জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ শফিকুল (৩৫) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গত মঙ্গলবার সকাল ৭টায় গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত শফিকুল আব্দুল সামেদ ও রোকেয়া বেগম দম্পতির ছেলে। বর্তমানে পরিবারটি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গী পূর্ব এলাকায় বসবাস করছিল। তিনি গাজীপুরের গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধা। তিনি ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার দর্শারপাড় গ্রামের বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে গত বছরের ৫ই আগস্ট দুপুরে উত্তরা আজমপুরে ডান পায়ের ঊরুতে গুলিবিদ্ধ হয় শফিকুল। তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে সরকার তাকে দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে সকল কাগজপত্র ব্যবস্থা করলে তিনি দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। সম্প্রতি তার জ্বর ও অন্যান্য শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সোমবার গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শফিকুল ইসলাম মারা যান।
এদিকে, তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, সহযোদ্ধা ও এলাকাবাসী তাকে একজন সাহসী জুলাইযোদ্ধা হিসেবে স্মরণ করছেন। হালুয়াঘাট জুলাই শহীদ ও আহত ছেলের প্রতিনিধি রিদওয়ান সিদ্দিকী জানান, শহীদ শফিকের জানাজা নামাজ বুধবার সকাল ১০টায় হালুয়াঘাট উপজেলার দর্শারপাড় মামা পাগলা মাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাকে হালুয়াঘাটে নিজ এলাকায় দাফন করা হবে। এদিকে, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, আজ হালুয়াঘাটের এক আহত জুলাইযোদ্ধা, শফিকুল ইন্তেকাল করেছেন। তিনি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রায় দেড় বছর ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। নিহত শফিকুলের ছোট বোন জামাই শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মরদেহ হালুয়াঘাটে নেয়ার জন্য একটি ফ্রিজিং এম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমরা গাজীপুরে শফিকের জানাজা শেষে হালুয়াঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা হই। সরকার থেকে তাকে বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার জন্য বলছিল। তবে, জুলাইযোদ্ধা শফিক বিদেশ যেতে অপারগতা প্রকাশ করেন। সম্প্রতি গুলির স্থানে ইনফেকশন হয়, যে কারণে জ্বর আসে। পরে সোমবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শফিক মারা যায়।
হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস আলম বলেন, জুলাইযোদ্ধা শফিক গাজীপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এবিষয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলিনুর রহমান বলেন, মৃত্যুর খবর পেয়ে মরদেহ হালুয়াঘাটে আনার জন্য ফ্রিজিং এম্বুলেন্স দেয়া হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে উপস্থিত থেকে যথাযথ মর্যাদায় তাকে দাফন করা হবে। একইসঙ্গে নিহতের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
