গণপিটুনিতে প্রাণ গেল অভিযুক্তের পিতা ও চাচার

মানিকগঞ্জে শিশু আতিকা হত্যা

গণপিটুনিতে প্রাণ গেল অভিযুক্তের পিতা ও চাচার

ফন্ট সাইজ:

মানিকগঞ্জে শিশু শিক্ষার্থী আতিকা আক্তার (৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে দুইজন নিহত হয়েছেন। তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রীতিমতো তোলপাড় চলছে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের বনপারিল দক্ষিণপাড়া এলাকায়। শিশু আতিকার হত্যাকারী নাঈম (১৫) পালিয়েছে। তবে তার অপকর্মের খেসারত হিসেবে জনতার হাতে জীবন দিতে হয়েছে হতভাগা পিতা ও চাচাকে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে স্থানীয় একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সৌদি প্রবাসী দুদুল মিয়ার কন্যা শিশু আতিকার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে বিকালে শিশুটি নিখোঁজ হয়েছিল।

নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বিকাল ৫টার দিকে এক প্রতিবেশীর গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান চলছিল। এ সময় শিশু আতিকা ওই বাড়ির বাইরে খেলা করছিল। হঠাৎ সে নিখোঁজ হয়। একপর্যায়ে এলাকায় মাইকিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ে। আতিকার চাচাতো ভাই আলীর তথ্য অনুযায়ী, আতিকাকে প্রতিবেশী বখাটে কিশোর নাঈমের সঙ্গে দেখা গেছে। এরপর থেকেই তার পরিবার ও স্থানীয়রা নাঈমের প্রতি সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে নাঈমকে আতিকার পরিবার এবং স্থানীয়রা জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখান থেকে রাত ১০টার দিকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যাওয়ার পর নাঈম সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

পরে তাৎক্ষণিক বিক্ষুব্ধকারীরা নাঈমের খোঁজে তার বাড়িতে ছুটে গেলে নাঈমকে না পেয়ে তার বাবা অটোরিকশাচালক পান্নু (৪৫), তার ছোট ভাই ফজলু (২৮) ও নাঈমের বড় ভাই নাজমুল (২০)কে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলে নাইমের পিতা ও চাচা ফজলু মারা যায়। এ ছাড়া নাজমুল (২০)কে গুরুতর আহত অবস্থায় মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাতেই মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. ইকরাম হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাছাড়া গণপিটুনির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ওসি জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটির গায়ের স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। এদিকে নিহত শিশু আতিকার পরিবারে আহাজারির পাশাপাশি গণপিটুনিতে নিহত পরিবারের মাঝেও বইছে শোকের মাতম।

Al Mamun Bhuiyan

৩ মাস আগে

এখন সময় এসে কিশোর আইন সংশোধনের। তা না হলে কিশোর গেং ঠেকানো যাবে না।দেশের সর্বত্র এখন কিশোর গেং এর দৌরাত্ম।

নূর মোহাম্মদ এরফান

৩ মাস আগে

দ্রুত ন্যায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক মূলক কঠোর শাস্তি নিশ্চিত হলে দেশে হত্যা ধর্ষণ চুরি ডাকাতি ঘুষ দূর্নীতি সন্ত্রাস অরাজকতা কিছুই থাকবে না। তবে এসব অপকর্ম দেশ তথা সমাজ থেকে সম্পূর্ণ নির্মূল করার ক্ষমতা যাদের উপর অর্পিত দরকার শুধু তাদের সদিচ্ছা হলপ করে বলা যাবে যে আছে ?

জহির

৩ মাস আগে

কোন ধর্ষণের , খুনের , হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার হয় না ,ভুক্তভোগীরা বছরের পর বছর , যুগ যুগ ধরে বিচার পায়না
তাই এই ব্যবস্থা ভালো

Faiz Ahmed

৩ মাস আগে

ধর্ষণ কারীকে কোন অবস্থায় ছাড়া দেওয়া যাবে না। হোক সে কিশোর। তবে তার পিতা চাচাকে গণপিটুনি জন আক্রোশ থেকে হয়ছে।

Rafiqulislam

৩ মাস আগে

হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাছাড়া গণপিটুনির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। যেহেতু আইনে অপরাধী ধরা পড়ে না, তার শাস্তি ও হয় না। তাই জনগন আইনকে নিজেদের হাতে তুলে নেয়। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে বার বার দেখা গেছে। আসলে এটাই ইতিহাস। এখন দেখবেন অপরাধীর চেয়ে বড় অপরাধী হবে যারা মেরেছে। কিন্তু কেন মেরেছে বা মারতে বাধ্য হয়েছে সেটা চাপা পড়ে যাবে।

মন্তব্য করুন