বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ছুটি ও ভোটগ্রহণের আগে-পরে যানবাহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ ছিল। যদিও নিত্যপণ্যের মতো প্রয়োজনীয় পণ্য বহনকারী যানবাহন এর আওতার বাইরে ছিল, তারপরও ঢাকার বাজারে পণ্যের সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। ফলে আলোচ্য সময়ে সবজি, মুরগি, পিয়াজসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে।
ঢাকার খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সীমিত পরিবহন চলাচল করায় দেড় থেকে দ্বিগুণ বেড়েছে পরিবহন খরচ, যা সরাসরি প্রভাব ফেলেছে কাঁচাপণ্যের দামে। ক্রেতা না থাকায় বিক্রেতাও কম। ফলে বেচাকেনা জমে ওঠেনি। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি সবজি ভোটের আগের সময়ের চেয়ে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে, ভোটের কারণে ঢাকার বাজারে মানুষের চাপও কমেছে। বাজারে ক্রেতা উপস্থিতিও কম, যে কারণে বেচাবিক্রিও কমেছে। খরচ বেশি পড়ায় অনেক বাজারের দোকানি ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা সবজি নিয়ে আসেননি। অনেক দোকানও বন্ধ দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলেন, সরবরাহ যেমন কম, ক্রেতাও কম। যে কারণে দাম ১০-২০ টাকা বাড়লেও নাগালের মধ্যে রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের মতো ক্রেতা থাকলে দাম আরও কয়েকগুণ বাড়তো। বৃহস্পতিবার রাতে কাওরান বাজারে সবজি আমদানি কম হয়েছে। যে কারণে শসা, মটরশুঁটি, ফুলকপি, বাঁধাকপি কিনতে পারিনি। এগুলো দোকানেই নেই।
কাওরান বাজারে পাইকারি দোকানেও বিক্রির আমেজ নেই। কেউ কেউ দোকান খুললেও খোশগল্প কিংবা মুঠোফোন নিয়ে ব্যস্ত। পিয়াজ ও রসুনের আড়তে দেখা যায়, বিক্রি না থাকায় ঘুমিয়ে আছেন এক বিক্রেতা। সবজি বিক্রেতা আরিফ জানান, টুকটাক বিক্রি হচ্ছে। দুই-এক দিন পর মানুষ ঢাকায় ফিরলে হয়তো বিক্রি বাড়বে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বেগুন, ঝিঙা, শসা, ঢ্যাঁড়শ, চিচিঙ্গা, বাঁধাকপি, ফুলকপিসহ অন্যান্য সবজি এক থেকে দু’দিনের বেশি মজুত করা যায় না। এর বেশি হলে এসব সবজি নষ্ট হতে শুরু করে। ভোটে যানবাহন বন্ধ থাকায় বাজারেই সবজি সরবরাহ কম। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে। এদিকে, আরও কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এখন প্রতি কেজি শসা ৮০ থেকে ১০০ ও টমেটো ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ দুই সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়েছে। এছাড়া কাঁচামরিচ ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ভোটের আগের চেয়ে ৪০ টাকা বেশি। এদিকে, প্রতি কেজি শিম, মুলা, পেঁপে মানভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকায় হচ্ছে। এদিকে, হাইব্রিড করলা ও মটরশুঁটির দাম উঠেছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়।
অন্যদিকে, বাজারে প্রতিকেজি পিয়াজের দাম বেড়েছে ১০ টাকা। প্রতি কেজি ৫০ টাকার পিয়াজ এখন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে কেজি প্রতি ২০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি ২০০ থেকে ২১০ টাকা বিক্রি হতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, সোনালি মুরগির কেজি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা। তবে বাজারে তেল, চিনির মতো মুদিপণ্যের দামে খুব একটা হেরফের হয়নি। ডিমের দাম প্রতি ডজন ১১০-১১৫ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে।
রাজধানীতে বিভিন্ন বাজারে লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। তবে পাকা লেবু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা হালি। বিক্রেতারা বলেন, পবিত্র রমজানের পাশাপাশি মৌসুম না থাকায় সরবরাহ কম হওয়ায় দাম বেড়েছে। এ ছাড়া পাইকারি কিনতে হচ্ছে বেশি দামে, তাই বিক্রিতেও দাম বেশি।
ভোটের ছুটিতে সরবরাহ কমায় বাড়লো নিত্যপণ্যের দাম
অর্থনৈতিক রিপোর্টার
১৪ ফেব্রুয়ারি (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
