পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তিসহ পাঁচ দফা দাবিতে রাজধানীতে গণমিছিল করেছে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন ইসলামী দল। গণমিছিলে নেতারা বলেন, পিআর নিয়ে জনগণকে ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে। অথচ দেশের অধিকাংশ মানুষ পিআরের পক্ষে। আর জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেয়ার বিষয়ে টালবাহানা জনগণ মেনে নেবে না। তারা ফ্যাসিবাদের দোসর জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের শরিকদের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান।
গতকাল জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে গণমিছিল করে জামায়াতে ইসলামী। মিছিল পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
আগামী ১৫ই অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষরের আগে পিআর পদ্ধতি নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন জুলাই সনদের ভিত্তিতেই হতে হবে। এটি বাস্তবায়নে গণভোট দিতে হবে। সেখানে পিআরের বিষয়টিও থাকবে। জাতির মতামত না নিয়ে পিআরকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি না দিলে ফ্যাসিবাদী চক্র জুলাই বিপ্লবকে নস্যাৎ করে দেবে। এতে দুই সহস্রাধিক শহীদের আত্মদান এবং পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি আহত-পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাইযোদ্ধাদের স্বপ্ন ভেস্তে যাবে।
পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে কোনো দলই একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না দাবি করে গোলাম পরওয়ার বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হলে নির্বাচন দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের কবলে পড়বে। কালো টাকা ও অস্ত্রের জোরে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হবে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের আগে ছোট-বড় সব দল যেন সমান সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিমের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন, উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান প্রমুখ। পরে তাদের গণমিছিলটি কাকরাইল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
একই দাবিতে বিকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে থেকে গণমিছিল বের করে ইসলামী আন্দোলন। দলের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বে মিছিলটি বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম ও মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমাদ ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের এতোগুলো রাজনৈতিক সংগঠন ধারাবাহিকভাবে রাজপথে আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু আজ অবধি সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। অথচ আমাদের দাবির যৌক্তিকতা সুস্পষ্ট। যারা আমাদের সন্তানদের হত্যা করে, যারা সেই হত্যাকাণ্ডে সহায়তা করেছে তাদের বিচারের মতো মৌলিক দাবি নিয়ে আমরা রাজপথে আন্দোলন করছি।
জুলাইয়ের রক্তের চাহিদা ছিল দেশ থেকে স্বৈরতন্ত্রকে চিরস্থায়ী বিলোপের ব্যবস্থা করা। জনতার সেই চাওয়া পূরণের জন্যই আমরা পিআর পদ্ধতির প্রস্তাব করছি যাতে কোনোদিনই দেশে স্বৈরতন্ত্র ফিরে না আসতে পারে। এসব দাবির প্রতি সরকারের উদাসীনতা গ্রহণযোগ্য নয়।
অভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুমার পর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের আমীর মামুনুল হক। তিনি বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করেই আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করতে হবে।
তিনি বলেন, যারা চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা করবে, তারাই বাহাত্তরের বাকশালী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত হবে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি আগামীর বাংলাদেশ বাঁচা-মরার এবং শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির প্রশ্ন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা ছানাউল্লাহ আমিনীর সভাপতিত্বে এবং উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুরশিদ সিদ্দিকী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নিয়ামতুল্লাহ আমীনের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমীর এডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী, মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, মাওলানা এনামুল হক মুসা, মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ হাদী, মাওলানা ফয়সাল আহমদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসাইন রাজি, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রাকিবুল ইসলাম প্রমুখ।
