দৈনিক যুগান্তরের শিরোনাম ‘চিকিৎসার বাইরে ৯০ শতাংশ-দেশে মানসিক রোগী তিন কোটি’। এতে বলা হয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি বা মানবিক বিপর্যয়ে সরাসরি প্রভাব পড়ে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অঞ্চলভেদে দুর্যোগ যখন আসে, তখন শুধু অবকাঠামো নয়; বিপর্যস্ত হয় মানুষের জীবনও। কিন্তু মানসিক রোগের চিকিৎসাব্যবস্থা খুবই অপ্রতুল। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সারা দেশে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলেছে মানসিক সমস্যা এবং এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে এ ধরনের রোগী ৩ কোটি। এর মধ্যে চিকিৎসাসেবার বাইরে রয়েছে ৯০ শতাংশ। আর এক-তৃতীয়াংশ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় আক্রান্ত হন।
এমন পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বের মতো আজ বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৫। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য-‘অ্যাকসেস টু সার্ভিসেস-মেনটাল হেলথ ইন ক্যাটাস্ট্রোফেস অ্যান্ড ইমার্জেন্সিস’ অর্থাৎ বিপর্যয় কিংবা জরুরি অবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা যেন পাওয়া যায়। এবারের প্রতিপদ্যে যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো-মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্তদের জন্য অর্থপূর্ণ সহায়তা ও চিকিৎসার সুযোগ বৃদ্ধি, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজের প্রচলিত ভুল ধারণা, কলঙ্ক ও বৈষম্য দূর করা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বার্তা দিয়েছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব তার বার্তায় বলেন, ‘আমরা এক কঠিন পরীক্ষা ও সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। সংঘাত, স্থানচ্যুতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অসংখ্য মানুষ মানসিক চাপ ও দুর্দশার মধ্যে রয়েছে। এই বছরের প্রতিপাদ্য অনুযায়ী, জরুরি পরিস্থিতিতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। দিবসটির বার্তায় মহাসচিব জানান, সংঘাতে আক্রান্ত প্রতি পাঁচজনের একজন মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যায় ভোগেন, অথচ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোয় পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও সহায়তা পাওয়া যায় না। মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি অপরিহার্য। জরুরি প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসাবেই মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং এতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা জানান, জাতিসংঘের মহাসচিব যে পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন, বাংলাদেশের চিত্রও প্রায় একইরকম। দেশে দৃশ্যমান দুর্যোগ কম হলেও এখানে প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। দুর্যোগপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর মতো দেশেও মানসিক সচেতনতা ও স্বাস্থ্যের চিকিৎসা ঘাটতি আছে।
মানিসক স্বাস্থ্য নিয়ে বেসরকারি এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মানসিক স্বাস্থ্য ও মাদকাসক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মুনাইম রেজা মুনিম একটি গবেষণা করেছেন। ‘পাথওয়ে টু মেন্টাল হেলথ সার্ভিস’ অর্থাৎ মানসিক রোগীরা মানসিক স্বাস্থ্যসেবাদাতাদের কাছে পৌঁছাতে কোন কোন ধাপ অতিক্রম করেন। মানসিক সমস্যাজনিত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালটিতে আসা ৫০ জন রোগীর কাছে জানতে চাওয়া হয় কতদিন ধরে রোগের লক্ষণ দেখা দিয়েছে এবং একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ দেখানোর আগে রোগীরা কোথায় কোথায় সেবা নিয়েছেন। গবেষণায় দেখা যায়, একজন রোগীর রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর থেকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাদাতা চিকিৎসকের কাছে যেতে তার সময় লেগে যায় গড়ে ৩৮ মাস। কারও কারও ক্ষেত্রে ২০ বছর পর্যন্ত। এছাড়া সমস্যা দেখা দেওয়ার পর সঠিক মনোরোগ চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের কাছে আসার আগে গড়ে একজন রোগী পাঁচবার ফার্মাসিস্ট, সাধারণ চিকিৎসক, হুজুর, কবিরাজ বা অন্যদের কাছে গেছেন। শতকরা ২৪ জন যান হুজুর ও কবিরাজের কাছে। ২১ জন যান বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক যেমন : হৃদরোগ, কিডিনরোগ অথবা গ্যাস্ট্রোএন্টিরোলজিস্টের কাছে। ফার্মেসিতে যান ১৭ ভাগ। মাত্র ১৫ শতাংশ যান মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞদের কাছে।
ডা. মো. মুনাইম রেজা মুনিম যুগান্তরকে বলেন, সঠিক চিকিৎসকের কাছে সময়মতো না যাওয়ায় বড় ধরনের গ্যাপ তৈরি হয়। এতে তাবিজ, পানি পড়া, ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করেন। যেটি তার প্রতিষেধক নয়। চিকিৎসকের কাছে না যাওয়ার কারণ হিসাবে অনেকে ব্ল্যাক ম্যাজিক বা কালো জাদু, শারীরিক রোগ ছাড়া মানসিক রোগ নেই ইত্যাদি মনে করেন। রোগীরা গ্রামের ফার্মেসির ফার্মাসিস্টদের চিকিৎসক মনে করেন। এছাড়া সামাজিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে-এমন আশঙ্কায় চিকিৎসকদের কাছে আসতে চান না অনেকেই। এর জন্য সচেতনতা তৈরি, রোগের চিকিৎসা সবখানে পৌঁছানো দরকার।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মানসিক সমস্যা ও রোগের চিকিৎসার জন্য সারা দেশে সরকারিভাবে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট হাসপাতাল, পাবনা মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় হাসপাতাল রয়েছে। এছাড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোয়ও রয়েছে এ চিকিৎসাসেবা। পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি ক্লিনিক। কিন্তু এগুলো খুবই ব্যয়বহুল। সরকারি পর্যায়ে রোগীর জন্য শয্যা রয়েছে মাত্র ১২৪০টি, যা রোগীর তুলনায় খুবই অপর্যাপ্ত।
দেশে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ২০১৮-১৯ সালে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট একটি জরিপ চালায়। ওই জরিপ বলছে, দেশে লঘু থেকে গুরুতর মাত্রার মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা প্রাপ্তবয়স্ক ১৭ শতাংশ (নারী ১৯ শতাংশ, পুরুষ ১৫ শতাংশ)। ১৮ বছরের নিচের জনগোষ্ঠী ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে সব বয়সির মিলিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর (মনোচিকিৎসক, মনোবিজ্ঞানী ও অন্যান্য প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবী) সংখ্যা এক হাজারের কম। সমস্যাগ্রস্ত ৯০ শতাংশের বেশি ব্যক্তি চিকিৎসার বাইরে থাকছেন।
১৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (আইআইইডি) প্রকাশিত এক গবেষণায় বাংলাদেশের ১৯৬০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, এই ৬৩ বছরে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। আর ক্ষতি বেড়েছে চারগুণ। এ প্রসঙ্গে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. তৈয়বুর রহমান রয়েল যুগান্তরকে বলেন, প্রতিটি দুর্যোগে মানুষ যেমন শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনই তার ওপর মানসিক চাপও সৃষ্টি হয়। এতে পরবর্তী সময়ে তার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের রোগ তৈরি হতে পারে। বিষণ্নতাজনিত হতাশা একিউট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার ও পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডারের মতো রোগ সৃষ্টি করে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ ধরনের রোগকে আমলে নেওয়া হয় না। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে যারা এ ধরনের মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হন, তাদের চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে একপর্যায়ে তারা স্থায়ী মানসিক রোগীতে পরিণত হন। ব্যক্তির নিজের ও পরিবারের ওপর চাপ তৈরি হয়। দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলোয় পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি কর্মসূচির অংশ হিসাবে সেখানে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী কাউন্সেলরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সেখানে পদায়ন করতে হবে। যারা এ ধরনের পরিস্থিতিতে আক্রান্তদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করবেন।
বাস্তবায়নের উপায় দেখে সিদ্ধান্ত নেবে দলগুলো। দৈনিক প্রথম আলোর শিরোনাম এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫ অক্টোবর জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হবে বলে জানিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। তবে সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে এখন পর্যন্ত সুপারিশ চূড়ান্ত করেনি কমিশন। সনদ বাস্তবায়নে গণভোট নিয়ে ঐকমত্য থাকলেও গণভোটের ভিত্তি, সময় ও পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক মতবিরোধ আছে।
এমন পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত সব দল সনদে সই করবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। কমিশনের সুপারিশে বাস্তবায়নের উপায় বিশেষ করে গণভোটের সময় ও ভিন্নমত থাকা প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে কী থাকছে—এগুলো আগে দেখতে চায় দলগুলো। এসবের ওপর সনদে সই করা না করার বিষয়টি নির্ভর করছে বলে দলগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
ঐকমত্য কমিশন সূত্র জানায়, গণভোটের সময় ও পদ্ধতি নিয়ে মতভিন্নতা থাকলেও এ বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হওয়ায় সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি হিসেবে এটাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে কমিশন। এ ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, অধ্যাপক ও আইনজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ প্যানেল যে মতামত দিয়েছে, সেটা ভিত্তি ধরছে কমিশন। প্রয়োজনে এটি আরও সুনির্দিষ্ট ও কিছুটা বিস্তারিত করা হবে।
সূত্র জানায়, গণভোটের সময়ের বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা করছে কমিশন। আগামী রোববারের মধ্যে বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে সরকারের কাছে সুপারিশ দেবে কমিশন। বাস্তবায়নের সুপারিশ সনদের অংশ হবে না।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ আগামী ১৫ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত হবে। স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কার্যালয়ের সভাকক্ষে কমিশনের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
বৈঠকে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য বদিউল আলম মজুমদার, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ইফতেখারুজ্জামান ও মো. আইয়ুব মিয়া উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ঐকমত্য গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারও সভায় অংশ নেন।
গত বছরের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। সেগুলো হলো সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। গত ফেব্রুয়ারিতে এই কমিশনগুলো তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব সরকারের কাছে জমা দেয়।
দৈনিক ইত্তেফাকের শিরোনাম ‘কমিশন আজকালের মধ্যে সরকারের কাছে সুপারিশ দেবে’। খবরে বলা হয়, বহুল আলোচিত জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত বিষয়গুলো বাস্তবায়নে গণভোটের সময় এবং এর প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হতে না পারায় এ নিয়ে কৌশলী সুপারিশ করার চিন্তা করছে ঐকমত্য কমিশন। গণভোট কখন—সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই, নাকি এর আগে; এ বিষয়ে কমিশনও সুনির্দিষ্ট কোনো সুপারিশ না করার কথা ভাবছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। অবশ্য, এ বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি কমিশন।
আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক দলগুলো থেকে পাওয়া অভিমতগুলো বিশ্লেষণ করে খুব শিগিগরই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায়সংক্রান্ত সুপারিশ এবং চূড়ান্ত করা জুলাই সনদ সরকারের কাছে জমা দেবে ঐকমত্য কমিশন। জানা গেছে, কমিশন আজকালের মধ্যেই কিংবা আগামী রবিবার সরকারকে সুপারিশ ও জুলাই সনদ দিতে যাচ্ছে।
দৈনিক কালের কণ্ঠের শিরোনাম ‘হাতবদলে সবজির দাম ৪ গুণ’ । এতে বলা হয়, কৃষক থেকে রাজধানীর খুচরা বাজারে পৌঁছতে পৌঁছতে সবজির দাম বেড়ে প্রায় চার গুণ হয়ে যাচ্ছে। ঘন ঘন হাতবদল, চাঁদাবাজি ও বাজার তদারকির দুর্বলতায় কৃষক থেকে দামের এই পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। এতে কৃষকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না, ভোক্তাদেরও কিনতে হচ্ছে চড়া দামে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ সমস্যা সমাধানে কৃষি বিপণনকে অনলাইন ও অফলাইন দুটিতেই শক্তিশালী করাসহ বাজারব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করতে হবে।
দেশের অন্যতম বড় সবজির মোকাম বগুড়ার মহাস্থান বাজারে কৃষকরা বেগুন মানভেদে ২৭ থেকে ৪০ টাকা এবং শিম ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন। অথচ কৃষকদের কাছ থেকে স্বল্প দামে কেনা এসব সবজি ঢাকার খুচরা বাজারে চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর বাজারে সবজির দাম এখন আকাশছোঁয়া। হাতেগোনা কয়েকটি সবজি ছাড়া বেশির ভাগ সবজির দাম কেজিপ্রতি শতের ঘরে।
সবজির অত্যধিক দামের কারণে ক্রেতারা তাদের আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মেলাতে পারছে না। ক্রেতারা বলেছে, কিছু দিন আগেও যে সবজি ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, এখন তা ১২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরো বাড়বে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজার, বাড্ডা, রামপুরা ও জোয়ারসাহারা খুচরা বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি বেগুন ১০০ থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়।
অথচ এই দুই দিনে বগুড়ার মহাস্থান হাটে কৃষকরা পাইকারিতে প্রতি কেজি বেগুন মানভেদে ২৭ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করেন। পাবনার বাজারে বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, মেহেরপুর বাজারে ৭০ টাকা ও নরসিংদীর বাজারে ৭০ থেকে ১০০ টাকা কেজি।
রাজধানীর বাজারে শীতের আগাম সবজি শিম প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যদিও মহাস্থান হাটে কৃষকরা পাইকারিতে শিম বিক্রি করছেন মানভেদে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি করে। রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা।
এই খবরে আরও বলা হয়, একাধিক হাতবদলে সবজির দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. হাবিব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কৃষকরা প্রথমে সবজি তাঁদের স্থানীয় বাজারগুলোতে নিয়ে আসেন। স্থানীয় বাজারগুলোতে ফড়িয়া বা পাইকারদের সিন্ডিকেট থাকে। তারা সবাই মিলে একটা দাম নির্ধারণ করে দেয়। সেই দামে কৃষকদের থেকে মণ হিসেবে তারা কিনে নেয়। পরে ট্রাক বা পিকআপে করে রাজধানীতে আসে সবজি। রাজধানীতেও কয়েক হাতবদল হয়ে খুচরা বিক্রেতাদের হাতে যায়। এভাবে কয়েকটি হাতবদলে মূলত সবজির দাম বাড়ে।’ তিনি বলেন, ‘কৃষকদের সঙ্গে যদি সরাসরি রাজধানীর বিক্রেতাদের যোগাযোগ থাকত, তাহলে হাতবদল কমে পণ্যের দামও অনেক কমে যেত। এতে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ই লাভবান হতো।’
দৈনিক আজকের পত্রিকার শিরোনাম ‘জুলাই জাতীয় সনদ- দলগুলোর মতানৈক্য কমাতে উদ্যোগ নেবে সরকার’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫ অক্টোবর জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। কিন্তু এই সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে দলগুলোর মতভেদ এখনো স্পষ্ট। দফায় দফায় বৈঠক করেও এর সুরাহা করতে পারেনি কমিশন। এখন তারা বাস্তবায়নের পথরেখা সুপারিশ করে সরকারকে প্রতিবেদন দেবে। এরপর সরকারই দলগুলোর মধ্যে মতানৈক্য কমাতে উদ্যোগ নেবে বলে জানা গেছে।
ঐকমত্য কমিশন গতকাল বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ১৫ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সনদের স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। গতকাল কমিশনের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গতকালের বৈঠকে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য বদিউল আলম মজুমদার, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ইফতেখারুজ্জামান ও মো. আইয়ুব মিয়া উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ঐকমত্য গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারও সভায় অংশ নেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের ৫টি বৈঠকে পাওয়া মতামত বিশ্লেষণ করা হয়। আশা প্রকাশ করা হয়, বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে পাওয়া অভিমতসমূহ বিশ্লেষণ করে শিগগির বাস্তবায়নের উপায়-সংক্রান্ত সুপারিশ এবং চূড়ান্ত জুলাই সনদ সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে।
মিথ্যা মামলায় ফাঁসছেন বাদী। এটি দৈনিক দেশ রুপান্তরের শিরোনাম। এই খবরে বলা হয়, জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা হয়েছে ঢাকায় এবং দেশের বিভিন্ন থানায় ও আদালতে। এসব মামলায় ব্যক্তিগত আক্রোশ, মোটা টাকার দাবিসহ কারণে-অকারণে লোকদের আসামি করা হয়েছে। মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়েও নেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি নিরীহ লোকদেরও আসামি করা হয়েছে। শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে মোটা চাঁদা না পেয়ে তাদেরও আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি দেশ-বিদেশে আলোচনা-সমালোচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে।
সরকারের কর্তাব্যক্তিরা বলেছেন, মিথ্যা মামলা যারা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে; ফৌজদারি মামলা করা হবে। পুলিশের কয়েকটি ইউনিট তদন্ত করে মিথ্যা মামলার বাদীদের শনাক্ত করছে। প্রাথমিকভাবে ৬৭ জন বাদীকে তারা শনাক্ত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সদর দপ্তর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। এ ধরনের মামলা থেকে রেহাই দিতে ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করেছে সরকার।
প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরাইল-হামাস। দৈনিক নয়া দিগন্তের শিরোনাম। এতে বলা হয়, দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সঙ্ঘাতের পর অবশেষে ইসরাইল ও হামাস ‘প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতি চুক্তি’তে সম্মত হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এক সামাজিক মাধ্যম পোস্টে বলেন, ‘ইসরাইল ও হামাস গাজার যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।’
আলজাজিরা জানায়, ওয়াশিংটনের স্থানীয সময় বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক বার্তায় ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি খুবই গর্বের সাথে ঘোষণা করছি যে ইসরাইল ও হামাস উভয়েই আমাদের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বাক্ষর করেছে। খুব শিগগিরই সব বন্দীকে মুক্তি দেয়া হবে এবং সমঝোতার ভিত্তিতে ইসরাইলও গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে।’
ইসরাইল-হামাস যুদ্ধের অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারও যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করা এক বার্তায় বলেছেন, ‘আমরা (এ যুদ্ধের) মধ্যস্থতাকারীরা এই মর্মে ঘোষণা করছি যে, আজ রাতে গাজায় শান্তি স্থাপন সংক্রান্ত নতুন পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ের সব শর্ত ও বিধান বাস্তবায়নে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, এই চুক্তি স্বাক্ষরের জেরে গাজায় যুদ্ধের অবসান ঘটবে, সব ইসরাইলি বন্দী ও ফিলিস্তিনি কারাবন্দীরা মুক্তি পাবে এবং গাজায় ত্রাণসামগ্রী প্রবেশে আর কোনো বাধা থাকবে না। তবে চুক্তির বিস্তারিত বিষয়গুলো পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে।
এক-চতুর্থাংশ শান্তিরক্ষী প্রত্যাহারের পরিকল্পনা জাতিসংঘের— বণিক বার্তার দ্বিতীয় প্রধান খবর এটি। এতে বলা হয়, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বিশ্বের নয়টি দেশ থেকে জাতিসংঘ তাদের শান্তিরক্ষী মিশনের এক-চতুর্থাংশ কমিয়ে আনবে।
অর্থের অভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
এর ফলে প্রায় ১৩-১৪ হাজার শান্তিরক্ষী সেনা ও পুলিশ সদস্যকে তাদের নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়া হবে।
পাশাপাশি মিশনে নিয়োজিত বিপুলসংখ্যক বেসামরিক কর্মীও এ সিদ্ধান্তের প্রভাবের মধ্যে পড়বেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তিরক্ষা তহবিলের ৮০০ মিলিয়ন ডলার বাতিল করায় মূলত এমন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে জাতিসংঘকে।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে, যা পুরো তহবিলের প্রায় ২৬ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীনের অবদান প্রায় ২৪ শতাংশ।
জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস বিকল্প তহবিলের চেষ্টা চালাচ্ছেন। সেই সম্ভাবনা খুবই সীমিত।
আর এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানও নয়, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান বন্ধ হলে বার্ষিক প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি তৈরি হবে।
