রিফাইন্ড আওয়ামী লীগে সায় নেই হাসিনার

রিফাইন্ড আওয়ামী লীগে সায় নেই হাসিনার

ফন্ট সাইজ:

রিফাইন্ড আওয়ামী লীগে সায় নেই শেখ হাসিনার। তাই তিনি কাতার যাওয়াসহ সব প্রস্তাবই নাকচ করে দিচ্ছেন। মানবজমিন জানতে পেরেছে পরিশোধিত আওয়ামী লীগ গড়তে দু’টি প্রস্তাব নিয়ে কাজ শুরু করেছিল ভারত সরকার। তাতে বলা হয়েছিল, হয় আপনি কাতার যান, না হয় নতুন আওয়ামী লীগ গড়তে মত দিন। হাসিনা দুই প্রস্তাবই উড়িয়ে দিয়েছেন ভিন্ন কৌশলে। বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ যাতে অংশ নিতে পারে সে লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তাব চালাচালি হয়েছিল। কিন্তু হাসিনা তার সিদ্ধান্তে অনড়। তিনি কোনো অবস্থাতেই ভারত ছাড়তে চান না। যেতে চান না কাতারে। তিনি মনে করেন, কাতার যাওয়ার মানে হচ্ছে- নেতৃত্ব ছেড়ে দেয়া। একাধিক কূটনৈতিক সূত্র এই ইঙ্গিতও দিচ্ছে যে, হাসিনাকে বলা হয়-তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন প্রায় অসম্ভব। গণ-আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া শেখ হাসিনা সরকার যেসব গণহত্যা চালিয়েছে তা মানুষের মন থেকে এখনো মুছে যায়নি। মানুষ বিক্ষুব্ধ। প্রশাসনিক কোনো সমর্থনও নেই। বাংলাদেশের কোথাও দলের কোনো দৃশ্যমান অস্তিত্ব নেই। সরকার বিদায় নিয়েছে, দলও বিদায় নিয়েছে। নেতারা হয় ভারতে কিংবা অন্যদেশে আশ্রয়রত। কর্মীদের বেশির ভাগই এখনো পলাতক। দল পুনর্গঠনের কোনো চেষ্টা-তদবিরও নেই।

এই অবস্থায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেই হাসিনার অবস্থান নড়বড়ে। এ নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকের পর ভারত তাদের আগ্রহ অনেকটাই হারিয়ে ফেলে। ঢাকা-দিল্লি সামপ্রতিক দ্বিপক্ষীয় আনুষ্ঠানিক আলোচনায় হাসিনা প্রসঙ্গ আসেনি। কথা হয়নি আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন নিয়েও। এমনকি আলোচনায় উঠে আসেনি আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে আনা অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হওয়া বিলটিও। ওয়াকিবহাল কূটনীতিকরা বলছেন, ভারতের এই মনোভাবে হাসিনা প্রচণ্ড হতাশ। কিন্তু করার যে কিছুই নেই! সাবের হোসেন চৌধুরীকে নিয়ে রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ গড়ার চেষ্টা বিফলে যায়। হাসিনা এই উদ্যোগে মত দেননি। বরং ক্ষুব্ধ হয়েছেন ভীষণভাবে। এর ফলে সাবের চৌধুরী অনেকটা নাটকীয়ভাবে দৃশ্যপট থেকে বিদায় নেন। নির্বাচনের আগে এসব উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় ভারতের মনোভাবে বেশ পরিবর্তন আসে। নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে ভিন্নমত থাকলেও শেষ পর্যন্ত পক্ষেই মত দেন শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা। চটজলদি বেশ কিছু পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যায় তখন। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানই এর প্রমাণ।

গোড়াতে হাসিনা চেয়েছিলেন তার পরিবারের পক্ষে কাউকে দলের নেতৃত্ব দিতে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ মহলে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় এই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। হাসিনা নিজেও তার বোনের ছেলে রাদওয়ান সিদ্দিক ববিকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বে আসার ব্যাপারে সবুজ সংকেত দেননি। সময় যত গড়াচ্ছে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।

-শান্তনা রহমান
(কপিরাইটের আওতাভুক্ত থাকায় কপি করা যাবে না)

sk chy

৩ মাস আগে

তাঁকে অবশ্যই মানতে হবে কালের স্রোতে তিনি এখন অতীত। অবসর নেয়াটা তাঁর ও দেশের জন্য ভাল.

