নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ, গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষে প্রথম দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। এতে অংশ নিতে আদালতে হাজির ছিলেন ড. ইউনূস। আগামী ২০শে নভেম্বর সোমবার ড. ইউনূসসহ ৪ জনের পক্ষে বিবাদী পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের নতুন দিন ধার্য করেছেন ঢাকার শ্রম আদালতের বিচারক বেগম শেখ মেরিনা সুলতানা। তবে ওই দিন বাদীপক্ষও যুক্তিতর্কের জন্য সময় পাবেন। আদালত থেকে বেরিয়ে ড. ইউনূসের আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, গত তারিখে আমি বলেছিলাম ড. ইউনূসের মামলাটি মেট্রোরেলের চেয়েও ১০ গুণ বেশি গতিতে তারিখ পড়ছে। আজকে বলছি- মেট্রোরেল নয়, বোয়িং বিমানের চেয়েও ১০ গুণ বেশি গতিতে এই মামলায় তারিখ পড়ছে। এক মাসে এই মামলার ৫টি ডেট দিয়েছেন আদালত। আর মাত্র তিন দিন পর অর্থাৎ আগামী ২০শে নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন। অথচ এই আদালতেই ৫ বছর, ১০ বছর আগের মামলা এখনো পড়ে আছে। সাক্ষী হচ্ছে না। ফলে বিচার পাচ্ছে না ভুক্তভোগীরা। মামলাটির কার্যক্রম চলছে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে।
এই আইনজীবী বলেন, আইন, আইনের গতিতে চললে ড. ইউনূসসহ সবাই এই মামলা থেকে খালাস পেতে আইনগত বাধ্য। ড. ইউনূস আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আর শ্রদ্ধাশীল বলেই ২০৫ ধারা অনুযায়ী ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি থাকার পড়েও তিনি ও অন্য তিনজন আদালতে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আজকে যে তিনটি অভিযোগ লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে- এই তিনটি অভিযোগ লঙ্ঘনের সঙ্গে ড. ইউনূসের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। একথা জেরায় মামলার বাদী নিজেই স্বীকার করেছেন। অন্যরাও বলেছেন- উনার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। যদি কারও সংশ্লিষ্টতা না থাকে তা হলে তাকে কেন আসামি করা হলো। তিনি আরও বলেন, যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে বাদীপক্ষ যা বলেছে যদি আইন ঠিক থাকে। আইন অনুযায়ী যদি বিচার হয় পৃথিবীতে কোনো শক্তি নাই এই মামলায় শাস্তি প্রদান করা। খালাস দেয়া ছাড়া।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে শুনানিতে অংশ নিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস আদালতে আসেন। তিনি দুপুর ২টায় আদালতের এক ঘণ্টা বিরতি বাদ নিয়ে বেলা পৌনে ৫টা পর্যন্ত আদালতে অবস্থান করেন। আদালতে অবস্থানকালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন মনোযোগ দিয়ে শোনেন। আদালতের কার্যক্রম শেষ হলে ড. ইউনূস আইনজীবীদের সঙ্গে বেরিয়ে আসেন। আদালতের বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি সুবিচার চাই।’ আদালতে ড. ইউনূসের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন ও ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ। অপরদিকে বাদীপক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী ও খুরশীদ আলম খান। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের বিষয়ে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, শ্রম আইনের কোন কোন বিষয় লঙ্ঘন করা হয়েছে সেগুলো আমরা আদালতে দেখিয়েছি। আদালত আমাদের বিভিন্ন প্রশ্ন করেছে আমরা তার উত্তর দিয়েছি। কারও প্রতি অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হয়ে এ মামলা করা হয়নি। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই করা হয়েছে।
