প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সময় শেষ। তবে তিনি এখনও শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা ছাড়তে পারেন। বার্তা সংস্থা এএফপিকে সোমবার দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন ভেনেজুয়েলার নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। ৫৮ বছর বয়সী মাচাদো বলেন, প্রেসিডেন্ট মাদুরো যদি ক্ষমতা হস্তান্তর করেন, তিনি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পেতে পারেন। মাদুরোর কাছে বর্তমানে শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের পথে যাওয়ার সুযোগ আছে। মাচাদো আরও বলেন, আমরা নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। আমরা আলোচনার টেবিলে বসার আগে এ বিষয়টি প্রকাশ করবো না। যদি তিনি প্রতিরোধ চালিয়ে যান, তার ফলাফল সম্পূর্ণভাবে তার দায়িত্ব হবে। আলোচনা হোক বা না হোক, তিনি ক্ষমতা ছাড়বেন।
মারিয়া কোরিনা মাচাদো স্বীকার করেছেন তিনি এখনও তার নোবেল জয়ের খবর নিয়ে স্তম্ভিত। তার ভাষায়, এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় বিস্ময়গুলোর একটি। তিনি আশা করছেন, তার জয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ব্যবহার করে তিনি মাদুরোর সরকারকে উৎখাত করতে সক্ষম হবেন। মাদুরো ও তার পূর্বসূরি হুগো শাভেজের অধীনে একচেটিয়াভাবে একচল্লিশ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় রয়েছে তারা। মাচাদো বলেন, যারা পরিবর্তন প্রক্রিয়া সহজ করতে সাহায্য করবেন, তাদেরও নিশ্চয়তা দেয়া হবে, বিশেষ করে সেনাবাহিনীকে, যা সরকারের টিকে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মাচাদো বলেন, এই বার্তা পুরো সেনা, পুলিশ ও সরকারি কর্মচারীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। ধীরে ধীরে, তারা (সেনা সদস্যরা) আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং তথ্য দিচ্ছে। গণঅভ্যুত্থান কল্পনা করা যায় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা সবাই নাগরিক এবং সামরিক বাহিনী একটি ভূমিকা পালন করি।
আগস্টে ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার চারপাশে আটটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। ১৯৮৯ সালে প্যানামায় যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর পশ্চিম গোলার্ধে সবচেয়ে বড় সামরিক তৎপরতা এটা। এ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন চারটি জাহাজ ধ্বংস করেছে। এসব জাহাজ মাদক পাচারের জন্য ব্যবহৃত হয় বলে দাবি করেছে তারা। এতে কমপক্ষে ২১ জন নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু সূত্র নির্দেশ করছে যে ভেনেজুয়েলার ভিতরে খুব তাড়াতাড়ি হামলা হতে পারে। মাচাদোকে ‘শয়তানি জাদুকরী’ আখ্যায়িত করেছেন মাদুরো।
মাচাদো ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিস্তারিত প্রশ্ন এড়িয়ে যান। তবে বলেন তিনি ‘অব্যাহত যোগাযোগ’ বজায় রাখছেন যুক্তরাষ্ট্র এবং লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের সরকারগুলোর সঙ্গে। মাচাদো বলেন, তার নোবেল জয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক মোতায়েন ভেনেজুয়েলার সরকারের জন্য সংকট সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, তারা জানে আমরা শেষ ও সিদ্ধান্তমূলক পর্যায়ে আছি। সাম্প্রতিক কয়েক ঘন্টায় কয়েকজন সঙ্গীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং দমন তীব্র হচ্ছে। এটি সরকারের শক্তিশালী দেখানোর একটি উপায়। কিন্তু তারা জানে নোবেল এবং মোতায়েন মারাত্মক ধাক্কা। পুরো বিশ্ব জানে তারা পরাজিত হয়েছে। আমরা আমাদের বিজয় প্রমাণ করেছি।
