রিসেট

কমপক্ষে ১৭০ অধিকারকর্মীকে ফেরত পাঠিয়েছে ইসরাইল

প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার), ২০২৫ Archive 2022Source: মানবজমিন ডেস্ক

গ্রেটা থানবার্গসহ প্রায় ১৭০ আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মীকে ফেরত পাঠিয়েছে ইসরাইল। গাজার অভুক্ত মানুষের জন্য প্রতীকী ত্রাণ নিয়ে যাওয়া এসব কর্মীকে ইসরাইল গাজা উপকূল থেকে আটক করে। সোমবার তারা জানায়, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদেরকে গ্রিস ও স্লোভাকিয়ায় পাঠানো হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত মোট ৩৪১ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে আটক করা হয়েছিল ৪৭৯ জনকে।

এর আগে সুইজারল্যান্ড ও স্পেনের কর্মীরা অভিযোগ করেন, আটক অবস্থায় তাদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন হারেৎজ। সুইস সংগঠন গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার নয়জন সদস্য রবিবার দেশে ফিরে বলেন, তাদেরকে ঘুমাতে দেয়া হয়নি, খাবার ও পানির অভাব ছিল কয়েকজনকে মারধর, লাথি, এমনকি খাঁচায় বন্দি করা হয়েছিল। সংগঠনের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, আটকরা ভয়াবহ মানসিক ও শারীরিক নিপীড়নের মুখোমুখি হন। তবে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, একমাত্র সহিংস ঘটনা ছিল, যখন হামাস-সুমুদ ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি ইসরাইলের কেটজিওট কারাগারে এক নারী চিকিৎসাকর্মীকে কামড়ে দেয়। ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, আটক ব্যক্তিদের পানি, খাদ্য ও শৌচাগারের পূর্ণ সুযোগ দেয়া হয়েছিল। তাদের আইনি অধিকার সম্পূর্ণরূপে বজায় রাখা হয়েছে। তবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ফিরে আসা কর্মীরা বলছেন ভিন্ন কথা। স্পেনের আইনজীবী রাফায়েল বোরেগো মাদ্রিদের বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেন, তারা আমাদের মারধর করেছে। টেনে হিঁচড়ে মাটিতে ফেলেছে। চোখে কাপড় বেঁধে হাত-পা বেঁধেছে। খাঁচায় পুরে অপমান করেছে। সুইডিশ কর্মীরা দাবি করেছেন, গ্রেটা থানবার্গকে আটক অবস্থায় ইসরাইলি পতাকা জড়িয়ে দেয়া হয় এবং তাকে ধাক্কা দেয়া হয়। তাদের খাবার, পানি, ওষুধ ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও কেড়ে নেয়া হয় বলে অভিযোগ।

ইসরাইলের আইনমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন সোমবার জানান, ১৭০ কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং আরও ৩০৯ জনের মধ্যে ২০০ জনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বহিষ্কার করা হবে। রবিবার ইসরাইলের তেল আবিবে সুইস দূতাবাস জানায়, এখনও কারাগারে থাকা ১০ জন সুইস নাগরিকের সঙ্গে তাদের দেখা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী তারা তুলনামূলক ভালো আছেন। দূতাবাস বলেছে, দ্রুত প্রত্যাবর্তনের জন্য তারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ইসরাইলের দাবি অনুযায়ী, গ্রেটা থানবার্গসহ ১৭০ জনকে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্পেনের সাবেক বার্সেলোনা মেয়র আদা কোলাউ ফ্লোটিলায় ছিলেন। তিনি বলেন- হ্যাঁ, আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি জনগণ প্রতিদিন ভোগ করে তার তুলনায় এই নিপীড়ন কিছুই নয়।

স্পেনের সাংবাদিক কার্লোস দে বাররন এবং নেস্তর প্রিয়েতো অভিযোগ করেন, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ তাদের নামে জাল নথিতে স্বাক্ষর করেছে, যাতে বলা হয় তারা অবৈধভাবে ইসরাইলে প্রবেশ করেছেন। তিনি বলেন, তারা আমাদের সামনে হিব্রু ভাষায় লেখা কাগজ রাখে, অনুবাদক দেয়নি এবং স্পেনের কনসালকেও আশদোদ বন্দরে ঢুকতে দেয়া হয়নি। বিভিন্ন দেশের কনসুলার কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে কারাগারে থাকা নাগরিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে তাদের নিজ নিজ সরকারের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। এ ঘটনার মাধ্যমে আবারও আন্তর্জাতিক মহলে ইসরাইলের গাজা অবরোধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নীতির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।