মোহাম্মদ সেলিম

৩ মাস আগে

শেখ হাসিনা দেশে এসে কি করবে? আবার আয়না ঘর বানিয়ে চরম প্রতিশোধ নিবে? নাকি দেশে চরম শান্তির ব্যবস্থা করবে? উনি যে ভয়ঙ্কর অন্যায়গুলো করেছে তার গ্রহণযোগ্য কোন ব্যাখ্যা প্রদান করেনি। উনাকে এদেশের সিংহভাগ মানুষের প্রয়োজন নেই একথা উনি এখনও বুঝতে চাচ্ছে না। বাংলাদেশ এবং এদেশের মানুষের জন্য উনার কী পরিকল্পনা তা প্রকাশ করা উচিত। উনার বয়স এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় উনার বিকল্প চিন্তা করা উচিত। বিচার মানি কিন্তু তালগাছটা আমার এই থিওরি থেকে সরে আসতে হবে।

ফয়সাল

৩ মাস আগে

উনি আওয়ামীলীগের ক্ষতি করেছেন। বঙ্গবন্ধুর ক্ষতি করেছেন। দেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠান দলীয় করনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। উন্নয়নের নামে মহাচুরী করার সুযোগতৈরী করেছেন। সিনিয়র নেতাদের বেজ্যতি করেছেন।পক্ষান্তরে উনি দেশ ও জনগণের সাথে প্রতারনা
করেছেন।

Sakhawat

৩ মাস আগে

এই মহিলা নেত্রীর ক্ষমতার প্রতি লোভ এখনো একেবারে অটুট। ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি সীমাহীন কর্তৃত্ব ভোগ করেছেন এবং একপ্রকার ব্যক্তিকেন্দ্রিক শক্তির বলয় গড়ে তুলেছেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, তিনি দলের ভেতরে কোনো শক্তিশালী দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারির নেতৃত্ব গড়ে তোলেননি।
ক্ষমতা হারানোর পরও তিনি পদত্যাগ করেননি কিংবা দলের দায়িত্ব অন্য কারও হাতে তুলে দেননি। ফলে, এত বড় একটি দল এবং বিপুল সমর্থন থাকা সত্ত্বেও, পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় দৃঢ় ও স্বাধীন নেতৃত্বের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অধিকাংশই যেন শুধু অনুসারী হিসেবেই থেকে গেছে, নিজস্ব অবস্থান বা সক্ষমতা নিয়ে সামনে আসার মতো কেউ তৈরি হয়নি।
রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ গঠন করার মতো হিম্মতওয়ালা কেউ মনে হচ্ছে দলে নেই, সেই সুযোগটাই হাসিনা নিচ্ছে । রিফাইন্ড হতে হবে কেন? দলে কি এমন কোনো পরিশুদ্ধ/খাঁটি নেতা নেই যিনি নেতৃত্ব দিতে পারেন? এককভাবে কেউ না আসতে চাইলে প্যানেল হোক। তবে এখন এতোটা সহজ হবে না, মনে রাখতে হতে আওয়ামী লীগ এখন নিষিদ্ধ দল!

Md.Mizanur Rahman Tipu Md.Mizanur Rahman Tipu

৩ মাস আগে

সে মরলে আওয়ামী লীগ বেঁচে যাবে ।

Andalib

৩ মাস আগে

শেখ হাসিনার সীমাহীন ক্ষমতার লোভ তাকে স্বৈরাচারী করে তুলছিল। তার সেই লোভ এখনো শেষ হয়নি, মৃত্যুর আগে শেষ হবে বলে মনে হয় না।‌ তাই সে কারো হাতে দলের কর্তৃত্ব দিবে এটা বিশ্বাস করা বোকামী। তাই , তার যতোদিন আয়ু আছে ততোদিন অপেক্ষা করা ছাড়া আওয়ামী সমর্থকদের মুক্তির কোন পথ নেই।

