রিসেট

শুরু মোদি বনাম মমতার বাগযুদ্ধ

প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার), ২০২৫ Archive 2022Source: নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা

পশ্চিমবঙ্গের বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এবং বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে।  রক্তাক্ত হয়েছেন সাংসদ খগেন মুর্মু।  প্রহৃত হয়েছেন শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষও। এই ঘটনার পর থেকে বিজেপির শীর্ষ ও রাজ্য নেতারা প্রতিবাদে সরব হন। রাজ্যের নানা জায়গায় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দেখাতে পথে নেমেছে বিজেপি। আক্রমণের নিন্দা করে বিবৃতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর পরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাগযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী সমাজমাধ্যমে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাতে দেয়া এক পোস্টে  লিখেছেন , ‘‘যে ভাবে আমাদের দলের সহকর্মীরা—যাদের মধ্যে একজন বর্তমান সাংসদ ও বিধায়কও রয়েছেন—পশ্চিমবঙ্গে বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সেবা করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়।" তিনি অভিযোগ করেন, "এটি তৃণমূল কংগ্রেসের অসংবেদনশীলতা এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার করুণ রূপের স্পষ্ট প্রতিফলন।’’
ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রী হিংসার জন্য সরাসরি পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নিশানা করেছেন। সঙ্গে বার্তা দিয়েছেন, ‘‘আমার একান্ত কামনা পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেস এই কঠিন পরিস্থিতিতে হিংসায় লিপ্ত না হয়ে মানুষের সাহায্যে আরও মনোযোগী হোক। সেইসঙ্গে তিনি বিজেপি কার্যকর্তাদের জনগণের পাশে থেকে চলতি উদ্ধার কাজে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
 

তবে সমাজ মাধ্যমে দেয়া মোদির পোস্টের নিন্দা করে সমালোচনায় মুখর হয়েছেন। মমতা অভিযোগ করেন, উত্তরবঙ্গে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যেও রাজনীতি করতে নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী।
সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে মমতা পাল্টা লিখেছেন, ‘‘এটি দুর্ভাগ্যজনক এবং গভীরভাবে উদ্বেগজনক যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী যথাযথ তদন্তের অপেক্ষা না করেই একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের রাজনীতিকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশেষ করে যখন উত্তরবঙ্গের মানুষ ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস পরবর্তী পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করছেন।’’ 

ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান চলাকালীন বিজেপির নেতারা স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনকে কিছু না জানিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী-সহ বিশাল কনভয় নিয়ে দুর্যোগের এলাকায় বলেও অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা তার দীর্ঘ পোস্টে আরও লিখেছেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী কোনও যাচাই করা প্রমাণ, আইনি তদন্ত বা প্রশাসনিক প্রতিবেদন ছাড়াই তৃণমূল কংগ্রেস এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সরাসরি দোষারোপ করেছেন। এটি কেবল নিম্নমানের রাজনীতির উদাহরণ নয়, এটি প্রধানমন্ত্রী যে সাংবিধানিক নীতি বজায় রাখার শপথ নিয়েছেন তার লঙ্ঘন। যে কোনও গণতন্ত্রে আইনকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হয়। কেবলমাত্র আইনি প্রক্রিয়াই দোষী চিহ্নিত করতে পারে। কোনও রাজনৈতিক টুইট নয়।’
তবে সোমবার দুপুর ১টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটলেও মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত অভিযুক্তরা ধরা পড়েনি।  পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, এখনও কাউকেই আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি।