জাতীয় নির্বাচনে সব দল অংশ নেয়ার বিষয়ে কোনো আশঙ্কা আছে কিনা তা জানতে চেয়েছে সফররত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকনির্বাচন পর্যবেক্ষক দলটি গতকাল সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে জানতে চায়। এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে পৃথক বৈঠকেও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট এসব বিষয়ে আলোচনা করে দলটি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী বলেন, তাদের বলা হয়েছে বর্তমান সরকার চায়, সব দল নির্বাচনে আসুক। কিন্তু কে নির্বাচনে আসবে কে আসবে না, সেটি সেই দলের সিদ্ধান্ত।
আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ওনারা জিজ্ঞেস করেছেন, এ রকম আশঙ্কা করা হচ্ছে কি না, নির্বাচনে কে আসবে কে আসবে না। আমি বলেছি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার চায়, সব দল নির্বাচনে আসুক। আইনমন্ত্রী বলেন, তাদের সঙ্গে বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কোনো কথা হয়নি। সংলাপ নিয়েও তারা জিজ্ঞাসা করেনি। অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের মধ্যে পার্থক্যটি আছে কিনা এ বিষয়ে তারা জানতে চেয়েছে। বিষয়টি তাদের জানানো হয়েছে। প্রতিনিধি দলটি বিচারব্যবস্থা সম্পর্কেও জানতে চেয়েছে বলে উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক: রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আর ‘ভোট কারচুপির মনোবৃত্তি নেই’ বলে বাংলাদেশ সফররত যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলকে বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। নির্বাচনে এখন আর ‘আগের মতো সহিংসতা হয় না’ বলেও জানিয়েছেন তিনি। এ সময় বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরা প্রতিনিধিরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রী জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দলকে বলেছেন, ভোটে কারচুপি করে এখন পার পাওয়ার সুযোগ নেই। এই দাবির পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের মিডিয়া স্বাধীন। তারা যে কোনো সংবাদ যে কোনো সময় ছাপিয়ে দেয়। আমরা কারো কণ্ঠরোধ করি না। আমাদের তিন হাজারেরও বেশি দৈনিক সংবাদপত্র রয়েছে। এরপর রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। সেখানে তো নানা ধরনের সংবাদ দিয়ে থাকে। কাজেই এখানে দুর্নীতি করে কিংবা ভোট কারচুপি করে কেউ পার পাবে বলে আমার মনে হয় না, আমার বিশ্বাসও হয় না। মন্ত্রী বলেন, সেই ধরনের (কারচুপি) মনোবৃত্তি আমাদের রাজনৈতিক দলের এখন আর নেই। কারণ, এরা সবাই মনে করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন সুন্দর একটি নির্বাচন উপহার দেবে।
আমাদের দেশের লোক সবসময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চায় মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো রকম মারামারি দেশের মানুষ পছন্দ করে না। এখানে ভায়োলেন্স হবে বলে আমরা মনে করি না। আগে যে রকম সহিংসতা হতো, এখন সেই সহিংসতামুক্ত বলতে চাই। সহিংসতা হবে না। আমরা মনে করি আমাদের উপমহাদেশে নির্বাচন আসলেই উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই নির্বাচন আয়োজন করতে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর সক্ষমতা আছে কিনা, তারা তা জানতে চেয়েছিলেন। আমরা তাদের বিস্তারিত বলে দিয়েছি। এই নির্বাচন কমিশন ৫ হাজার ৩০০টি নির্বাচন করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সেখানে নিরাপত্তা বাহিনী নির্বাচন কমিশনের অধীনে থেকে নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। পুলিশ যথেষ্ট প্রশিক্ষিত, কীভাবে নির্বাচন ফেইস করতে হয় সেই জ্ঞান তাদের রয়েছে। একই রকমভাবে বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার নির্বাচনে ভূমিকা পালন করে। নির্বাচনে ছয় লাখের উপর আনসার পুলিশের পাশাপাশি মূল ভূমিকা পালন করবে। প্রয়োজনমতো নির্বাচন কমিশন সেনাবাহিনীও সহযোগিতা নেয়, আমরা তাদের সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছি।
নির্বাচনে যারা অংশ নেবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের নিরাপত্তা দিতে পারবে কিনা এবং বিরোধী দল নির্বাচনে এলে সঠিকভাবে প্রচারণা চালাতে পারবে কি না, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই প্রশ্ন করেন। জবাবে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় রিটার্নিং অফিসার হচ্ছেন সর্বময় ক্ষমতাধর ব্যক্তি। তার নেতৃত্বে তার এলাকার নির্বাচন হবে। নির্বাচনের সময় পুলিশ বাহিনী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়। ৯৯৯ ফোন করলে পুলিশ বাহিনী তৎপর থাকে। বিএনপি নির্বাচনে না এলে সহিংসতা হবে কি না, এ প্রশ্নে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আমি তো মনে করি তারা নির্বাচনে আসবে। আমি মনে করি বাংলাদেশে সরকার বদল করতে হলে ইলেকশনে আসতে হবে। ইলেকশন ছাড়া বাংলাদেশে সরকার বদল করার কোনো উপায় নেই। ইলেকশনে তাদের আসতেই হবে, আমরা এটি মনে করি।
আগামী সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর বিষয়টি মূল্যায়ন করতে গত শনিবার ঢাকায় আসে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) ও ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) সমন্বয়ে গঠিত মার্কিন প্রতিনিধি দলটি। নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে তারা ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করছে।
