রিসেট

হাসিনাকে কি ফাঁসির মুখোমুখি করতে পারবে বাংলাদেশ?

প্রকাশিত: ১ ডিসেম্বর (সোমবার), ২০২৫ Archive 2022Source: মানবজমিন ডেস্ক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসি চায় বাংলাদশ। এখন প্রত্যর্পণের অনুরোধে ভারতের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় দেশটি। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে গত বছর গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত এই নেত্রীর উত্থান-পতনের ধারাবাহিক ইতিহাস সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে। 
গণমাধ্যমটি বলছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। একসময় যাকে গণতন্ত্রপন্থি রাজনীতিক ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হতো, সেই হাসিনাকেই এখন অভিযুক্ত করা হচ্ছে স্বৈরতন্ত্র, ব্যাপক দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে। মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আদালত কর্তৃক তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বহু মানুষের প্রত্যাশা হচ্ছে আদালতের ঘোষিত রায় কার্যকর হোক।
হাসিনা প্রথম ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসেন। ২০০১ সালে পরাজয়ের পর ২০০৮ সালে আবার নির্বাচিত হন। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালীন ২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট করে প্রধান বিরোধী দলগুলো। এরপর ২০১৮ সালের ভোটে জালিয়াতির অভিযোগ উঠলেও তিনি ক্ষমতায় থাকেন। সেই বছরই দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দেয়া হয়। অবশেষে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হাসিনার পতনের পর খালাস পান খালেদা জিয়া।
২০০৯ সালের পর থেকে হাসিনার সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি গড়ে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখে। তৈরি পোশাক খাত ছিল প্রধান চালিকা শক্তি। তবে তার শাসনামলে নিরাপত্তা বাহিনী- বিশেষ করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিরোধী নেতা ও সমালোচকদের অপহরণ ও হত্যা করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। 
২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটার বিরুদ্ধে  শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এক পর্যায়ে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। জাতিসংঘ বলছে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে সেই বিক্ষোভে ১৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট হাসিনা পদত্যাগ করে সামরিক হেলিকপ্টারে ভারতে পালিয়ে যান। পরে তার অনুপস্থিতিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানালেও এখন পর্যন্ত তাতে সায় দেয়নি ভারত। ২০২৫ সালের ২১শে নভেম্বর আবারো অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। হাসিনাকে আদৌ দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা যাবে কিনা- তা এখনো অনিশ্চিত। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকারের তদন্ত বলছে- হাসিনার আমলে সরকারি কোষাগার থেকে ২৩ হাজার কোটি ডলারের বেশি অর্থ লোপাট হয়েছে। 
আগামী ২০২৬ সালের শুরুর দিকে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এবং নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে ভারত আসলেই হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে যাবে নাকি ঢাকার প্রত্যর্পণ দাবিতে সাড়া দেবে- তা নিয়েই চলছে নান আলোচনা।