রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বহিরাগত বিদ্যুৎ লাইন ইচ্ছাকৃতভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, যাতে এটিকে মস্কোর বিদ্যুৎ গ্রিডের সাথে সংযুক্ত করা যায়। রাশিয়া অধিকৃত ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের লাগোয়া ওই পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপন্ন বিদ্যুতের দখল নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পনা হতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্দ্রে সিবিহা। ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা করে আসছে যে মস্কো এই প্ল্যান্টের উৎপাদন তার গ্রিডের সাথে সংযুক্ত করার চেষ্টা করবে। কিন্তু রাশিয়ান কর্মকর্তারা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আগ্রাসনের প্রথম সপ্তাহগুলোতে মস্কোর বাহিনী কর্তৃক দখলকৃত প্ল্যান্টটি পুনরায় চালু করার কোনও ইচ্ছা প্রকাশ করেনি রাশিয়া। পরে রুশ পরমাণু নিয়ন্ত্রক সংস্থা রোসাটমের কর্মীরা জাপোরিঝিয়া থেকে সরে যায়। কিন্তু আশপাশের অঞ্চলগুলো এখনও রুশ সেনার দখলে রয়েছে। জাপোরিঝিয়া পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবস্থান দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের এনেরহোদার শহরের অদূরে ডেনিপার নদীর অববাহিকায় কাখোভকা জলাধারের তীরে। এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি কোনও বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না। তবে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বাইরের কোনও বিদ্যুৎ উৎস নেই। কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে জ্বালানি ঠান্ডা রাখার জন্য এবং গলে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য জরুরি ডিজেল জেনারেটরের উপর নির্ভর করছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক্সে লিখেছেন ,'ইচ্ছাকৃতভাবে ইউক্রেনীয় গ্রিডের সাথে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ইউক্রেনীয় পারমাণবিক স্থাপনা চুরির চেষ্টা করছে রাশিয়া। মস্কো আইএইএ এবং সমগ্র কারিগরি ও কূটনৈতিক সম্প্রদায়কে বোকা বানানোর চেষ্টা করছে এই ভান করে যে সমস্যাটি তার নিজের চেয়েও অন্য কারও দ্বারা সৃষ্ট।'
ইউক্রেন-রাশিয়া উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে জাপোরিঝিয়া কেন্দ্রে গোলাবর্ষণের অভিযোগ এনেছে। ফলে লাইন বিভ্রাট ঘটেছে। জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ গত সপ্তাহে বলেছে যে বহিরাগত সংযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া চলছে এবং বারবার উভয় পক্ষকে পারমাণবিক নিরাপত্তার সাথে আপস করে এমন যে কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক ভিডিও ভাষণে বলেছেন যে, 'রাশিয়ার লক্ষ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার করা নয়। তাই আইএইএ-র এ বিষয়ে কড়া নজর দেয়া উচিত।'
ইউক্রেনের অভিযোগের বিষয়ে রাশিয়ার তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। গত সপ্তাহে, ইন্টারফ্যাক্স সংবাদ সংস্থা রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছিল যে বহিরাগত বিদ্যুৎ উৎসের অভাবে আপাতত জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করার কোনও সম্ভাবনা নেই। যদিও এর আগে এক প্রতিবেদনে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ সংস্থা রোসাটমকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল যে, তারা বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সূত্র : রয়টার্স
