আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে সহযোগিতা আর প্রাসঙ্গিক নয় বলে জানিয়েছে ইরান। এর আগে দেশটির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। এর প্রতিক্রিয়ায় এ কথা জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। এতে বলা হয়েছে, আইএইএর সঙ্গে আমাদের সহযোগিতার জন্য কায়রো চুক্তি আর প্রাসঙ্গিক নয়।
গত মাসে সংস্থাটির সঙ্গে সাক্ষরিত এক চুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করে ওই মন্তব্য করেন তিনি। চুক্তিতে ইরানের পরমাণু প্রকল্পে আইএইএর পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ বিষয়ে একটি নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছিলো। পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে ইরানের ওপর অস্ত্র ও অন্য যেসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা আছে গত সপ্তাহে সেগুলো পুনর্বহালের ঘোষণা দেয় জাতিসংঘ। বৃটেন, ফ্রান্স ও জার্মানিসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের উদ্যোগ নেয়। ২০১৫ সালে যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে তাদের মধ্যে এই তিন দেশও রয়েছে। এসব দেশ তেহরানের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ এনেছে। তেহরান অবশ্য তা অস্বীকার করেছে।
আরাগচি বলেন, ওই তিন ইউরোাপীয় দেশ ভেবেছিলো তাদের হাতে ক্ষমতা আছে। তাই তারা নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের হুমকি দিচ্ছিলো। এখন তারা তাদের ওই ক্ষমতা ব্যবহার করে ফেলেছে এবং ফলাফল দেখছে। তারা তাদের সঙ্গে আলোচনার যুক্তি প্রায় শূণ্যে নামিয়ে এনেছে। তেহরান আইএইএর বিরুদ্ধে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ এনেছে। বলেছে, সংস্থাটি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে। পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ এনেছে। ইরান অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটি জানিয়েছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচী সম্পূর্ণ বেসামরিক। ইরানের কয়েকজন আইনপ্রণেতা এনপিটি চুক্তি থেকে সরে আসার প্রস্তাব তুলেছিলো। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ান জানিয়েছেন, ইরান চুক্তির শর্ত অনুসরণ করে যাবে।
