কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে ৭৪ হাজার ৬৪৩ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সিনিয়র এডভোকেট বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। শুক্রবার দুপুরে ফজলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, ৫ই আগস্টের পরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, মানুষের মুক্তির পক্ষে, এদেশের অসাম্প্রদায়িকতা, ধর্ম নিরপেক্ষতার পক্ষে, মানুষের পেটের ভাত, পরনের কাপড়ের পক্ষে, মানুষের চাকরি কর্মসংস্থানের পক্ষে আমার যে ভূমিকা ছিল, আমি সেই কাজগুলো থেকে এক মুহূর্তের জন্যও বিরত হবো না; বরং আরও সাহসিকতার সঙ্গে সমস্ত জিনিসগুলো সংসদে তুলে ধরবো। সংসদে সেগুলোকে বাস্তবায়ন করানোর চেষ্টা করবো। এলাকার মানুষ, আমার দল বিএনপি ও আমার দলের নেতা তারেক রহমানসহ দলের নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আশা করছি আমি দলের পক্ষে কঠিন, বড় ও ভালো ভূমিকা পালন করতে পারবো। ইটনা উপজেলার বড়হাটি গ্রামের ঐতিহ্যবাহী শাহী মসজিদে জুমার নামাজ শেষে ফজলুর রহমান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি এই এলাকার মানুষকে বলবো আপনাদের জন্য যা করার দরকার, উন্নয়নের জন্য যতটুকু আমার দ্বারা সম্ভব ও বাংলাদেশের জন্য সঙ্গতিপূর্ণ সমস্ত কাজগুলো আমি করার চেষ্টা করবো। আমার এলাকার জনগণ যারা শত নির্যাতন সহ্য করে, যারা শত অসুবিধার মধ্যেও আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন, আমার এলাকার জনগণের প্রতি সালাম ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
ফজলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে বলছি- আপনারা গত কয়েক বছর ধরে বিশেষ করে ৫ই আগস্টের পর আমার যে রোল, আমার যে ভূমিকা বাংলাদেশের রাজনীতিতে, যখন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে চিরতরে অন্ধকারে নিক্ষেপ করার জন্য মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করেছিল। বাংলাদেশ যখন নিশ্চুপ ছিল ভয়ে হোক, ভীতির কারণে হোক, স্বার্থের কারণে হোক, তখন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে আমি আমার উচ্চ কণ্ঠ উচ্চকিত করেছিলাম।
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে ফজলুর রহমান ১ লাখ ৩২ হাজার ৪৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যের জামায়াতের প্রার্থী এডভোকেট রোকন রেজা শেখ পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৮২৯ ভোট। এ ছাড়া নির্বাচনে বাকি ছয় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এর আগে ফজলুর রহমান ইটনা শাহী মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। তিনি মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন, ১৯৯৬ সালের ১২ই জুনের নির্বাচনের সময় আমি নিয়ত করেছিলাম, নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর এই মসজিদে দুই রাকাত নামাজ আদায় করবো। কিন্তু আমার জয় সেদিন লুট করে নেয়া হয়েছিল। এরপর ৩০ বছর আমি আর এই মসজিদটিতে নামাজ পড়তে আসিনি। আজকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাকে আপনাদের দোয়ায় বিজয়ী করেছেন। তাই আমি এখানে নামাজ আদায় করতে এসেছি। এদিকে ফজলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় এই সংসদীয় আসনের তিন উপজেলা ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের প্রায় প্রতিটি মসজিদে জুমার নামাজের পর বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া অনেকে ব্যক্তিগতভাবে দোয়ার আয়োজন করেছেন।
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সংসদে কথা বলবো: ফজলুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ থেকে
১৪ ফেব্রুয়ারি (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%

কৃষিবিদ ড. এস এম ফেরদৌস
৪ মাস আগেশ্রদ্ধাভাজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান -এর বক্তব্য ষ্পষ্ট ও যুক্তিযুক্ত। তবে মানুষকে একটি বিশেষ ভাষায় গালি দেওয়া যেমন-........বাচ্চা না বলাই ভাল। অন্যভাবেও বলা যায়........। আপনার গঠনমুলক ভূমিকা সংসদ ও দলের মধ্যে দেখতে পাবো এই আশা করছি।