বণিক বার্তা
দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘২০২৪-২৫ অর্থ বছর: সরকারের সর্বোচ্চ ঋণ গ্রহণের বছর’। খবরে বলা হয়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় দেশে সরকারের নেয়া ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় প্রায় ২০ লাখ কোটি টাকায়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অনেকেই প্রত্যাশা করেছিলেন যে এ সরকার ব্যয় সংকোচনের পাশাপাশি ঋণ নেয়ার পরিমাণ কমিয়ে আনবে। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করা হয়েছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশী ও বিদেশী উৎস থেকে ৩ লাখ ২৮ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। এতে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি ২২ লাখ ৫০ হাজার ৯০৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও নীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন যে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেবে তাদের এ বিপুল পরিমাণ ঋণ ব্যবস্থাপনার কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদে ঋণের ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে কিনা সেই শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে দেশী-বিদেশী উৎস থেকে নেয়া সরকারি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ৫০ হাজার ৯০৪ কোটি টাকায়। এর মধ্যে দেশী ঋণ ১১ লাখ ৩ হাজার ৯৩৯ কোটি ও বিদেশী ঋণ ১১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা। এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ ২২ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে সরকারের ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ২৮ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই বাদে বাকি সময়জুড়ে দায়িত্বে ছিল বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার।
গত দেড় দশকে পতিত আওয়ামী সরকারের ঘোষিত বাজেটে ঋণনির্ভরতা বেশি দেখা গেছে। যদিও কোনো অর্থবছরে বাজেটের পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। প্রতি বছরই বড় অংকের ঘাটতি বাজেট ঘোষণা করায় সরকারের ঋণের বোঝা কেবলই স্ফীত হয়েছে। ২০০৯ সালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন সরকারের ঋণ স্থিতি ছিল মাত্র ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকারি ঋণের পরিমাণ ছিল ৮ লাখ ৭৩ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা। এর পরের অর্থবছরেই প্রথমবারের মতো ১০ লাখ কোটি টাকা ছাড়ায় সরকারের ঋণ। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার সময় ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে ঋণের পরিমাণ বেড়ে ১৯ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। সেই হিসাবে আওয়ামী সরকারের সময়ে ঋণ স্থিতি বেড়েছে প্রায় ১৬ লাখ কোটি টাকা।
দেশী-বিদেশী উৎস থেকে নেয়া সরকারের ঋণের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ে একক বছর হিসেবে সর্বোচ্চ ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে এ পরিমাণ ঋণ নিয়েছিল সরকার। তবে সে সময়ে কোনো অর্থবছরেই সরকারের নেয়া ঋণ আড়াই লাখ কোটি টাকার বেশি হয়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসে প্রথমবারের মতো ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ঋণ নেয়ার পরিমাণ ৩ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
সরকারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২০২৪ সালের আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থা থেকে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ নেয়া হয়েছে। সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বাজেট সহায়তা হিসেবে এ অর্থ পেয়েছে বাংলাদেশ। এটি সে সময় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। তাছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বকেয়া বাবদ আড়াই বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ পরিশোধ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এসব কারণে সরকারকে দেশী ও বিদেশী উৎস থেকে ঋণ নিতে হয়েছে।
বর্তমান সরকারের সময়ে ঋণ নেয়ার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সরকারি (অর্থ মন্ত্রণালয়) ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিগত সরকারের সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে অনেক অপ্রয়োজনীয় ঋণ নেয়া হয়েছিল। আমরা দায়িত্ব গ্রহণের সময় অর্থনীতি ভগ্নদশায় ছিল। কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় রাজস্ব আহরণ হয়নি। কিছু ব্যাংককে বাঁচাতে সরকারকে অর্থ দিতে হয়েছে। এসব কারণে অন্তর্বর্তী সরকারকে ঋণ নিতে হয়েছে।’
