ চলাফেরায় ট্র্যাফিক ব্যবস্থায় নজিরবিহীন পরিবর্তন এনেছেন, তার রাষ্ট্রীয় সফরের সময় বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সীমিত করা হয়েছে- যেখানে উপস্থিত থাকতে পারবেন কেবল একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, চিফ হুইপ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব। দালালদের হস্তক্ষেপ বন্ধের লক্ষ্যেই-নামজারি ও সেবাগ্রহীতাদের অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, নগদ টাকা লেনদেনের সুযোগ বন্ধ করতে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে এবং ম্যাপ বা নকশা জালিয়াতি বন্ধ করতে সরকার এখন ডিজিটাল সার্ভের পাইলটিং পরিচালনা করছে, চালু হয়েছে ২৪/৭ হটলাইন। পদ্মা অববাহিকার বিস্তৃত কৃষি অঞ্চলকে মরুকরণ থেকে রক্ষা করা এবং শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত করতে ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ হাতে নেয়া হয়েছে। এমপি-মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমছে। পাটজাত পণ্যে প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন সরকারি অফিস এবং বেসরকারি শিল্প খাতকে পাটজাত পণ্য ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাপ্তাহিক জাতীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি সমন্বয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর হামের টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, লক্ষ্য দ্রুততম সময়ে সারা দেশে প্রদান। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে এবং জনবান্ধব পুলিশ গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঢাকায় পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস এবং নারীদের জন্য নিরাপদ বিশেষায়িত পিংক বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জাতীয় নদীরক্ষা কমিশন আইন সংশোধনের একটি খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে, এর ফলে নদী দখল ও দূষণ ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে; এই আইনের অধীনে নদী দখলদারদের সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ১৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের মতো কঠোর শাস্তির প্রস্তাব রাখা হচ্ছে।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ ও অর্থ অপচয় রোধে রাষ্ট্রীয় ইফতার সীমিত করা হয়েছিল, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সব ধরনের সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য ১১ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে- লাইট কম ব্যবহার করে, দিনের বেলা অফিস বা বাড়িঘরের পর্দার জানালার সরিয়ে সূর্যের আলো ব্যবহারের জন্য সবাইকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে এবং সরকারি অফিসে অর্ধেক ফ্যান ও এসি চালানোর নির্দেশনাও রয়েছে। প্রথমবারের মতো এনটিআরসি’র মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ নিয়োগে পরীক্ষার মেধাভিত্তিক নিয়োগ হতে যাচ্ছে। দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি’র সক্ষমতা বাড়াতে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে সরকার, ২০২৯ সালে দ্বিতীয় ইউনিটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালু করা হবে এবং আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে আগামী মাসে। ফুটপাথের ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের ও ভিন্ন স্থানে ব্যবসা পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিএনপি ঐতিহাসিকভাবে বাক-স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, সরকারের লক্ষ্য একটি উদার ও গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণ করা, যেখানে কোনো মত, বিশ্বাস বা পরিচয় অবমূল্যায়িত হবে না, মুক্ত ও নিরাপদ মতপ্রকাশ, স্বাধীন গণমাধ্যম এবং বাধাহীন চিন্তার পরিবেশ নিশ্চিত করতে গত দুই মাসে এর কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি এবং সরকার, এমনকি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়েও মিথ্যা অপপ্রচার ও অশালীন আচরণ করছেন অনেকেই, যা নজিরবিহীন, সর্বোচ্চ বাক-স্বাধীনতার এই সময়ে সবাই মুক্ত ও নিরাপদ মতপ্রকাশ করছেন, এমনকি একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী হীন রাজনৈতিক স্বার্থে এর অপব্যবহারও করছে, তবুও অটুট রয়েছে বহুমত ও কণ্ঠের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা। বহুপাক্ষিক আলোচনা ও কর্মকৌশল ঠিক করে হযরত শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে শাহ্‌জালাল, শাহ্‌ আমানত ও এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরে উন্নত দেশের মতো ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবস্থার নির্দেশ ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে উদ্বোধন করা হয়েছে। চলন্ত ট্রেনের যাত্রীদের সুবিধার জন্য ফ্রি ইন্টারনেট সেবা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ আধুনিকায়নে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২৩৩৬টি কারিগরি ও ৮২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই চালু করা হবে। সরকার অর্থনৈতিক কূটনীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছে, যেখানে প্রবাসীদের জনকল্যাণ, দূতাবাস এবং মিশনগুলাকে বাণিজ্যের প্রচার, বিনিয়োগ আকর্ষণ, বৈদেশিক জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ তৈরি অন্যতম অগ্রাধিকার। পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী এবং স্বাভাবিক করা হচ্ছে এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক, পানি বণ্টন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ সুবিধা, শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ দ্বিপক্ষীয় সম্ভাবনার দুয়ার খোলা হচ্ছে। বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশের সঙ্গে সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে নদীভাঙন রোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র অনুযায়ী মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা বিএনপি’র ইশতেহারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি- বিএনপি সেই রাজনৈতিক দল, আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী গুম, খুনের শিকার হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, আমাদের ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে, সুতরাং সবচেয়ে বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার এই দল নিয়ে যেকোনো অপপ্রচার, প্রোপাগান্ডা রাজনৈতিক হীন চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ এবং গত দুই মাসে সরকার মানবাধিকার রক্ষায় যে রেকর্ড তৈরি করেছে তা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর ওপরে জনগণের বিশাল আস্থা:
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যেভাবে সরকারকে অবিশ্বাস করা শুরু করেছিল, নেতা-মন্ত্রীকে অবিশ্বাস করার শুরু করেছিল। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, গত দুই মাসে সরকারের ওপর আস্থা ফিরে এসেছে। বিশেষ করে আমরা দেখেছি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপরে আস্থা ফিরে এসেছে। তিনি জনগণের মধ্যেই থাকছেন, জনগণের মধ্যেই হাঁটছেন, তিনি নিরাপত্তার তোয়াক্কা করছেন না। জনগণের কাছে যেসব আশা-প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি প্রত্যেকটি প্রতিশ্রুতি পালনের চেষ্টা করছেন। আমার কাছে মনে হয়েছে, আমাদের সরকারের এই ৬০ দিনে সবচাইতে বড় অর্জন বাংলাদেশের জনগণ তারেক রহমানকে বিশ্বাস করেছেন, তারেক রহমান জনগণকে বিশ্বাস করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী চান দেশের ভালো কাজগুলো হোক:
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান দেশের ভালো কাজগুলো হোক। তার মধ্যে একটি জিনিস আমাদের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি যুদ্ধ, যে যুদ্ধে জ্বালানি তেলের সংকট- এটা ছাড়া আমার মনে হয় অন্যান্য প্রশাসনিক এবং যে খারাপ কাজগুলো দুষ্ট লোকেরা করছিল, এগুলো কিন্তু তুলনামূলকভাবে অনেক কমে গেছে। উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মাহফুজুর রহমান, উপ-প্রেস সচিব মুস্তফা জুলফিকার হাসান, মো. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক খান ও আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার।

