সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে জ্বালানি সংকটের প্রভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ডিজেলের অপ্রতুলতায় ট্রাক সংকট দেখা দেয়ায় বন্দরে প্রতিদিন শত শত টন পণ্য খালাস হলেও তা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে পরিবহন ব্যয়, অন্যদিকে পণ্যজটে স্থবির হয়ে পড়ছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। এ সংকটকে পুঁজি করে ট্রাকপ্রতি ভাড়া বেড়েছে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রাক চলাচল কমে যাওয়ায় বন্দরে পণ্যজট বাড়ছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য খালাস হলেও ট্রাকের অভাবে তা বন্দরে পড়ে থাকছে। এতে ব্যবসায়ীদের যেমন অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে, তেমনি সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পণ্য পরিবহনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চালকরা। ট্রাকচালক ফিরোজ আহমেদ বলেন, ঈদের আগে থেকেই তেলের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। ভোমরা থেকে নারায়ণগঞ্জে পণ্য নিয়ে যেতে পথে একাধিক পাম্পে ঘুরেও পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ২০-৩০ লিটার করে তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে দীর্ঘ সময় নষ্ট হচ্ছে। এতে সময়মতো পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। আরেক চালক মো. শরিফ বলেন, এখন দূরপাল্লার ট্রিপ দিতে ভয় লাগে। আগে একবার ট্যাংকি ভর্তি করলেই নিশ্চিন্তে যাওয়া যেতো। এখন মাঝপথে তেল শেষ হয়ে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি আয়ও কমে যাচ্ছে। পরিবহন সংকটের চিত্র ফুটে উঠেছে ব্যবসায়ীদের বক্তব্যেও। ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান জানান, বর্তমানে বন্দরে চাহিদা অনুযায়ী ট্রাক পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিন শত শত টন পণ্য খালাস হলেও ট্রাকের অভাবে তা সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এতে ব্যবসায়িক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং আয়ের পথ সংকুচিত হচ্ছে। তবে ভাড়ার ঊর্ধ্বগতিকে ‘অস্বাভাবিক’ বলছেন ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী কবির হোসেন। তার অভিযোগ, কিছু অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ট্রাক ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। ভোমরা স্থলবন্দরের ট্রান্সপোর্ট মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি মো. লুৎফর রহমান মন্টু বলেন, বিশেষ করে দূরপাল্লার পরিবহনে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে। তেল পেতে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, ফলে ট্রাকগুলো সময়মতো বন্দরে ফিরতে পারছে না। এতে পরিবহন চেইন ভেঙে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পচনশীল পণ্য। কাঁচা মরিচ, আদা, ফলসহ বিভিন্ন পণ্য সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় মান নষ্ট হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকসানে পড়ছেন। ভোমরা স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক এসোসিয়েশনের সভাপতি রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী বলেন, ভারত থেকে পণ্য আমদানির খরচ স্বাভাবিক থাকলেও দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ট্রাক সংকট ও ভাড়া বৃদ্ধির কারণে ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত সময়ে পণ্য বাজারে আনতে পারছেন না, ফলে ন্যায্য মূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা বলেন, ভোমরা বন্দর পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস হাউজে উন্নীত হওয়ার পর বাণিজ্যে গতি এসেছিল। কিন্তু জ্বালানি সংকট সেই অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ৩০০-৩৫০ ট্রাক পণ্য আমদানি হতো, এখন তা কমে প্রায় ২০০ ট্রাকে নেমে এসেছে। এভাবে চলতে থাকলে ভোমরা স্থলবন্দরের ট্রান্সপোর্ট ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছে ব্যবসায়ীরা।
ট্রাক সংকটে ভোমরা বন্দর অচলাবস্থায় বাড়ছে ভাড়া-ভোগান্তি
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
১৮ এপ্রিল (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
