রিসেট

উপদেষ্টাদের কারও সেফ এক্সিটের প্রয়োজন নেই: ড. আসিফ নজরুল

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর (শনিবার), ২০২৫ Archive 2022Source: স্টাফ রিপোর্টার

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘আপনারা জানেন, এখন সেফ এক্সিট নিয়ে নানান কথা-বার্তা হচ্ছে। আমরা উপদেষ্টারা খুব নিশ্চিতভাবে জানি, আমাদের কারও সেফ এক্সিটের প্রয়োজন নেই।’

শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতি হিসেবে সেফ এক্সিটের প্রয়োজন আছে। গত ৫৫ বছর দুঃশাসন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ছিল। এই ভয়াবহ রাষ্ট্রকাঠামো থেকে সেফ এক্সিট প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘আইনও করা হয়, কিন্তু আল্টিমেটলি প্রতিষ্ঠান দাঁড়ায় না। আইন করার ক্ষেত্রে আমাদের কিন্তু ব্যর্থতার ইতিহাস কম। আমরা অনেক ভালো ভালো আইন করি। কিন্তু প্রতিষ্ঠান করার ক্ষেত্রে আমাদের ব্যর্থতা সীমাহীন। আপনাদের একটা একজাম্পল দিই, এটা কন্সটিটিউশনাল ল-এর ক্ষেত্রে প্রায়ই পড়াই। আমার মনে হয়, আমাদের ৭২-এর সংবিধানে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। কিছু ভালো জিনিসও ছিল। একটা খুব ভালো বিধান ছিল যে, রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে ইন্ডিপেন্ডেন্টলি নিয়োগ করবে। এটা এই উদ্দেশ্যেই করা হয়েছিল, যেন এখানে রাজনৈতিক প্রভাব না থাকে। রাষ্ট্রপতি ইন্ডিপেন্ডেন্টলি দু’টা কাজই করতে পারে। তার মধ্যে আসলে একটা কাজ করতে পারেন। সেটা হলো, প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ করা। কিন্তু আপনারা সবাই জানেন, রাষ্ট্রপতি কখনোই প্রধান বিচারপতিকে ইন্ডিপেন্ডেন্টলি নিয়োগ করেন নাই। প্রধানমন্ত্রীর  ইচ্ছা অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ পেয়েছেন। আমরা এ ক্ষেত্রে এমন প্রধান বিচারপতিও পেয়েছি, যারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যারা গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এই সমস্ত নিজের চোখে দেখে উপেক্ষা করেছেন। যেসব বিচারক মানবাধিকার লঙ্ঘনের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা রেখেছেন, তাদের শাস্তিদানে ব্যর্থ হয়েছেন।’

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘ইনস্টিটিউশন রিফর্মের পথে কিছুটা অগ্রসর হয়েছি, পুরোটা করতে পারিনাই। পরের যারা ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট আসবে তাদের কাছেই এই দায়িত্বটা থাকলো। কথাগুলো এজন্যই বললাম যে, ভালো আইন হলে আমরা যেন খুব আশাবাদী হয়ে না যাই। ভালো আইন হচ্ছে একটা ফাউন্ডেশন। একটা ফাউন্ডেশন করে আপনি বসিয়ে রাখলেন। তার ওপর খারাপ একটা বিল্ডিং বানালেন, তাহলে এই ভালো ফাউন্ডেশনেরতো লাভ নেই।’