রিসেট

‘মানুষ হয়ে জন্মেছি এটা এই জীবনের সৌভাগ্য’

প্রকাশিত: ১৯ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার), ২০২৩ Archive 2022Source: স্টাফ রিপোর্টার

মানুষ হয়ে জন্মেছি এটা এই জীবনের সৌভাগ্য। এর মাঝে সমাজের জন্য কাজ করতে পারাও অত্যন্ত গৌরবের। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে কেন্দ্রের সভ্য সংঘ আয়োজন করে ‘আলোর পথযাত্রা’ শিরোনামে বিশেষ অনুষ্ঠান। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে কেন্দ্রের সভ্য সংঘ আয়োজন করে ‘আলোর পথযাত্রা’ শিরোনামে বিশেষ অনুষ্ঠান। কেন্দ্রের প্রাক্তন সভ্যরা (শিক্ষার্থী) বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র সম্পর্কে ভাবনা-স্মৃতি, আলোচনা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে বর্ষপূর্তি উদ্‌যাপন করেন।

রোববার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত কেন্দ্রের মিলনায়তনে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সভাপতিত্বে স্মারক বক্তা ছিলেন দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম। ‘আমার চোখে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র’ শিরোনামে স্মারক বক্তৃতায় মাহফুজ আনাম তিনটি বিষয়ের উপরে আলোকপাত করেন। ব্যক্তি হিসেবে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এবং কীভাবে বিশ্বসাহিত্য  কেন্দ্র একটি জাতীয় সম্পদে পরিণত হয়েছে এবং একে কীভাবে আরও সমৃদ্ধ করা যেতে পারে। 

মাহফুজ আনাম উল্লেখ করেন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বাংলাদেশের সফল প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি। যদি এটি তৈরি না হতো তাহলে হয়তো আমরা এমন একটি প্রতিষ্ঠানের স্বপ্ন  দেখতাম। এই প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে আরও বড় ও সমৃদ্ধ করা  যেতে পারে সেটা  সবাইকে ভেবে দেখার কথাও বলেন তিনি। পাশাপাশি বিশ্বসাহিত্য  কেন্দ্রের সকল কার্যক্রমে  ডেইলি স্টার-এর পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, এই সমাজে বই পড়ানো কঠিন কাজ। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের বয়স হিসেবে, শ্রেণি বিবেচনা করে পাঠক্রম সাজানো অনেক চ্যালেঞ্জ। এই অসাধ্য সাধন করেছেন একজন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। তার প্রতি আমাদের গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। স্যারের নিরলস পরিশ্রম আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়।

তিনি আরও বলেন, তবে এই কথা স্বীকার করতেই হবে একটি দেশকে এগিয়ে নিতে বিশ্বসাহিত্য  কেন্দ্রের মতো উদ্যোগের তুলনা হয় না। এর মধ্যে  কেন্দ্র আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য আত্মপরিচয় নির্মাণ করে ‘বাঙালির চিন্তামূলক রচনা সংগ্রহ’র অনন্য উদ্যোগ নেয়। আমি ও আমাদের প্রতিষ্ঠান   এমন ভালো ভালো কাজের সংবাদ ছড়িয়ে দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমি প্রায় শুরু থেকে আছি, আর  কেন্দ্রের সঙ্গে থাকতে  পেরে গর্বিত।

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, মানুষ হয়ে জন্মেছি- এটা এই জীবনের সৌভাগ্য। এর মাঝে সমাজের জন্য কাজ করতে পারাও অত্যন্ত  গৌরবের। ৪৫ বছর ধরে আমরা আনন্দের সঙ্গে  গৌরবের কাজটি করে চলেছি। অর্থাৎ, মানুষকে বই পড়ার কথা বলে যাচ্ছি। মাত্র ১০ জন সভ্যকে নিয়ে আমাদের ‘পাঠচক্র’ শুরু করেছিলাম। এখন দেড়  কোটি মানুষকে এতে যুক্ত করতে পেরেছি। আশা করি তা দুই কোটি হবে। আগামী বছরে এই মাইলফলকটি অর্জিত হবে।’

বই নিয়ে চলতে, বইয়ের কথা বলতে আমার ক্লান্তি আসে না, আনন্দ পাই। এক জীবনে বলে এসেছি আরও বলে যাবো মানুষের ভালোবাসা আমার চলার প্রেরণা,’  যোগ করেন তিনি।

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রাক্তন সভ্য সংঘের যাত্রাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গত ৪৫ বছরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে সভ্য সংঘের আওতায় নিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা আছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কথা বলেন, প্রাক্তন সভ্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শাকিল আহম্মেদ।  ফেরদৌস বাপ্পির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন কেন্দ্রের শিল্পীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

১৯৭৮ সালের ১৭ই ডিসেম্বর ৪৫ বছর আগে যাত্রা শুরু হয়েছিল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের। প্রতিষ্ঠার এই দীর্ঘ পথচলায় আলোকিত মানুষ গড়তে এখানে মিলিত হয়েছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী, যারা খ্যাতনামা সব লেখকদের বই পাঠ ও সৃজনীকলার নানা মাধ্যমে জ্ঞান চর্চার মধ্যদিয়ে নিজেদের উন্নত মানুষ হিসেবে গড়ে  তোলার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। এখানে আয়োজিত বিভিন্ন পাঠচক্র, জাতীয়ভিত্তিক মানসিক উৎকর্ষ কার্যক্রম, কলেজ কর্মসূচি, জ্ঞানার্থী পরিষদ ও আলোর ইশকুলের মাধ্যমে লাখো সভ্য ছড়িয়ে আছেন দেশ ও দেশের বাইরে।  সেইসব সভ্যরা একত্রে মিলিত হয়ে এক উদ্যোগ নিয়েছে। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘বিশ্বসাহিত্য  কেন্দ্র প্রাক্তন সভ্য সংঘ’।  কেন্দ্রের পাশে দাঁড়াবার প্রত্যয় নিয়ে নানান গঠনমূলক বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা ছাড়াও একে অন্যের পাশে থাকার লক্ষ্য নিয়েই সভ্য সংঘের যাত্রা।