সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হারানো চর্যাগানের পুনর্জাগরণ

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হারানো চর্যাগানের পুনর্জাগরণ

ফন্ট সাইজ:

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ। যা প্রায় এক হাজার বছরের পুরনো এক অমূল্য ঐতিহ্য। ইতিহাসবিদদের মতে, নওগাঁর সোমপুর বৌদ্ধবিহার ছিল চর্যা-সংস্কৃতির বিকাশের অন্যতম কেন্দ্র। এই বিহারে নিয়মিত চর্যাগীতি, নৃত্য ও নাট্যচর্চা চলতো। এই সাংস্কৃতিক ধারা শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ ছিল না বরং ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল হয়ে নেপাল ও তিব্বত পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। তবে সময়ের পরিবর্তনে বাংলায় বহিরাগত শাসনের প্রভাবে প্রাচীন বৌদ্ধ সংস্কৃতির এই চর্যা চর্চা বিলুপ্ত হয়ে যায়। এই প্রেক্ষাপটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রতি সপ্তাহে বসছে চর্যাগানের আসর। ভাবনগর ফাউন্ডেশনের প্রচেষ্টা ও সাধনার মাধ্যমে বাংলাদেশের সাধকশিল্পীদের মাঝে এই প্রাচীন ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ ঘটিয়েছে। ভাবনগর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০১৪ সাল থেকে প্রতি বুধবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নিয়মিতভাবে ভাবনগর সাধুসঙ্গের সাহিত্য-সাংস্কৃতিক আসর বসে। ইতিমধ্যে তাদের ৬০০তম আসর আয়োজিত হয়েছে। ভাবনগর সাধুসঙ্গের এই সাপ্তাহিক সাহিত্য-সাংস্কৃতিক আসরের একদিকে থাকে ধ্রুপদী থেকে সাম্প্রতিক সাহিত্যের পাঠ আলোচনা এবং অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী সংগীতের উপস্থাপনা। যাতে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অর্থনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলার বাউল-ফকিররা নিয়মিতভাবে চর্যাগান পরিবেশন করছেন। দৈনিক মানবজমিনের সঙ্গে কথা হয় ভাবনগর সাধুসঙ্গ আসর আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা ড. সাইমন জাকারিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ভাবনগর ফাউন্ডেশন ২০১১ সালের মার্চে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে। মূল উদ্দেশ্য হলো- বাংলাদেশের প্রাচীন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চা পৃষ্ঠপোষকতা করা, চর্চাকারীদের স্বীকৃতি দেয়া এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা। দেহ সাধনার ধারা, গান পরিবেশনের ধারা, বাদ্যযন্ত্র, নাচ ও নাটকের সব ধারা ধরে রাখতে ভাবনগর ফাউন্ডেশন কাজ করে আসছে। চর্যাপদ গানের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি জানান, চর্যাপদে ‘বাজিল’ ও ‘বাজুল’ শব্দ রয়েছে। যা থেকে বাউল শব্দের উৎপত্তি। সমাজে আমরা বাউলদের ভাসমান ভাবকে দেখি, কিন্তু তাদের ইতিহাস দেড় হাজার বছরের প্রাচীন। ভাবনগর আসরের সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, সাধুসঙ্গের মাধ্যমে মানুষের মনোজগতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এই চর্চা বাড়াতে পারলে আমাদের সমাজে যে সাম্প্রদায়িক সমস্যা, সামাজিক বিভেদ রয়েছে- তা কমে আসবে। ড. জাকারিয়া জানান, ভাবনগর ফাউন্ডেশন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে চর্যাপদের বিষয়ে কর্মশালার উদ্যোগ নেবে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে আদি সংস্কৃতি ছড়িয়ে যাবে এবং হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছাবে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন