আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সহ ৩টি রাজনৈতিক দল জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। নবগঠিত এনসিপি
ছাড়াও এই জোটে রয়েছে মজিবুর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও হাসনাত কাইয়ুমের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। এই জোটে আরও কয়েকটি দলকে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার রক্ষা ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বিনির্মাণের লক্ষ্যে গঠিত এ জোটের নাম দেয়া হয়েছে- ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নতুন এই জোট ঘোষণা করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা ৩টি রাজনৈতিক দল নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বিনির্মাণে ঐক্য ঘোষণা করছি। এই জোটের নাম ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’। আমাদের উচিত ছিল এই জোট আরও আগে গঠন করার, কিন্তু নানা কারণে সেটা করতে পারিনি। পুরনোপন্থি দলগুলোর সঙ্গে নানা সমঝোতা করে সংস্কার প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের চেষ্টা করা আমাদের ভুল ছিল। যারা সংস্কারের পক্ষে আন্তরিক তাদের নিয়ে আমরা সামনে আগাবো। এই জোট প্রক্রিয়ায় আরও অনেক দলের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে, অনেক দল এ জোটে যুক্ত হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দলকে সিটের লোভ দেখিয়ে নানা জোটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন দল থেকে যে অফার আসছে আমরা সেগুলোকে প্রত্যাখ্যান করছি।
তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছর বাংলাদেশের লড়াই ছিল গণতন্ত্রের জন্য। সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংস্কারের আলাপ ছিল। নির্বাচন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য নয়, নির্বাচনকে আমরা দেশ বদল ও সংস্কার প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্য দেখতে চাই। আমরা দেখছি নানা প্রক্রিয়ায় দেশকে বিভাজনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এই জোট শুধু নির্বাচনী জোট নয়, এটি রাজনৈতিক জোট। যে লক্ষ্যে আমরা ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করেছিলাম সেই লক্ষ্যে আমরা সামনে আগাবো।
দেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বরিশালে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদ ও লক্ষ্মীপুরে আ স ম আব্দুর রব ভাইকে নির্বাচনী প্রচারণার সময় হেনস্তা করা হয়েছে। অর্থাৎ আমরা যে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা করেছিলাম। যেখানে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারবে, তা হচ্ছে না। ভোটকেন্দ্র দখল, আধিপত্য বিস্তার ও ফ্যাসিবাদী আচরণ শুরু হয়ে গিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভোটকেন্দ্র দখল প্রক্রিয়ায় দেশ চালাতে গিয়ে একটি দল দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছে। আগামী নির্বাচনে যদি কেউ মনে করে গায়ের জোরে অথবা ধর্মের নামে মানুষকে প্রতারণা করে ভোট আদায় করবে তারা সবাই পরাজিত হবে। আমরা মনে করি বাংলাদেশের জনগণ তারুণ্যের শক্তির পক্ষে থাকবে।
আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সবাই চায় বাংলাদেশে একটা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত আসুক। বিরোধী দলের সভায় বাধা, ব্যানার ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা এগুলো মানুষ এখন চায় না। এখান থেকে আমরা আহ্বান করছি পুরনো রাজনীতি দিয়ে ফ্যাসিবাদকে দমন করা যায়নি। প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলো অনেক আন্দোলন করেছে, গুম-খুনের শিকার হয়েছিল কিন্তু তার পরেও শেখ হাসিনাকে বিতাড়িত করতে পারে নাই। নতুনরা নতুনভাবে প্রতিবাদ করেছে বিধায় আজকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে।
এ সময় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি এডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে যা আমাদের পাওয়ার কথা ছিল, তা আমরা পাইনি। বিগত সময়ে আমরা দেখেছি বাংলাদেশে যতবার গণ-আন্দোলন হয়েছে, সেগুলো রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য হয়েছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান টিকবে কি টিকবে না, এ অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে যে সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়েছে, তা হবে কি হবে না। এগুলো জনগণ আগামী নির্বাচনে নির্ধারণ করবে। নতুন বাংলাদেশের নির্মাণ ও ভবিষ্যতে স্বৈরাচারী কাঠামো যেন বন্ধ হয় সেই লক্ষ্যে এ জোট গঠন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেনসহ প্রমুখ।
