পতিত সরকারের জ্বালানি নীতি ছিল বিতর্কিত

পতিত সরকারের জ্বালানি নীতি ছিল বিতর্কিত

ফন্ট সাইজ:

জ্বালানি খাতে পতিত সরকারের নীতিকে বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত উল্লেখ করে তা পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন সিপিডি’র ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন, আমলা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের অসাধু যোগসাজশে তোষণমূলক নীতির ফলে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ উপেক্ষিত হয়েছে এবং দেশ আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। শনিবার রাজধানীর এফডিসিতে আয়োজিত প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

তিনি আরও বলেন, এলএনজি আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে কার্যত দুর্বল করে রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সামপ্রতিক চুক্তি জ্বালানি নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক শর্ত শিথিলের সুযোগ বাংলাদেশকে বিবেচনায় নেয়া উচিত বলে মত দেন।
জ্বালানি নিরাপত্তা ইস্যুতে গঠিত কেবিনেট সাব-কমিটির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে তা জাতীয় সংসদে আলোচনার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি সরকারি অর্থব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আয় ও প্রণোদনা কাঠামোর সংস্কার পরিকল্পনা জনসম্মুখে প্রকাশের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন- হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি বলেন, অতীতে দুর্নীতির কারণে দেশ জ্বালানিতে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারেনি। দলীয় স্বার্থে আমদানি-নির্ভরতা বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকে উপেক্ষা করা হয়েছে, যা বর্তমান সংকটকে আরও জটিল করেছে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (ওগঋ) বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ঋণের পরবর্তী কিস্তি স্থগিত করায় জুন মাসে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার পাওয়া যাচ্ছে না, যা অর্থনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। আসন্ন বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি হতে হবে জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব ও বাস্তবায়নযোগ্য। নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ওপর চাপ কমিয়ে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে হয়রানিমুক্ত ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। আগামী বাজেটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমেই অর্থনৈতিক সুরক্ষা অর্জন সম্ভব এই প্রস্তাবের ওপর অনুষ্ঠিত ছায়া সংসদ বিতর্কে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দল বিজয়ী হয়। তারা স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর দলকে পরাজিত করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মাঝে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

Aziza

৩ মাস আগে

Whoever is in power, he speaks for them, supports & becomes a policy maker - but when power is ousted or gone somehow- he louds his voice against them.
He is one of a kind.

মন্তব্য করুন