৫২ বছর পর বিএনপি’র মতো বড় একটি রাজনৈতিক দলকে চ্যালেঞ্জ করে পিতার হারানো আসন উদ্ধার করলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যরিস্টার রুমিন ফারহানা। গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশাল ভোটের ব্যবধানে তিনি বিএনপি-জমিয়ত জোটের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবকে পরাজিত করে গড়লেন ইতিহাস। ফলাফলের কাগজ হাতে নিয়েই তিনি সোজা চলে দাদা-দাদির কবরের পাশে। আনন্দে ভাসছে সরাইল- আশুগঞ্জ চান্দুরা ও বুধন্তির লোকজন। প্রিয় সমর্থকদের অভিনন্দন আর ফুলেল শুভেচ্ছায় ভাসছেন তিনি। পারিবারিক সূত্র জানায়, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করছিলেন। জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করে দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। মনোনয়ন দিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবকে। এতে ক্ষুদ্ধ হন রুমিন। দলীয় জোটের প্রার্থী রেখেই হন স্বতন্ত্র প্রার্থী। প্রতীক নেন হাঁস। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জুনায়েদ আল হাবীবের প্রতীক খেজুরগাছ। দলের সিদ্ধান্ত হওয়ায় জেলা- উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা খেজুরগাছের পক্ষে মাঠে নেমে পড়েন। পদধারী ও পদবঞ্চিত অনেক নেতা আবার রুমিনের পক্ষে কাজ করেন।
এজন্য শতাধিক নেতাকে দল থেকে বহিষ্কারও করেছে বিএনপি। নানা প্রতিবন্ধকতা প্রতিকূলতা ভেদ করে মূল লক্ষ্যে এগুতে থাকেন রুমিন। এক সময় নির্বাচনী এলাকার ১৯ ইউনিয়নে রুমিনের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়। প্রত্যেকটি উঠান বৈঠক ও সভায় হাজার হাজার নারী-পুরুষ জড়ো হতে থাকেন। হাটে-ঘাটে-মাঠে- পথে-প্রান্তরে হাঁসের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। জয়লাভ করাটা যেন মাত্র সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৫১টি কেন্দ্রে একসঙ্গে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার পরও অত্যন্ত শান্ত পরিবেশে অবাধ ও নিপেক্ষভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়। রাত ১১টার পর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন প্রথমে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুবকর সরকার ও পরে রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার।
চূড়ান্ত পর্যায়ে রুমিনের হাঁস প্রতীক ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে বেসরকারি নির্বাচিত হয়। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জুনায়েদ আল হাবীবের খেজুরগাছ প্রতীক পেয়েছে ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট। ১৯৭৩ সালে পিতার জয়কে ছিনিয়ে হারোনোর পর থেকে এই আসনটি উদ্ধারের স্বপ্নপূরণ হয়েছে রুমিন ফারহানার। নির্বাচনী এলাকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা ও ভালোবাসায় এটা সম্ভব হওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ব্যরিস্টার রুমিন ফারহানা এই জয়ে মহান রবের কাছে শুকরিয়া আদায় করে বলেন, নির্বাচনী এলাকার লোকজন ব্যালটের মাধ্যমে আমার উপর করা অন্যায়-অত্যাচার ও জুলুমের প্রতিবাদ করেছেন।
আমার প্রতি তাদের আন্তরিকতা ও ভালোবাসার ঋণ কোনোদিনও শোধ করতে পারবো না। আল্লাহ্র রহমতে তাদের সহযোগিতায় পিতার হারানো আসনটি উদ্ধারের স্বপ্নপূরণ হয়েছে। এখন আমি তাদের সুখ-শান্তি ও কল্যাণের জন্য কাজ করবো। নির্বাচনটি স্বচ্ছতার সঙ্গে সফল করায় প্রশাসন তথা পুলিশ, সেনাবাহিনী বিজিবি, র্যাব ও আনসার সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

Andalib
৪ মাস আগেCongratulations to Rumin for her thumping victory.