রিসেট

রামগতিতে জেলেদের ৬শ’ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর (রবিবার), ২০২৩ Archive 2022Source: রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ঘূর্ণিঝড় মিধিলি’র প্রভাবে মেঘনা নদীর তীরে থাকা ইঞ্জিনচালিত নৌকা ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যাওয়া জেলেরা এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত তিনশ’ পরিবার মানবেতর ও দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। সরজমিন জানা যায়, সাম্প্রতিক মেঘনায় ঘেঁষা রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ইঞ্জিনচালিত বেদে জেলেসহ ৭০টি নৌকা, বড়খেরী ইউনিয়নে ৫০টি, আলেকজান্ডার ২০টি,  রামগতি পৌরসভা ৫টি, চর আলগী ৫টি ও চররমিজে ১০টি নৌকা সম্পূর্ণ ও চরগাজী ইউনিয়নে ৫০টি, বড়খেরীতে ৩০টি, আলেকজান্ডারে ৩০টি, পৌরসভায় ১৫টি, চরআলগীতে ৫টি ও চররমিজ ইউনিয়নে ১৫টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতির মূল্য প্রায় ৬শ’ কোটি টাকা। এ ছাড়া আলেকজান্ডার ইউনিয়নের লম্বাখালী মাঝের চরে ৫০টি ভেড়া মরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান ভেড়ার মালিক নুরনবী হাওলাদার, মনির হোসেন, মো. জাফরে ও আবদুল মুনাফ। নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে নুর আলম মাঝি, কুট্টিমাঝি, বাসু মাঝি, আবুল কালাম মাঝি বলেন, হঠাৎ ঘূর্ণিঝড়ে কূলে রাখা আমাদের নৌকাটি বাতাসে দুমড়ে মুচড়ে ভেঙে ফেলে। আমাদের পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো উপায় দেখছি না। তারা আরও বলেন, আমাদের নষ্ট হওয়া নৌকা মেরামতে সরকারিভাবে অর্থ বরাদ্দ পেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে দু’মুঠো ভাত খাওয়ার সুযোগ পাবো। এ বিষয়ে চরগাজী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তাওহীদুল ইসলাম সুমন বলেন, আমার ইউনিয়নটি বঙ্গোপসাগরের  মোহনায় হওয়ায় বাতাসের তীব্র বেগে প্রায় শতাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌকা নষ্ট হয়েছে। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা পরিষদ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য চাল বরাদ্দ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তুলনায় যে চাল বরাদ্দ হয়েছে তা একেবারেই অপ্রতুল। আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা ভালোভাবে প্রস্তুত করে যাচ্ছি। বড়খেরী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাসান মাকছুদ মিজান বলেন, ঘূর্ণিঝড় মিধিলি’র প্রভাবে আমার ইউনিয়নে প্রায় শতাধিক নৌকা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা তাদেরকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করার চেষ্টা করছি। রামগতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আজাদ হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় মিধিলি’র প্রভাবে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের খোঁজখবর নিয়ে তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা চলছে।