জলবায়ু সঙ্কট আরও খারাপ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন পথ খুঁজছে টুভালু। প্রশান্ত মহাসাগরে অস্ট্রেলিয়া ও হাওয়াই মাঝামাঝি অবস্থিত এই ছোট দেশটি নয়টি প্রবালদ্বীপ ও দ্বীপ নিয়ে গঠিত। দেশের জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মাইনা তালিয়া আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, তার দেশ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে লড়ছে এবং এই সময়ে অন্যান্য দেশের সাহায্য প্রয়োজন যাতে টুভালুর জনগণ তাদের দেশে থাকতে পারে। কিন্তু এখন টুভালুর জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো, পানির নিচে তলিয়ে না যাওয়া
নিউইয়র্কে সাম্প্রতিক জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালীন একটি সাক্ষাত্কারে তালিয়া আল জাজিরাকে বলেছেন, 'আমাদের দেশ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র এক মিটার উপরে। তাই জমি পুনরুদ্ধার, সমুদ্র প্রাচীর নির্মাণ এবং সহনশীলতা গড়ে তোলা আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।
হাতে বেশি সময় নেই। জলবায়ু অর্থায়ন আমাদের বেঁচে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের এখনই জলবায়ু সংকটে সাড়া দেয়ার প্রয়োজন।
তালিয়া, যিনি টুভালুর স্বরাষ্ট্র ও পরিবেশ মন্ত্রীও, বলেছেন- নভেম্বরে ব্রাজিলিয়ান আমাজনে বেলেমে আসন্ন জাতিসংঘের COP30 জলবায়ু বৈঠকে অর্থায়নের বিষয়টিতে বিশেষ নজর দিতে হবে। টুভালু এবারের COP30 সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়নে একটি ভালো চুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে। গত বছর আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনে ধনী দেশগুলো মাত্র ৩০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করায় অনেক সমর্থক হতাশ হয়ে গিয়েছিলেন।
তালিয়া বলেছেন, জলবায়ু সম্মেলন এখন যেন ‘তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর উৎসব’ হয়ে উঠেছে। তাই টুভালু বিকল্প উদ্যোগও অনুসন্ধান করছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের প্রথম জীবাশ্ম জ্বালানি নন-প্রোলিফারেশন চুক্তি তৈরি করার প্রচেষ্টা এবং পুরো দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা। গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশন (জিসিএ)-এর এ সপ্তাহের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৩৯টি ছোট দ্বীপদেশের—যেখানে প্রায় ৬৫ মিলিয়ন মানুষ বাস করে—আগে থেকেই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার জন্য বছরে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের সহায়তার প্রয়োজন।
অলাভজনক সংস্থা জিসিএ আরও জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো ইতোমধ্যেই বছরে গড়ে ১.৭ বিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। টুভালু কেবল নিজের বেঁচে থাকার দিকে মনোনিবেশ করছে না, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে এই দ্বীপ রাষ্ট্রটি সবচেয়ে বড় অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি। বরং তারা বৈশ্বিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। টুভালুর জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী তালিয়া বলেন, ‘এই কারণেই টুভালু ফসিল ফুয়েল নন-প্রোলিফারেশন ট্রিটির নেতৃত্ব দিচ্ছে।’
সূত্র: আলজাজিরা
