১৯৮৪ সালে অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরথেকে জঙ্গিদের উৎখাতের লক্ষ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশে পরিচালিত ‘অপারেশন ব্লু স্টার’ ছিল ভুল পদক্ষেপ। সেই ভুলের জন্যই তিনি নিজের প্রাণ দিয়েছেন। এমন মন্তব্য করেছেন কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা ও ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি. চিদাম্বরম। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। তবে চিদাম্বরম বলেন, এ অভিযানের সিদ্ধান্ত এককভাবে ইন্দিরা গান্ধীর নয়, বরং ‘সেনাবাহিনী, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সিভিল সার্ভিসের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত’ ছিল এটি। তাই শুধু তাঁকে দায়ী করা যায় না।
শনিবার হিমাচল প্রদেশের কসৌলিতে অনুষ্ঠিত খুশবন্ত সিং সাহিত্য উৎসবে সাংবাদিক হরিন্দর বাওয়েজার বই ‘দে উইল শুট ইউ, ম্যাডাম’ নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। চিদাম্বরম বলেন, ‘এখানে উপস্থিত কোনো সেনা কর্মকর্তাকে অসম্মান করতে চাই না। কিন্তু স্বর্ণমন্দির পুনরুদ্ধারের ওই পথটি ছিল ভুল। তিন-চার বছর পর আমরা সেনাবাহিনী ছাড়া সঠিক উপায়ে মন্দিরটি পুনরুদ্ধার করেছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, জঙ্গিদের আটক ও মন্দির পুনর্দখলের অন্য উপায় ছিল। ব্লু স্টার ছিল ভুল পথ। আমি একমত, ইন্দিরা গান্ধী সেই ভুলের জন্য জীবন দিয়েছেন। কিন্তু এটি ছিল সেনাবাহিনী, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত- একে কেবল তাঁর ঘাড়ে চাপানো অন্যায়।
অপারেশন ব্লু স্টার ১৯৮৪ সালের ১লা জুন থেকে ৮ই জুন পর্যন্ত পরিচালিত হয়। ইন্দিরা গান্ধীর সরকার তখন পাঞ্জাবে জারনেইল সিং ভিন্দ্রানওয়ালের নেতৃত্বাধীন বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন দমনে উদ্যোগ নেয়। ভিন্দ্রানওয়ালে ও তাঁর সমর্থকরা স্বর্ণমন্দিরের ভিতরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেনাবাহিনীর অভিযানে তাঁকে হত্যা করা হয় এবং মন্দির কমপ্লেক্সের অংশবিশেষ- বিশেষত আকাল তখত, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এই ঘটনার ফলে শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক মাস পর ইন্দিরা গান্ধী তাঁর দুই শিখ দেহরক্ষীর গুলিতে নিহত হন।
তাঁর হত্যার পর সারা ভারতে, বিশেষ করে দিল্লিতে, শিখবিরোধী দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে- সরকারি হিসাবে কমপক্ষে ৩ হাজার শিখ নিহত হন। এই দাঙ্গার সময় একাধিক কংগ্রেস নেতার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল এবং পরবর্তীকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ‘বড় গাছ পড়লে মাটি কাঁপবেই’ মন্তব্য কংগ্রেসের ভাবমূর্তিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এখনো ১৯৮৪ সালের সেই ঘটনার দায় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।