Bipresh Chandra Sarkar

৩ মাস আগে

শেখ হাসিনা কে যদি ভারত কাতার পাঠানোর ইচ্ছে পোষণ করে তাহলে এটা কোনো বিষয় না। আর নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে আওয়ামী সমর্থকদের মধ্যে এখনও সিনিয়র নেতাদের প্রতি আনুগত্য না থাকলেও শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য ৯০% এর বেশী বলে বিশ্বাস।

খোরশেদ আলম

৩ মাস আগে

ক্রান্তিকার অতিক্রম করার জন্য দলের নেতাকর্মীদের দিকে তাকিয়ে কিছু ত্যাগ স্বীকার করে নিতে হবে নেত্রী কে গণতন্ত্র রক্ষায় নতুন কাউকে দায়িত্ব দিতে হবে। উনি আগে সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি বেঁচে নিতে ভুল করছেন আসল আওয়ামী লীগকে উপেক্ষিত করে মন্দ লোক দিয়ে দল পরিচালনা করেছেন। সকল মন্দ লোক গুলো টাকা কামিয়ে বেগে গেছে আর আসল আওয়ামী লীগের যারা মাঠ পর্যায়ের লোক তারা বিপদে পড়ে গেছে। যারা অরিজিনাল আওয়ামী লীগ তাদের সুযোগ দেয়া দরকার।চাপপুকে খুঁজে এনে রাষ্ট্রপতি বানানো কি দরকার ছিলো। ভুলে ভুলে শেষ হবার পালা।

আনিস উল হক

৩ মাস আগে

তাঁকে অবশ্যই মানতে হবে কালের স্রোতে তিনি এখন অতীত। তাঁর পুত্র কন্যাকে তিনি রাজনীতিতে তাঁর সমতুল্য তৈরি করে নিতে পারেন নি। অবসর নেয়াটা তাঁর ও দেশের জন্য ভাল।

মোঃ আতাউর রহমান

৩ মাস আগে

হাসিনার ভাবমূর্তি নেগেটিভ, আপনারা পত্রিকাগুলো র ডিজিআইএফ এর ফাঁদে পড়ে তা পজিটিভ করার কতই না কষ্ট করে নতুন নতুন বয়ান সৃষ্টি করছেন। আপনাদেরকে বাহবা না দিয়ে কি পারা যায়!!!

আলমগীর

৩ মাস আগে

আসলে কয়লা ধুইলে ময়লা যায় না।

Hedayetullah

৩ মাস আগে

শেখ হাসিনাকে সাপোট করে ভারত এখন সুবিধা করতে পারবে না এটা বুঝেই তারা বর্তমানে বিএনপির উপর ভর করেছে। কিন্তু তাই বলে হাসিনাকে পছন্দ করবে না তা নয়। হাসিনা ও শত সহস্র নেতা কর্মীদের অবৈধ ভাবে রাখতেছে। সেটা নিয়ে তারা চুপচাপ আছে।

Mustaque Chowdhury

৩ মাস আগে

সৈরাচার তার গদির মায়া ছাড়তে পারেনি? মরার সময় এসেছে/তাও ক্ষমতার লোভ! খুনী হাসিনার মৃত্যু হবে ভারতে।বাংলাদেশে কবরের জায়গা পাবে না।

সারথী

৩ মাস আগে

শেখ হাসিনা যে পরিমাণ অপকর্ম করেছেন ,তার পক্ষে এই বাংলার মাটিতে রাজনীতি আর সম্ভব হবে না, তাকে বাংলার জনগণ এবং নিবেদিত আ'লীগ কর্মীরা মেনে নেবে না, সে এবং তার অপকর্মের সহযোগীরা কখনো বাংলার জনগণ এবং নিঃস্বার্থ আ'লীগ এর সমর্থকদের কথা চিন্তা করে নাই। সে বঙ্গবন্ধু এবং বাংলার জনগণকে অপমান করেছেন।

মন্তব্য করুন