রিসেট

বিএনপি’র ধানের শীষ নিয়ে টানাটানি কেন প্রশ্ন ফখরুলের

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর (শনিবার), ২০২৫ Archive 2022Source: স্টাফ রিপোর্টার

বিএনপি’র নির্বাচনের প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে অযথা কেন টানাটানি হচ্ছে- এমন প্রশ্ন রেখেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে ‘১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে’ এক স্মরণ সভায় তিনি এ প্রশ্ন রাখেন। এর আগে সকালে জেহাদ দিবস উপলক্ষে রাজউক এভিনিউয়ের জেহাদ স্কয়ারে স্মৃতিস্তম্ভের বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানসহ নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সংবাদপত্রে দেখলাম, কিছু কিছু ব্যক্তি বা দল ধমক দিচ্ছেন, হুমকি দিচ্ছেন যে অমুক মার্কা না দিলে আমরা নির্বাচনে যাবো না বা অমুকের মার্কা থাকতে পারবে না। ভাই, আমরা তো তোমাদের মার্কাতে বাধা দেইনি। কোন মার্কা তোমাদের দেবে, সেটা নির্বাচন কমিটি নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি বলেন, আমরা এ কথা বলি নাই যে, তোমাদের এই মার্কা দেয়া যাবে না। তাহলে অযথা বিএনপি’র ধানের শীষকে নিয়ে টানাটানি কেন? টানাটানি এজন্য যে, ধানের শীষ অপ্রতিরোধ্য, ধানের শীষকে ঠেকিয়ে রাখা যায় না। গ্রামে-গঞ্জে সবখানে একটাই স্লোগান উঠেছে- কী? বাংলাদেশে ধানের শীষ অপ্রতিরোধ্য। ওই জন্য ওটা রুখতে হবে, ওইটা আটকিয়ে দিতে হবে। কারণ ধানের শীষ টিকে গেলে ওই যে বাংলাদেশের শত্রুরা আছে, সেই শত্রুরা তাদের সমস্ত চক্রান্ত থেকে পরাজিত হয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, শেখ হাসিনা, মানে আমাদের সেই মনোস্টার শেখ হাসিনা তিনি এমনিতেই পালিয়ে দিল্লি যায় নাই, যেতে বাধ্য হয়েছেন। কারণ আমরা সেই গ্রাউন্ড তৈরি করেছি, আমরা সেই ভিত্তি তৈরি করেছি, দীর্ঘ ১৫ বছরের সংগ্রাম নিয়ে বুকের রক্ত দিয়ে লড়াই করে সেই গ্রাউন্ডটা তৈরি করেছি। কেউ যদি আমাদের প্রশ্ন করে, এই কথাটুকু স্পষ্ট করে বলতে পারবেন, জোরে বলবেন, গণতন্ত্র আমরা এনেছি, সংস্কার আমরা এনেছি। এই গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করবো আমরাই এবং এর জন্য প্রয়োজন হলে আবারো বুকের মধ্যদিয়ে আমার গণতন্ত্র রক্ষা করবো।

তিনি বলেন, আমলাতন্ত্রকে কোনো একটি নির্দিষ্ট দলের পকেটে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটাকে আমরা (বিএনপি) কোনো মতেই বরদাশত করবো না। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, নির্বাচনের সময়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ আমলাতন্ত্র থাকতে হবে, সরকার থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণভাবে নিরপেক্ষ থাকতে হবে।

ফখরুল বলেন, কোনো দলের, কোনো প্রচারণাকে জাতীয় প্রতিষ্ঠান যেগুলো বিবেচনা করে বিশেষ করে বর্তমান যে সরকার, সেই সরকারকে আবারো বলতে চাই, একদম নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবেন। অন্যথায় আমরা সেটা মেনে নেবো না, এই দেশের মানুষ সেটা মেনে নেবে না। 

ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, জুন মাসে আমাদের নেতা তারেক রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নির্বাচনের যে সময় নির্ধারণ করেছেন, সেই সময়েই মধ্যেই নির্বাচন হবে।

নব্বইয়ের ডাকসু’র ভিপি আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এবং বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনের সঞ্চালনায় সভায় নব্বইয়ের ছাত্রনেতাদের মধ্যে শামসুজ্জামান দুদু, আসাদুর রহমান রিপন, হাবিবুর রহমান হাবিব, খন্দকার লুৎফর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, কামরুজ্জামান রতন, আসাদুর রহমান খান আসাদ, শিরিন সুলতানা, মীর সরফত আলী সপু, সাইফ আহমেদ জুয়েল, ছাত্রদলের রাকিবুল ইসলাম রাকিব, শহীদ জেহাদের বড় বোন চামেলী মাহমুদ, শরীফ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।