এরই মধ্যে যেসব ঋণ নেয়া হয়েছে সেগুলোর বিপরীতে সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে চাপে পড়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩০ কোটি টাকার সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে, যা আলোচ্য অর্থবছরে মোট সরকারি ব্যয়ের ২১ শতাংশের বেশি। চলতি অর্থবছরে সুদ বাবদ সরকারের ব্যয় আরো বাড়বে। তাছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে এক বছরের কম থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত মেয়াদের ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে সরকারের নেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকায়। সামনের দিনগুলোতে এসব বন্ডের মেয়াদ শেষে সরকারকে অর্থ ফেরত দিতে হবে। এক্ষেত্রে নতুন করে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমেই এ অর্থ শোধ করতে হবে।
টাকার অংকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ২০১৬ সালে প্রকল্পটি নেয়ার সময় এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯১ হাজার কোটি টাকা রাশিয়ার এক্সিম ব্যাংকের ঋণ। সম্প্রতি টাকার অবমূল্যায়নসহ জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণে এ প্রকল্পের ব্যয় ২৬ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঋণের কিস্তি ২০২৭ সালের মার্চে নির্ধারিত থাকলেও সম্প্রতি সেটি ১৮ মাস বাড়িয়ে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে এ ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু করতে হবে সে সময়ের সরকারকে।
রূপপুর ছাড়া যোগাযোগ অবকাঠামো খাতের বেশকিছু বড় প্রকল্পের ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে সরকারকে। এর মধ্যে সবার আগে ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হয়েছে দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথের। প্রকল্পটির জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৯ হাজার ৯৩ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। ঋণ চুক্তি অনুযায়ী বর্তমানে বছরে প্রায় ৪২০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। ২০২৮ সালে কিস্তির পরিমাণ ৬৬০ কোটি টাকায় উন্নীত হবে। এর সঙ্গে ২ শতাংশ সুদ আলাদা পরিশোধ করতে হবে। প্রকল্পের ঋণ পরিশোধ শেষ হবে ২০৪৮ সালে।
বিগত সরকারের আমলে বাস্তবায়ন করা দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো খাতের আরেকটি বড় প্রকল্প উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোরেল। ২০২৩ সালে মেট্রোরেলের জন্য জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) কাছ থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধ শুরু হয়েছে। মেট্রোরেল লাইন-৬ বাস্তবায়নের জন্য জাইকা ঋণ দিয়েছে ১৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। ৩০ বছরে এ টাকা পরিশোধ করতে হবে। এ হিসাবে সুদ ব্যতীত বার্ষিক গড় কিস্তির পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৫৭ কোটি টাকা। প্রকল্পটির বিপরীতে জাইকা ঋণ দিয়েছে পাঁচ ধাপে। বর্তমানে প্রথম ধাপের কিস্তি পরিশোধ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব ধাপের কিস্তি পরিশোধ শুরু হবে। মেট্রোরেলের ঋণ পরিশোধ করতে হবে ২০৬১-৬২ অর্থবছর পর্যন্ত।
চীনের ঋণে বাস্তবায়ন করা হয়েছে কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প। প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬ হাজার ৭০ কোটি টাকা ঋণ। চুক্তি অনুযায়ী ঋণ পরিশোধে ১৫ বছর সময় পাবে বাংলাদেশ। এ হিসাবে সুদ ব্যতীত বছরে গড়ে ঋণ শোধ করতে হবে ৪০৫ কোটি টাকা। এ প্রকল্প থেকে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হচ্ছে। চীনের ঋণে বাস্তবায়ন করা যোগাযোগ অবকাঠামো খাতের আরেক প্রকল্প পদ্মা সেতু রেল সংযোগ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঋণের পরিমাণ ২১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য বলছে, ছয় বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ২০ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে। অর্থাৎ ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ সময় পাচ্ছে ১৪ বছর। এ হিসাবে বার্ষিক গড় ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৫০২ কোটি টাকায়। ঋণের সুদহার ২ শতাংশ। সার্ভিস চার্জ আরো দশমিক ২৫ শতাংশ।
মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় রাজস্ব আহরণের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বের সর্বনিম্ন দেশগুলোর একটি। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আহরণে ঘাটতি ৪৬ হাজার কোটি টাকা। এ সময়ে রফতানি আয়ে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ অবস্থায় সামনের দিনগুলোতে আয় বাড়ানো নিয়ে সরকারকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। তার মধ্যে ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের চাপ পরিস্থিতিকে আরো কঠিন করে তুলতে পারে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন যে রাজনৈতিক সরকার গঠিত হবে, তাদের মেয়াদের পুরোটা সময়জুড়েই এ চাপ বহন করতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
জিডিপির অনুপাতে ঋণের দিক দিয়ে বাংলাদেশ এতদিন সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থার মূল্যায়নে উঠে এসেছে। তবে রফতানি আয়ের তথ্য সংশোধনের পর বাংলাদেশের ঋণের ঝুঁকি আগের নিম্ন অবস্থান থেকে বর্তমানে মধ্যম পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের যৌথভাবে তৈরি করা ডেট সাসটেইনেবিলিটি অ্যানালাইসিস বা ডিএসএ প্রতিবেদনে এ মূল্যায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি জিডিপির অনুপাতে নিম্ন রাজস্ব আয় এবং স্থানীয় ঋণ কাঠামোর অগভীরতার কারণে দায় পরিশোধের সক্ষমতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য মাত্রার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়।
উত্তরাধিকার সূত্রে অন্তর্বর্তী সরকার যে ঋণের বোঝা পেয়েছে, সেটি পরিশোধ করাই চ্যালেঞ্জের বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘ধার করে বিশ্বের কোনো সরকারের পক্ষেই বেশিদিন চলা সম্ভব নয়। এরই মধ্যে সরকারের ঘাড়ে যে ঋণের বোঝা চেপেছে, সেটি অনেক বড়। রাজস্ব আহরণ থেকে সরকারের আয়ের যে পরিস্থিতি, তাতে ঋণের এ বোঝা সহসা কমবে বলে মনে হয় না। আবার আয় বৃদ্ধির কোনো পথরেখা ছাড়াই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বেতন কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে সরকারের পরিচালন ব্যয় আরো ১ লাখ কোটি টাকা বেড়ে যাবে। এ টাকা কোথা থেকে আসবে, সেটির জবাব নেই।’
বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক এ প্রধান অর্থনীতিবিদ আরো বলেন, ‘বিগত আমলে ঋণ নেয়ার সময় শোধ করার চিন্তা করা হয়নি। কিন্তু এখন আর সেভাবে চলা যাবে না। বিদেশী ঋণের কিস্তি পরিশোধ ক্রমাগত বাড়তে থাকবে। আবার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধের চাপও বাড়বে। এ অবস্থায় সামনের নির্বাচিত সরকারকে অনেক ভেবেচিন্তে ঋণ নিতে হবে।’
অর্থনীতিবিদ ও বিভিন্ন খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেড় দশকের শাসনামলে বাছবিচার ছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পের নামে বিদেশী ঋণ নেয়া হয়েছে। উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও দাতা সংস্থার কাছ থেকে নেয়া এসব ঋণের বড় একটি অংশ অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে আবার বিদেশে পাচারও হয়েছে আওয়ামী আমলে। অন্যদিকে এখন উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং ঋণের সুদ পরিশোধ ও সরকারের পরিচালন ব্যয় মেটানোর জন্য ঋণ নিতে হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সামনের দিনে ঋণের এ স্থিতি বাড়তে থাকবে এবং ঋণের মূল ও সুদ পরিশোধে নতুন যেকোনো সরকারকেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।
আগামী বছরগুলোতে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের জন্যও সরকারকে বিদেশী উৎস থেকে ঋণ নিতে হতে পারে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ এবং বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তফা কে মুজেরী। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘বিগত সরকারের সময়ে মেগা প্রকল্পের নামে যেসব বিদেশী ঋণ নেয়া হয়েছিল, তার বড় অংশ দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে। প্রকল্পের ব্যয় দুই-তিন গুণ বেশি দেখিয়ে ঋণ নেয়া হয়েছিল। সেসব ঋণের গ্রেস পিরিয়ডও এখন শেষ হয়ে আসছে। আগামী বছরগুলোতে দেশের সরকারের ওপর বিদেশী ঋণ পরিশোধের চাপ ক্রমাগত বাড়বে। এ পরিস্থিতিতে বিদেশী ঋণ পরিশোধের জন্যও সরকারকে নতুন ঋণ নিতে হতে পারে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসে ঋণের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সরকার বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েছে। কিন্তু কথা হলো, সরকার তো এখন আর বড় উন্নয়ন প্রকল্প নিচ্ছে না। তাহলে বিদেশী ঋণের অর্থ কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে, সেটি পরিষ্কার করা দরকার। সরকারের রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। বিদেশী উৎসের পাশাপাশি দেশের ব্যাংক খাত থেকেও ঋণের বোঝা বাড়াচ্ছে।’
প্রথম আলো
‘মন্ত্রীদের জন্য ৯০৩০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে সরকার’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ঢাকার মন্ত্রিপাড়ায় তিনটি ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব ভবনে থাকবে ৭২টি ফ্ল্যাট, যার আয়তন হবে ৮ হাজার ৫০০ থেকে ৯ হাজার ৩০ বর্গফুট। এ জন্য নেওয়া হচ্ছে ৭৮৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প।
রাজধানীর বেইলি রোড, মিন্টো রোড ও হেয়ার রোড মন্ত্রিপাড়া হিসেবে পরিচিত। নতুন তিন ভবন হবে বেইলি রোড ও মিন্টো রোডে। নতুন প্রকল্পে সেখানে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী এবং সাংবিধানিক সংস্থার প্রধানসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আবাসনের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।
মন্ত্রিপাড়ায় এখন মন্ত্রীদের জন্য বাংলোবাড়ি আছে ১৫টি। আর বেইলি রোডে মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট নামের তিনটি ভবন রয়েছে। প্রতিটি ভবনে ১০টি করে ৩০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন সাড়ে ৫ হাজার বর্গফুট। মন্ত্রিপাড়া ছাড়াও গুলশান ও ধানমন্ডিতে মন্ত্রীদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে।
সব মিলিয়ে মন্ত্রীদের বসবাসের জন্য ঢাকায় মোট ৭১টি বাংলোবাড়ি ও ফ্ল্যাট চিহ্নিত করেছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। সেগুলো শুধু মন্ত্রীদের জন্য নির্দিষ্টকরণের (এয়ার মার্ক) প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে কার্যত মন্ত্রীদের বসবাসের জন্য আবাসনের সংকট নেই। তার পরও কেন নতুন করে ৭২টি বিশাল আকৃতির ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলো, সে বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল মতিন প্রথম আলোকে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অনেক বাংলো ও ফ্ল্যাট খালি ছিল। সেখানে সাংবিধানিক সংস্থার পদধারী ব্যক্তিদের কেউ কেউ থাকছেন। সাংবিধানিক পদের ব্যক্তিদের জন্য আলাদা বাসস্থান রয়েছে, তার পরও তাঁরা কেন মন্ত্রিপাড়ায় থাকেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, মন্ত্রিপাড়ায় তাঁদের থাকার বসবাসের অনুমতি দিয়েছে সরকার।
সূত্র জানিয়েছে, নতুন ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রকল্প নিতে বেশি আগ্রহী আমলারা। মন্ত্রীদের নতুন ভবনে বাসা দেওয়া গেলে এখনকার বড় বড় ফ্ল্যাটে উঠতে পারবেন আমলারা।
সাংবিধানিক পদের ব্যক্তিদের আলাদা আবাসনের ব্যবস্থা এখনই রয়েছে। সেখানে ফ্ল্যাট খালি থাকছে। কিন্তু সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের কেউ কেউ থাকছেন মন্ত্রিপাড়ায়। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিকের মত হলো, নির্বাহী বিভাগের নীতিনির্ধারণী ব্যক্তিদের সঙ্গে বিচার বিভাগ ও সাংবিধানিক সংস্থার ব্যক্তিদের বসবাস না করাই ভালো। এতে তাঁদের প্রভাবান্বিত হওয়ার সুযোগ থাকে। নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমলে ঔপনিবেশিক শাসকদের জন্য দু-তিন বিঘা জমিতে বাংলো করা হতো। এখনো দেশে চার কোটি মানুষ দরিদ্র। সেই দেশের মন্ত্রীদের জন্য বিশাল আকৃতির ফ্ল্যাট নির্মাণ অত্যন্ত বেমানান।
সুইমিংপুল থাকবে প্রতিটি ভবনে
মন্ত্রীদের জন্য ভবন নির্মাণের প্রকল্পটির নাম ‘ঢাকাস্থ রমনায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সাংবিধানিক সংস্থার প্রধানসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য ৩টি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ’। প্রকল্পটি নিচ্ছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।
৮ জানুয়ারি সচিবালয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রকল্পটির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘চ্যালেঞ্জে পড়বে নতুন নির্বাচিত সরকার’। খবরে বলা হয়, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন যে সরকার গঠিত হবে তার সামনে বহুমুখী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ রেখে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্যে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে চড়া মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণে আনা, বিনিয়োগ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্প খাতকে চাঙা করতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
এছাড়া রয়েছে ঋণের সুদহার কমানো, ডলারের জোগান বাড়িয়ে টাকার মান ধরে রাখা, বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো, রাজস্ব আয় বাড়ানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, রপ্তানি বাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, চলমান সংস্কার এগিয়ে নেওয়া উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি রয়েছে আইএমএফের সঙ্গে দরকষাকষির মাধ্যমে দেশের মানুষের অনুকূলে পদক্ষেপ নেওয়া।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা বসবে নতুন সরকার। দেশি-বিদেশি সবাই এখন নতুন সরকারের দিকে তাকিয়ে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন সরকার কেমন নীতি গ্রহণ করে এবং দেশের অর্থনীতিকে তারা কিভাবে এগিয়ে নিতে চায় সেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরেই অর্থনীতিতে মন্দা চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারও অর্থনীতিকে চাঙা করতে পারেনি। তবে তারা অর্থনীতির লিকেজগুলো বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে। নতুন সরকারকে অর্থনৈতিকভাবে মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। শিল্প খাতকে চাঙা করতে হবে। মূল্যস্ফীতি কমাতে হবে। পণ্যমূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এগুলোই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি আরও বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে আশা করা যায়। তখন বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে হবে সরকারকে। উদ্যোক্তাদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করতে হবে। দেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগও বাড়াতে হবে।
এর আগে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনটি ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ সরকার। তাদের পুরো সময়টাই কাটে লুটপাটে। হলমার্ক কেলেঙ্কারি দিয়ে যাত্রা শুরু হয়। এরপর বেসিক ব্যাংক জালিয়াতি, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, অ্যানন টেক্স গ্রুপ, ক্রিসেন্ট গ্রুপ কেলেঙ্কারি। একাধিক ব্যাংক দখল করেও চালানো হয় লুটপাট।
কালের কণ্ঠ
‘আওয়ামী ভোটে দৃষ্টি বিএনপি-জামায়াতের’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। গত ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা। প্রার্থীরা যাচ্ছেন ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে। সভা করছেন, উঠান বৈঠক করছেন।
মাঠ পর্যায়ে চলছে ভোটের চুলচেরা হিসাব-নিকাশ। এরই অংশ হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ‘আওয়ামী লীগের ভোটের’ দিকেও দৃষ্টি রাখছে সব রাজনৈতিক দল। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক দল হিসেবে সেই ভোট দাবি করছে বিএনপি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতাদের কখনো ভাই, কখনো বন্ধু সম্বোধন করে ভোট চাইছেন জামায়াত নেতারা।
রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বলছেন, আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো ভোট নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ কষছে। তাদের নিজস্ব ভোটের বাইরে অনেক ভোট রয়েছে, যা মূলত জয়-পরাজয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি, তাই তাদের ভোট টানার ক্ষেত্রে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো নানা কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে।
জানা যায়, বিভিন্নভাবে আওয়ামী সমর্থকদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে রাজনৈতিক দলগুলো।
কোথাও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের দলে ভেড়ানো, কোথাও মামলা প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা, কোথাও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। তবে এই কাজগুলো অনেকটাই নীরবে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াত জোটের পক্ষ থেকে এই কাজগুলো করা হচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগের এখন আর ভোট ব্যাংক নেই বলে দাবি করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার মনে হয়, আওয়ামী লীগের ভোট চার ভাগে বিভক্ত হতে পারে।
প্রথমত, যাঁরা চিহ্নিত নেতাকর্মী-সমর্থক তাঁদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপ এরই মধ্যে অন্য দলে ঢুকে গেছে, তারা ওই দলকে ভোট দেবে। তৃতীয়ত, আরেকটি গ্রুপ যাদের হয়তো কোনো দলের বা নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বা অ্যাডজাস্টমেন্ট হয়েছে বা হচ্ছে তারা ওই দলকে ভোট দেবে। আর চতুর্থ গ্রুপ হচ্ছে সবচেয়ে বড় গ্রুপ, যারা আওয়ামী সমর্থক। তারা আওয়ামী লীগকে পছন্দ করে, কিন্তু অন্ধ ভক্ত নয়। তারা সরাসরি কারো পক্ষে যাবে না। তারা দেখে, শুনে-বুঝে ভোট দেবে। যে প্রার্থীর দ্বারা তারা ক্ষতির সম্মুখীন হবে না তাঁকে ভোট দেবে।’
গত শুক্রবার ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনী গণসংযোগের সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের হাসিনা আপা চলে গেছেন ভারতে। তিনি ভারতে গেছেন ভালো করেছেন। এলাকার সমর্থক-কর্মীদের বিপদে ফেলে গেছেন কেন? আমরা কর্মী-সমর্থকদের জানাতে চাই, আপনারা বিপদে পড়বেন না। আমরা আছি, আপনাদের পাশে। যারা অন্যায় করেছে, তাদের শাস্তি হবে। যারা অন্যায় করেনি, তাদের কোনো শাস্তি হতে দেব না।’
গত বৃহস্পতিবার কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নির্বাচনী সমাবেশে বক্তৃতা দেন আওয়ামী লীগের নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ মজুমদার। তিনি কালিকাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘নতুন ওষুধে সর্বোচ্চ ৩৩% পর্যন্ত দাম বৃদ্ধির সুযোগ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) নির্ধারণবিষয়ক জাতীয় নীতিমালা অনুমোদন করেছে সরকার। এই নীতিমালার আওতায় নতুন জেনেরিক ওষুধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর সুযোগ পাবে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে সব ওষুধের দামই সরকারের নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যে থাকবে। ফলে এতদিন নতুন ওষুধ বাজারে ছাড়ার সময় কোম্পানিগুলো যে একতরফা দাম নির্ধারণ করত, সেই সুযোগ আর থাকছে না। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ) প্রণীত এই নীতিমালা গেজেট আকারে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, ওষুধের দাম নির্ধারণে কাঁচামাল ও সহায়ক উপাদান, প্রাথমিক প্যাকেটজাতের খরচ এবং শ্রেণিভিত্তিক মুনাফা যোগ করে একটি মানদণ্ডমূল্য নির্ধারণ করা হবে। যেহেতু প্রাথমিক প্যাকেট সরাসরি ওষুধের সংস্পর্শে থাকে, তাই সেটিকে মুনাফা কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে দাম অযথা বাড়ানো ঠেকাতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের প্যাকেটজাতের ব্যয় এই হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে। ব্যবসায়ীর স্বার্থ বিবেচনায় রেখে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ হারে ওষুধের দাম বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
কাঁচামাল ১০০ টাকা ধরে নতুন হিসাব
ডিজিডিএর সর্বশেষ মূল্য তালিকা অনুযায়ী, কাঁচামাল ও প্রাথমিক প্যাকেটজাতের ব্যয় ১০০ টাকা ধরে বিভিন্ন শ্রেণির ওষুধের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন তালিকায় দেখা যায়, পুনঃপ্যাকেটজাত বাল্ক সার্জিক্যাল ওষুধের ক্ষেত্রে যেখানে আগে সর্বোচ্চ মূল্য ছিল এক টাকা ৫০ পয়সা, সেখানে নির্ধারণ হয়েছে দুই টাকা। তবে সংশ্লিষ্টদের শঙ্কা, এই নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের প্যাকেটজাতের ব্যয় যুক্ত হলে ভোক্তা পর্যায়ে দাম আরও বাড়তে পারে। একইভাবে মুখে খাওয়ার ও ত্বকে ব্যবহারের অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়া অন্য ওষুধের সর্বোচ্চ মূল্য দুই টাকা ২৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে দুই টাকা ৯৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর মুখে খাওয়ার অ্যান্টিবায়োটিকের সর্বোচ্চ মূল্য দুই টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে তিন টাকা ৬ পয়সা।
স্টেরাইল ও হরমোন শ্রেণিতে দাম বাড়ার হার বেশি
নতুন নীতিমালায় সবচেয়ে বেশি দাম বাড়ার সুযোগ রাখা হয়েছে স্টেরাইল ও হরমোন-স্টেরয়েড শ্রেণির ওষুধে। এই শ্রেণিতে বিদ্যমান সর্বোচ্চ মূল্য দুই টাকা ৮০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে তিন টাকা ৭২ পয়সা করা হয়েছে। অর্থাৎ, এসব ওষুধে সর্বোচ্চ ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানো যাবে।
চার বছরে ধাপে ধাপে সমন্বয়
নীতিমালায় বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রচলিত এমআরপি ও নতুন মানদণ্ডমূল্যের মধ্যে পার্থক্য থাকলে তা চার বছরে ধাপে ধাপে সমন্বয় করা হবে। প্রতিবছর সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ হারে দাম বাড়ানো বা কমানো যাবে। দ্বিতীয় বছর থেকে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের ব্যবস্থাও যুক্ত হবে। এ ছাড়া পাঁচ বছর অন্তর পূর্ণাঙ্গ পুনর্মূল্যায়ন এবং দুই বছর অন্তর কাঁচামালসহ অন্য খরচ পর্যালোচনার বিধান রাখা হয়েছে।
দেশীয় কাঁচামাল উৎপাদনে নতুন শর্ত
নীতিমালায় দেশীয় ওষুধ কাঁচামাল উৎপাদন বাড়াতে আমদানিকারকের জন্য নতুন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে কাঁচামাল আমদানির আগে ডিজিডিএ থেকে অনাপত্তিপত্র নিতে হবে। তবে দেশে কোনো কাঁচামাল পর্যাপ্ত উৎপাদিত না হলে বা দেশীয় কাঁচামালের দাম আন্তর্জাতিক দরের চেয়ে ২০ শতাংশের বেশি হলে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হবে। আবেদন জমা দেওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক
‘রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৯ ভারতীয় কর্মকর্তা বাংলাদেশ ছাড়লেন’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্রের (বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড) ৯ জন ভারতীয় কর্মকর্তা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বাংলাদেশ ত্যাগ করেছেন। তাদের এভাবে চলে যাওয়ার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিদ্যুেকন্দ্র কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি তাত্ক্ষণিকভাবে বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।
বিদ্যুৎকন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার সকালে খাবারের টেবিলে ঐ কর্মকর্তাদের না পেয়ে খোঁজ নিতে শুরু করে কর্তৃপক্ষ। একপর্যায়ে জানা যায়, তারা কাউকে না জানিয়েই বিদ্যুেকন্দ্র থেকে বের হয়ে গেছেন। এদিন দুপুরে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে তাদের ভারতে প্রবেশের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এর পর প্রকল্প পরিচালক রামানাথ পুজারীকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে তারা বাংলাদেশ ছেড়েছেন বলে নিশ্চিত করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিদ্যুেকন্দ্র এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসারসহ চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় কর্মকর্তাদের এভাবে চলে যাওয়া রহস্যজনক। চলে যাওয়ার আগে তারা কখনোই নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো অভিযোগ বা উদ্বেগের কথা কর্তৃপক্ষকে জানাননি। এমন ঠুনকো অজুহাতে হুট করে বাংলাদেশ ত্যাগ করায় কর্তৃপক্ষ বিস্মিত।
ঐ ভারতীয় কর্মকর্তারা হলেন—ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি) থেকে প্রেষণে রামপাল বিদ্যুেকন্দ্রে নিয়োগ পাওয়া জিএম সিউজ প্রতীক বর্মন, জিএম বিশ্বজিত্ মন্ডল, জিএম এন সূর্যপ্রকাশ রায়, এজিএম কেসাবা পলাকী, ডিজিএম সূর্যকান্ত মন্দেকার, ডিজিএম সুরেন্দ্র লম্বা, এজিএম পাপ্পু লাল মিনা, ডিজিএম অনির্বাণ সাহা এবং সিএফও ইমানুয়েল পনরাজ দেবরাজ।
রামপাল তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্রের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) আনোয়ারুল আজিম বলেছেন, শনিবার সকালে ডাইনিংয়ে ঐ ভারতীয় কর্মকর্তাদের দেখতে না পাওয়ায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, তারা অনুমতি ছাড়াই ভারতে চলে গেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কী কারণে তারা এভাবে চলে গেলেন, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘উত্তপ্ত হচ্ছে ভোটের রাজনীতি’। খবরে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশের ভোটের রাজনীতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। নির্বাচন কমিশন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করার পর গত ২২ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়। এর পরপরই রাজনৈতিক মাঠে ছড়িয়ে পড়ে উত্তাপ। সভা-সমাবেশে বক্তব্য, পাল্টা বক্তব্য, অভিযোগ ও প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়িতে মুখর হয়ে উঠেছে নির্বাচনী পরিবেশ।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও নতুন রাজনৈতিক শক্তি এনসিপির শীর্ষ নেতাদের তীব্র বাক্যযুদ্ধ এক দিকে ভোটের নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ স্পষ্ট করছে, অন্য দিকে মাঠপর্যায়ে বাড়াচ্ছে উত্তেজনা ও শঙ্কা।
দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর দেশ একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ক্ষমতাচ্যুত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে সামনে এসেছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। সময়ের ব্যবধানে এই দুই দল এখন রাজনীতির দুই ভিন্ন মেরুতে অবস্থান করছে এবং পৃথক জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটযাত্রা শুরু হলেও প্রচারণার প্রথম দিন থেকেই দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক ভাষা, আদর্শগত সঙ্ঘাত এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তারেক রহমানের বক্তব্যে শুরু কথার যুদ্ধ
প্রচারণা শুরুর প্রথম দিন বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান সিলেট, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক জনসভায় বক্তব্য দেন। এসব বক্তব্যে তিনি ধর্মের নামে রাজনীতি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলে প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বিএনপি কখনো বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার রাজনীতি করে না’।
তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ১৯৭১ সালে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। একই সাথে নির্বাচনকে ঘিরে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর আশঙ্কা প্রকাশ করে পোস্টাল ব্যালট, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহের মাধ্যমে ভোট কারচুপির সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের বিষয়ে বারবার সতর্ক করেন।
জামায়াতের পাল্টা প্রতিক্রিয়া
তারেক রহমানের এসব বক্তব্যের কড়া জবাব দেয় জামায়াতে ইসলামী। শনিবার বিভিন্ন জনসভায় দলটির আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ধর্মকে অবমাননা বা বিদ্রুপ করে রাজনীতি করা অনৈতিক ও বিভাজনমূলক।
তিনি দাবি করেন, জামায়াত নৈতিকতা, সৎ নেতৃত্ব ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতির কথা বলছে বলেই তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। জামায়াত নেতারা চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বিএনপির অতীত শাসনামলের দুর্নীতি ও সহিংসতার অভিযোগ তুলে ধরেন।
একই সাথে তারা অভিযোগ করেন দেশের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতের নারী কর্মীদের শান্তিপূর্ণ প্রচার ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।
আজকের পত্রিকা
‘পুলিশের অবকাঠামো নির্মাণে ৭০৭ কোটি টাকার প্রকল্প’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশের জন্য ক্যাম্প, ফাঁড়িসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে ৭০৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আজ রোববার একনেক সভায় উঠছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
পুলিশের জন্য অবকাঠামো নির্মাণের এই প্রকল্পের নাম ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ফাঁড়ি/তদন্ত কেন্দ্র, ক্যাম্প, নৌ-পুলিশ কেন্দ্র, রেলওয়ে পুলিশ থানা ও আউটপোস্ট, ট্যুরিস্ট পুলিশ সেন্টার এবং হাইওয়ে পুলিশের জন্য থানা ও আউটপোস্ট নির্মাণ’। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০৭ কোটি ৫৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। প্রকল্পে অর্থায়ন করবে সরকার। সূত্র বলেছে, এই প্রকল্পের আওতায় দেশের আট বিভাগের ৪৮ জেলায় পুলিশের অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পর্যালোচনা করার পর আজ একনেকে তোলা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সচিব এম এ আকমল হোসেন আজাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পটি পর্যালোচনা করা হয়েছে। যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে একনেকের অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পুলিশের বর্ধিত জনবলের জন্য দাপ্তরিক ও আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত হবে। এর মাধ্যমে সারা দেশে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা জোরদার এবং বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটগুলোর কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।
সূত্র জানায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সারা দেশে থানাসহ পুলিশের ৪৬০টি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লুট হয় অস্ত্র, গুলিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম। পুলিশের মনোবলও ভেঙে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পুলিশের মনোবল চাঙা করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবকাঠামো নির্মাণের এই প্রকল্প নিয়েছে।
প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে, পুলিশ ফাঁড়ি, ক্যাম্প, তদন্ত কেন্দ্র ও বিভিন্ন বিশেষায়িত পুলিশের স্থাপনা নির্মাণ ও পূর্তকাজ, প্রকল্প দপ্তরের জন্য আসবাব ও প্রয়োজনীয় তৈজসপত্র ক্রয়, ফাঁড়ি, ক্যাম্প, নৌ-পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও ইমিগ্রেশন পুলিশের জন্য আসবাব সরবরাহ, পিডি অফিসের জন্য কম্পিউটার ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ক্রয় এবং বনায়ন ও ল্যান্ডস্কেপিং কার্যক্রম পরিচালনা।
পরিকল্পনা কমিশনের সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ পুলিশের (ডেলিগেটেড ওয়ার্ক-গণপূর্ত অধিদপ্তর) বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে। এর আওতায় দেশের ৮টি বিভাগের ৪৮টি জেলায় অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘আ.লীগের ভোট নিয়ে টানাটানি’। খবরে বলা হয়, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করা, ভোটকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক করে তোলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করে এ সময়ে আওয়ামী লীগের ভোটারদের কদর বেড়েছে বিএনপি-জামায়াত, জাতীয় পার্টিসহ নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্য সব দলের কাছে। বিএনপি-জামায়াতসহ নির্বাচনী লড়াইতে নামা সব দলই আওয়ামী লীগের ভোট টানতে উঠে পড়ে লেগেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আওয়ামী লীগের ভোট টানতে যেসব আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন, সেটিকে ভালো চোখে দেখছেন না। বিএনপি-জামায়াতের এ কৌশলকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নিরেট আদর্শহীন রাজনীতি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
এ প্রসঙ্গে দেশ রূপান্তরকে বিশ্লেষকরা বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতি ও বুর্জোয়া রাজনীতিতে এটাই স্বাভাবিক। নিরেট আদর্শবাদী রাজনৈতিক দল ও রাজনীতি থাকলে আওয়ামী লীগের ভোট পেতে এভাবে উঠে পড়ে লাগত না। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, এটাই ভোটের প্রতিযোগিতা। ভোটের কৌশল। তবে বিএনপি-জামায়াত যা করছে তা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে। যেভাবে আশ্বাস দিচ্ছে, এগুলো উৎকোচ দেওয়ার সমতুল্য। প্ররোচনা। আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল।
গতকাল শনিবার ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশে শুধু দুটোই মার্কা। নৌকা আর ধানের শীষ। নৌকা এখন আমাদের কাছে নেই, তাহলে ভোট দেবেন ধানের শীষে। নতুন যে মার্কা দাঁড়িপাল্লা এসেছে তা স্বাধীনতাবিরোধী দল।
এর আগের দিন গত শুক্রবার নির্বাচনী প্রচারণায় একই জায়গায় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিনা অপরাধীদের সঙ্গে তিনি ও তার দল থাকবে। নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে জামায়াত নেতারাও আওয়ামী লীগের ভোট টানতে নানা রকম আশ্বাস দিচ্ছেন।
জামায়াতের পক্ষ থেকেও করা হচ্ছে একই কাজ। দলটি আওয়ামী লীগ নেতাদের দলে ভিড়িয়ে তাদের মাধ্যমে ‘নৌকার’ ভোট টানার চেষ্টা করছে। গত বৃহস্পতিবার কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নির্বাচনী সমাবেশে বক্তৃতা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের ওই নেতার নাম সালাউদ্দিন আহমেদ মজুমদার। তিনি কালিকাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। ৫ আগস্টের পর তাকে অপসারণ করা হয়।
