এ.এস.এম. আব্দুল হালিম। ১৯৪৮ সালের পহেলা জানুয়ারি জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় জন্ম নেন। ২০০৫ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি পাট মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর থেকে হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স করপোরেশনের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সিভিল সার্ভিসের সাবেক এ কর্মকর্তা মহকুমা ও জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। চাকরিজীবনে তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব, যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিবের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে সরকারের প্রশাসন, আইন, নীতি, কৌশল ও উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। শৈশবকাল থেকেই আব্দুল হালিম সমাজে কল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ঝড়, বন্যাসহ নানা আপদকালীন সময়ে মানুষদের পাশ দাঁড়াতেন। শৈশবে তিনি তার নিজ গ্রামে ‘পল্লী মঙ্গল’ সমিতি গঠন করেন। এর মাধ্যমে গ্রামের অসহায় দরিদ্র মানুষদের নানাভাবে সহায়তা করেছেন। এ ছাড়া তিনি পথশিশুদের লেখাপড়ার জন্য বিনামূল্যে বই ও খেলাধুলাসামগ্রীও বিতরণ করেছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কাজ করা ও তাকে প্রটোকল দেয়ার সুবাদে তার সততা ও কর্মস্পৃহার প্রতি আকৃষ্ট হন। খাল খনন প্রকল্পে প্রত্যক্ষভাবে তিনি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কোদাল ধরেছেন। তৎকালীন ঝালকাঠি মহকুমায় ৭ মাইল দীর্ঘ ধানসিঁড়ি নদী বিনা অর্থে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে খনন করে খুলনা বিভাগের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি। সে সময় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি প্রেসিডেন্ট জিয়ার সত্য সন্ধানী আদর্শ ও তার সুশাসনের প্রতি দারুণভাবে আকৃষ্ট হন।
আব্দুল হালিম জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা নিয়ে গবেষণামূলক কাজ করেন। পরবর্তীতে তিনি খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ নিয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার কাজ করেন। কৃষি সচিব, সংস্থাপন সচিব ও সর্বশেষ মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ হয় তার। চাকরিজীবনে তিনি এলাকায় বহু বিদ্যালয়, রাস্তা-ঘাট, মসজিদ, মন্দির নির্মাণ করেছেন। চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করার পর তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। খালেদা জিয়ার আহ্বানে তার অফিসেই জামালপুর জেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আব্দুল হালিম বিএনপিতে যোগ দেন। রাজনৈতিক মেধা ও প্রজ্ঞায় সন্তুষ্ট হয়ে খালেদা জিয়া তাকে উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেন। এখন পর্যন্ত তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব তিনি যথাযথভাবে পালন করে আসছেন।
পাশাপাশি আব্দুল হালিম খালেদা জিয়া ও দলকে সহযোগিতা করার লক্ষ্যে অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্ভিসের জৈষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে রিটায়ার্ড সিভিল অফিসার্স ফাউন্ডেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। টানা ১০ বছর এর নেতৃত্ব দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্বৈরশাসক বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার তার বিরুদ্ধে ১৪টি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এসব মামলার কারণে দীর্ঘ ১৫ বছর তিনি অমানবিক নির্যাতন ও মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করেন। আব্দুল হালিম জনসেবার মহানব্রত নিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-২ ইসলামপুর আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি অনুন্নত ইসলামপুর উপজেলায় নদী শাসন, বেকারত্ব দূরীকরণ, মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকরণ ও বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রতিশ্রুতবদ্ধ।
