রিসেট

প্রাণ ফিরেছে সিনেমার গানে

প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর (শনিবার), ২০২২ Archive 2022Source: ফয়সাল রাব্বিকীন

গত কয়েক বছর ধরে বিচ্ছিন্নভাবে সিনেমার গানে খানিক সফলতা দেখা গেলেও তাতে ধারাবাহিকতা ছিল না। পরবর্তীতে করোনার ধাক্কায় পুরো সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি নিয়েই হতাশা প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। সংগীত সংশ্লিষ্টরাও এ জায়গাটিতে সফলতা তুলনামূলক কম পাচ্ছিলেন। তবে গত ঈদ থেকে যেন বদলে গেছে দৃশ্যপট। সিনেমার গান প্রাণ ফিরে পেয়েছে গত কয়েক মাস ধরে। বিশেষ করে ‘হাওয়া’ সিনেমার ‘সাদা সাদা কালা কালা’, ‘আটটা বাজে দেরি করিস না’, ‘পরাণ’ সিনেমার ‘চলো নিরালায়’ গান ৩টির ব্যাপক সফলতাই বদলে দিয়েছে সিনেমার গানের অবস্থা। এরমধ্যে ‘সাদা সাদা কালা কালা’ গানটি গেয়েছেন আরফান মৃধা শিবলু। গানটির কথা ও সুর হাশিম মাহমুদের। সংগীতায়োজন করেছেন ইমন চৌধুরী। অন্যদিকে ‘আটটা বাজে দেরি করিস না’ গানটি গেয়েছেন বাসুদেব বাউল। সংগীতায়োজন করেছেন ইমন চৌধুরী। আর ‘চলো নিরালায়’ গেয়েছেন অয়ন চাকলাদার ও আতিয়া আনিশা। জনি হকের কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন নাভেদ পারভেজ। এ ৩টি গানের পর ‘অপারেশন সুন্দরবন’- ছবিতে ইমরান-কনার গাওয়া ‘তোর হাওয়াতে’- গানটিও সাম্প্রতিক সময়ে শ্রোতাপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এদিকে গতকাল মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হৃদিতা’- ছবিতে কবির বকুলের কথায় ইমরানের সুর-সংগীতে চন্দন সিনহার গাওয়া  ‘ঠিকানা বিহীন’- গানটিও প্রশংসিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে বাংলা সিনেমার গান নিয়ে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন সংগীত সংশ্লিষ্টরা। তাছাড়া গান শ্রোতাপ্রিয়তা পেলে সে ছবিও হিট হতে পারে তারও প্রমাণ দিয়েছে ‘হাওয়া’র ব্যবসায়িক সফলতা। এদিকে সিনেমার গানে প্রাণ ফেরা প্রসঙ্গে চলতি সময়ের ব্যস্ত সংগীতশিল্পী ইমরান মাহমুদুল বলেন, এটা আমাদের সিনেমা তথা মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি সুখবর। গত ঈদে ‘হাওয়া’ এবং ‘পরাণ’ সিনেমার গান যেমন শ্রোতারা গ্রহণ করেছেন, ছবিও গ্রহণ করেছেন। সিনেমা ও সিনেমার গান নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছেন সংশ্লিষ্টরা। আমিও তার বাইরে নই। আমার মনে হয় যত্ন নিয়ে গান করলে সেটা শ্রোতারা গ্রহণ করবেই। তার সঙ্গে মানানসই চিত্রায়ণও প্রয়োজন। যেটা ‘পরাণ’ ও ‘হাওয়া’ ছবিগুলোতে দেখা গেছে। আমি নিজেও নতুন বেশ কয়েকটি ছবিতে গান গেয়েছি। সেগুলো নিয়েও আমি আশাবাদী। এদিকে সিনেমার গানের আরেক ব্যস্ত সংগীতশিল্পী দিলশাদ নাহার কনা বলেন, করোনার ধাক্কার পর সিনেমার অবস্থা আসলে ভালো যাচ্ছিল না। তবে ‘পরাণ’ ও ‘হাওয়া’ সেই অবস্থা বদলে দিয়েছে। বিশেষ করে ছবির গানগুলো সাদরে গ্রহণ করেছেন সবাই। আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে গেছে গান। আমি বিশ্বাস করি ভালো গান এখনো শ্রোতারা শুনতে চায়। সেভাবে তাদের কাছে গান তুলে দিতে হবে।