লিমা

৩ মাস আগে

নিজকে এত জ্ঞানী মনে করা পাপ। কারণ যারা এমন তারা হয় অন্ধ। রংগিন চশমা ধারী।এ চশমায় সব রংগিলা দেখায়।

শাহ আলম আমিনী

৩ মাস আগে

নিত্য প্রয়োজনীয় ও জালানি তৈলের দাম কমান. ঘন ঘন কারেন্ট চলে যাওয়া বন্ধ করুণ। তবে জনগণের আস্তা অর্জন করতে পারবেন। হুদাই পদক্ষেপ নিয়ে কি হবে?

MD Khan

৩ মাস আগে

যে খবরটা শোনার জন্য পুরা নিউজটা পড়লাম, সে খবরটাই পেলাম না। সেটা হল; তিস্তা ব্যারেজ, পদ্মা ব্যারেজ। কবে হবে আল্লাহ মালুম। আল্লাহ তুমি রহমত কর। সবার আগে বাংলাদেশ।

আতাউর রহমান

৩ মাস আগে

বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ উন্নত করা হোক।যেমন চট্রগাম টু রংপুর।

সিরু

৩ মাস আগে

> জামাত ইসলাম জঙ্গিদের দল। জঙ্গিরা ব্যক্তি পরিবার সমাজ রাষ্ট্র রাজনীতি সরকারের জন্য ধ্বংসাত্মক। কারন
> জঙ্গিদের ভাল-খারাপ, উচিত-অনুচিত বিবেচনা বোধ থাকে না।
<> এই জামাতি জঙ্গি এবং গুপ্ত জঙ্গিদের দেশ সরকার প্রশাসন এবং দল থেকে মুক্ত করতে হবে।
<> এই জঙ্গিদের আইনের আওতায় থাকতে বাধ্য করতে হবে, নতুবা এরা সব ধ্বংস করে ফেলবে।

মন্তব্য করুন