মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অজুহাতে অকার্যকর হয়ে পড়েছে রাজধানীর বাজার ব্যবস্থা। ফলে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দামই বেড়েছে। মজুত থাকা সত্ত্বেও মিলছে না বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল। সোনালি মুরগির দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে।
এ ছাড়া সবজির দামও নাগালের বাইরে। সবমিলিয়ে নিত্যপণ্যের বাজার এখন সীমিত আয়ের মানুষের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে পড়েছে। শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, সেগুনবাগিচার কাঁচাবাজারসহ কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।
সয়াবিনের দাম বেশি, সরবরাহ কম: দোকানগুলোতে ৫ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল মিললেও সরবরাহ কম। আধা লিটার, এক ও দুই লিটারের বোতল বেশির ভাগ দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কিছু দোকানে খোলা সয়াবিন তেল মিললেও তা বিক্রি হচ্ছে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশিতে। এখন সরকার নির্ধারিত এক লিটার বোতলজাত তেলের দাম ১৯৫ টাকা। অন্যদিকে, খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৬ টাকা ও পাম তেলের নির্ধারিত দাম ১৬৪ টাকা। তবে বাজারে খোলা সয়াবিন ২০০ থেকে ২১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আর পাম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ডিলাররা তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। এ অবস্থা মাসখানেকের বেশি সময় ধরে চললেও গত তিন-চারদিন ধরে একেবারে অর্ডার নেয়াই বন্ধ করে দিয়েছেন। এদিকে ভোজ্য তেলের সরবরাহ সংকট দূর করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেয়া হয়। এর আগে বুধবার ক্যাব মানববন্ধন কর্মসূচিতে এই খাতে সিন্ডিকেট হচ্ছে বলে দাবি করেছে।
সোনালি মুরগির দামে রেকর্ড: ব্রয়লার মুরগির দাম স্থিতিশীল থাকলেও ঈদের পর থেকে রেকর্ড সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে সোনালি মুরগি। এক মাসের ব্যবধানে সোনালি মুরগির দাম ৮০ টাকা বেড়ে ৪৩০ টাকা আর ব্রয়লার মুরগি একদিনের ব্যবধানে ২০ টাকা বেড়ে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; যেখানে ঈদের আগে সোনালি মুরগি বিক্রি হতো ৩৪০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা এবং ব্রয়লার ১৭০ টাকায়। তবে গত সপ্তাহের চেয়ে এই সপ্তাহে দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। প্রতি কেজি সোনালি মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে, যা ক’দিন আগেও ৪৫০ টাকায় উঠেছিল। খামারিরা বলছেন, খামারে খামারে বার্ড ফ্লুসহ নানান রোগে ব্যাপক হারে মুরগি মারা যাচ্ছে। যে কারণে সরবরাহ কমে গেছে এবং দামও বেড়েছে। কাওরান বাজারের বিক্রেতা লতিফ জানিয়েছেন, দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে সোনালি মুরগির চাহিদাও অনেক কমে গেছে।
মাছের দামও বাড়ছে: মুরগির পাশাপাশি মাছের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। আগে পাঙাশ মাছ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে তা বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায়। ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায়, যা গত তিনদিন আগেও বিক্রি হতো ২৮০ টাকা দরে। আর দুই কেজির চেয়ে বেশি ওজনের রুই মাছ ৩০ থেকে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে তা বিক্রি হচ্ছে ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকায়। এ ছাড়া তেলাপিয়া, পাবদা, শোল, টেংরাসহ সব মাছই কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দামে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে।
ইলিশের দাম আকাশছোঁয়া: পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে ইলিশের দাম নাগালের বাইরে। বর্তমানে ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ইলিশ ২৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আর ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৮০০ টাকায়। এক কেজি ওজনের মাছ ৩০০০ থেকে ৩২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রত্যেক মাছেই কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া মাছের আমদানিও কমে গেছে।
ডিমের দামও চড়া: বাজারে বেড়েছে ডিমের দাম। ফার্মের মুরগির প্রতি ডজন ডিম ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১১০ টাকার মধ্যে। পাড়া-মহল্লার কিছু কিছু খুচরা দোকানে ডিম ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা ডজনে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বেড়েছে সবজির দাম: গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বাজারে বেড়ে গেছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম। গেল কিছুদিনের তুলনায় প্রতিটি সবজির দাম এখন বাড়তি যাচ্ছে বাজারে। বাজারে প্রতি কেজি গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, বরবটি প্রতি কেজি ১০০ টাকা, ঝিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, মুলা প্রতি কেজি ৫০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, শিম প্রতি কেজি ৮০ টাকা, পটোল প্রতি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতি পিস ৪০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুর লতি প্রতি কেজি ৮০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৭০ থেকে ৮০ টাকা, সজিনা প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মিলন আজাদ
৩ মাস আগেসরকারের নীরবতা দাম বাড়ার মূল কারণ দাম বাড়লে সব চেয়ে বেশী ভুক্তভোগী মধ্যবিত্ত সহ সকল শ্রেনীর ভোক্তা সরকারের উচিৎ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে জরুরীী পদক্ষেপ নেওয়া।