উখিয়ায় দখল-সিন্ডিকেটের বেপরোয়া দৌরাত্ম্য

ফন্ট সাইজ:

কক্সবাজারের উখিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমি এখন যেন ইয়াবা কারবারিদের দখল উৎসবে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মাদকের অবৈধ টাকায় গড়ে উঠছে একের পর এক বহুতল অট্টালিকা। আর এ সবকিছু ঘটছে প্রশাসনের চোখের সামনেই, কিংবা চোখ বন্ধ রেখেই। উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং পূর্বপাড়া এলাকার ‘স্বর্ণ পাহাড়’ এখন এ দখলযজ্ঞের বড় উদাহরণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, মৃত ইলিয়াস ওরফে রোহিঙ্গা ইলিয়াসের ছেলে মোহাম্মদ হারুন ও তার ভাই মোহাম্মদ মামুন সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে পাঁচতলা ভবন নির্মাণ শুরু করেন। ইতিমধ্যে তিনতলা পর্যন্ত কাজ শেষ, বাকি অংশ দ্রুত এগিয়ে চলছে। একই চিত্র কুতুপালং পিএফ পাড়া, দক্ষিণ স্টেশন কাঁচাবাজার ও শৈলরডেবা এলাকা জুড়েও। কেড়ু বড়ুয়া, কথিত শীর্ষ ইয়াবা কারবারি মামুন, মাহমুদুল হক ও পুলিন বড়ুয়াসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বন বিভাগের জমিতে ডুপ্লেক্সসহ বহুতল স্থাপনা গড়ে তুলছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, এই নির্মাণকাজ চলছে প্রকাশ্যে নয়, বরং পরিকল্পিত গোপনীয়তায়। কালো ত্রিপল দিয়ে ঢেকে, রাতের আঁধারে গড়ে তোলা হচ্ছে ভবন। যেন আইনের চোখ ফাঁকি দেয়াই প্রধান লক্ষ্য। স্থানীয়দের ভাষ্য, উখিয়ায় ইয়াবা ব্যবসা এখন শুধু অপরাধ নয়, এটি হয়ে উঠেছে দ্রুত ধনী হওয়ার শর্টকাট। অল্প সময়েই কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া এসব কারবারি বনভূমি দখল করে অট্টালিকা, শোরুম, সুপার শপসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করছে। এতে একদিকে বাড়ছে মাদকের বিস্তার, অন্যদিকে ধ্বংস হচ্ছে বন ও পরিবেশ। বন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ, কীভাবে গোপনে স্থাপনা নির্মাণ করতে হবে, সে পরামর্শও দেয়া হয় সংশ্লিষ্টদের। আর যখন বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে, তখনই দায় এড়াতে দায়সারা মামলা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রশ্ন উঠছে, যেখানে সংরক্ষিত বনভূমিতে একটি ঘর তুলতেও নিয়ম-কানুনের কঠোরতা, সেখানে বছরের পর বছর ধরে বহুতল ভবন কীভাবে গড়ে ওঠে। প্রশাসনের নজরদারি কি আদৌ আছে, নাকি সবই দেখেও না দেখার ভান। উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম শাহিন বলেনÑ অভিযোগ তাদের নজরে এসেছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে স্থানীয়দের মতে-এ ধরনের ‘ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস’ বহুবার শোনা গেলেও বাস্তবে দখল ও নির্মাণ থামেনি। বিশ্লেষকদের মতে, উখিয়ার বনভূমি এখন ইয়াবা অর্থ সাদা করার নিরাপদ ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। ফলে মাদক সিন্ডিকেট যেমন শক্তিশালী হচ্ছে। তেমনি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য পড়ছে চরম হুমকির মুখে।
স্থানীয়দের জোর দাবি, অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধান, ইয়াবা কারবারিদের তালিকা প্রণয়ন এবং বনভূমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কঠোর অভিযান ছাড়া এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে উখিয়ার বনভূমি দখলের এই বেপরোয়া প্রবণতা আরও ভয়াবহ রূপ নেবে এমন আশঙ্কা তাদের।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন