রিসেট

কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণসভা

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি (বুধবার), ২০২৬ Archive 2022Source: স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ থেকে

কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ‘মহাকালের সমাপ্তি’ শীর্ষক এই স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. দিলীপ কুমার বড়ুয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার নায়লা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য ড. মো. সফিকুল ইসলাম এবং ট্রেজারার অধ্যাপক মো. ইমান আলী। এতে অন্যদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান মো. রাকিবুল আলম, গণিত বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান আসমা আকতার সুমি, সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান সাবাব জুলফিকার, ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. তাজুল ইসলাম, গণিত বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী কনক সিদ্ধ, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহেদুল আবেদিন নাফসি এবং সিএসই বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী শাফিউল মুজনিবীন বক্তব্য রাখেন। বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্মের ওপর গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে আলোকপাত করে উপাচার্য ড. দিলীপ কুমার  বড়ুয়া বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ়তা, মননশীল আচরণ ও ন্যায়ভিত্তিক প্রজ্ঞা তাকে নৈতিক উচ্চতার এক অনন্য দৃষ্টান্তে পরিণত করেছে। শত প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি কখনো অসৌন্দর্যপূর্ণ ভাষার আশ্রয় নেননি এবং সর্বদা ন্যায়ভিত্তিক আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ কারণেই তিনি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছিলেন। উপাচার্য বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের সবচেয়ে বড় গুণ ছিল তার বিনয়। তিনি কখনো নিজেকে ইতিহাসের নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করেননি; বরং ক্ষমতার ভাষার পরিবর্তে নীরব সহিষ্ণুতায় বিশ্বাস করেছেন। বিরোধী রাজনীতির মধ্যেও ব্যক্তিগত আক্রমণ পরিহার করে নীতিগত অবস্থানে দৃঢ় থাকার যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন, তা আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ক্রমেই বিরল হয়ে উঠছে। তার নেতৃত্বের মাহাত্ম্য এখানেই যে, নেতৃত্ব মানে কণ্ঠ উঁচু করা নয়, বরং দায়িত্ব বহন করা; নেতৃত্ব মানে প্রতিশোধ নয়, বরং ধৈর্য এবং নেতৃত্ব মানে নিজেকে বড় করা নয়, বরং প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মো. সফিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না; তিনি ছিলেন সমগ্র বাংলাদেশের অভিভাবকস্বরূপ এক ব্যক্তিত্ব। সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি। একজন গৃহিণী থেকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের নেতৃত্বে উঠে আসার তার জীবনগাঁথা দেশের রাজনীতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত। আলোচনা শেষে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ অংশ নেন।