ব্র্যান্ডিং, দক্ষতা ও কূটনীতি তিন দিকেই নজর দিতে আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

ব্র্যান্ডিং, দক্ষতা ও কূটনীতি তিন দিকেই নজর দিতে আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

ফন্ট সাইজ:

দেশের বৈদেশিক আয়ের টেকসই ভিত্তি গড়ে তুলতে ব্র্যান্ডিং, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, ‘গার্মেন্টস ও রেমিটেন্সনির্ভর অর্থনীতির ঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে নতুন বাজার, বিনিয়োগ ও দক্ষ শ্রমশক্তি রপ্তানির দিকে নজর দিতে হবে।’

রোববার রাজধানীর এক‌টি হোটেলে ‘সীমানা ছাড়িয়ে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং’ শীর্ষক ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সিরিজ-২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘আমার নিজস্ব কিছু অভিজ্ঞতাও হয়েছে এবং ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে প্রথমেই একটু পরিষ্কার একটা ধারণা থাকা দরকার। আমরা কাদের কাছে ব্রান্ডিং করবো এবং কী ব্রান্ডিং করব, সেটা কম-বেশি আমাদের সবারই জানা উচিত। এজন্য কাদের কাছে ব্রান্ডিং করছি, টার্গেটটাকে অবশ্যই ওভারসিজ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের গার্মেন্টস শিল্প, এখানে বিনিয়োগকারীরা আসেন কারণ সস্তায় শ্রমিক পাওয়া যায়। চীন ও ভিয়েতনামের সঙ্গে আমরা টিকে আছি এ সেক্টরে এই কারণেই। কিন্তু এটা বেশি বছর থাকবে না। আগামী ২০৪০-৪৫ সালের পর থেকে এই ডেমোগ্রাফিক্যাল ডিভিডেন্ড ফুরিয়ে যাবে। এটা থাকতে থাকতেই এটাকে ব্র্যান্ডিং করতে হবে এবং যারা বিশেষ করে বিডা, তারপর অন্যান্য যারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সংস্থা আছে ভবিষ্যতের জন্য কতটা কাজে আসবে, কেন আসবে। এছাড়াও আমরা পিস মিশনে যাচ্ছি, আমাদের ক্রিকেটের সুনাম আছে, এগুলো এক ধরনের সফট ব্রান্ডিং। আপনার সুনাম কিন্তু যেটা থেকে সরাসরি পাওয়া যেতে পারে এবং একজন ইনভেস্টরের অথবা একজন ওভারসিজ অথরিটির মনে হতে পারে লেনদেন করা উচিত, তাকে ব্রান্ড করা দরকার, লোন দেয়া উচিত, তাদের সঙ্গে পার্টনারশিপ করা যায়। আমাদের ধরেন গার্মেন্টসের এক্সপোর্ট আর রেমিটেন্সের টাকা এই দুটোই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উৎস।’

তিনি বলেন, ‘গার্মেন্টস কিসের ওপরে দাঁড়িয়ে আছে আমরা সবাই বুঝি। আমাদের এই স্বল্প দক্ষ, স্বল্পশিক্ষিত বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর যে বেকারত্ব, এর কারণেই আমরা অন্যদের থেকে তুলনামূলকভাবে কমমূল্যে কম মজুরিতে উৎপাদন করতে পারছি। কোনো কারণে যদি বিনিয়োগকারীরা মনে করেন বেশি দাম দিয়ে চীন ও ভিয়েতনাম থেকে কিনবেন, তাহলে কিন্তু আমরা যে ৪০ বিলিয়ন ইনকাম করি, সেটা দ্রুতই কমে আসবে। আবার মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয়, লোকবল রিক্রুট বন্ধ করে দেয়, তাহলে আমরা খারাপ পরিস্থিতিতে পড়তে পারি। অলরেডি মোহাম্মদ বিন সালমান একটা পরিস্থিতি থেকে বলছেন, যত কম সংখ্যক লোক বাইরে থেকে নেয়া যায়।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন