মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে যৌথ টাস্কফোর্স। রোববার সকালে উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের লাংলিয়াছড়া ও উদনাছড়া এলাকার বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর আগে গত শনিবার উপজেলার ৪নং সিন্দুরখান ইউনিয়নের লাংলিয়া ছড়া এলাকায় সাতটি পয়েন্টে নদী ও ছড়ার তলদেশ থেকে শত শত ডায়না গাড়ি দিয়ে বালু লুটের ঘটনার সংবাদ দৈনিক মানবজমিনে “ছড়ার বুক চিরে লুটপাট, ঝুঁকিতে সেতু ও পরিবেশ: শ্রীমঙ্গলে বালু হরিলুট” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে প্রায় ৪০০ ঘনফুট অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু জব্দ করা হয়। অভিযান চলাকালে নদী ও ছড়া-সংলগ্ন বিভিন্ন পয়েন্টে বালু তোলার আলামত পাওয়া যায়। অবৈধ উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম শনাক্ত করা হলেও ঘটনাস্থলে জড়িতরা আগাম সংবাদ পেয়ে স্থান ত্যাগ করে বলে জানা গেছে। টাস্কফোর্স সদস্যরা জানান, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন এ অভিযান চালায়। অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করার আশ্বাস দেয়া হয়। অভিযানে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এলেও অনেকেই জানিয়েছেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইন প্রয়োগ প্রয়োজন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) মো. মুহিবুল্লাহ আকন বলেন, সেনাবাহিনী পুলিশ নিয়ে টাস্কফোর্স অভিযানে যায়। তবে তাদের সোর্স থাকায় তারা কোনো না কোনোভাবে খবর পেয়ে যায়। এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল থেকে শুরু করে সিন্দুরখান পর্যন্ত বালু চোরদের সব জায়গায় সোর্স থাকে। তিনি জানান, অভিযানে ওখানে কাউকেই পাওয়া যায়নি। অবৈধ যানবাহনও পাওয়া যায়নি। তবে লাংলিয়া ছড়ার সবগুলো পয়েন্টে বিভিন্ন আলামত পেয়েছি। ট্রাকের ও ডায়না গাড়ির ছাপ পেয়েছি। গতকাল থেকে এসব পয়েন্ট থেকে বালু তুলেনি। আমরা ৪ শত ঘনফুট বালু জব্দ করেছি, তবে এ অভিযান চলবে। তিনি আরও জানান, পুলিশকে বলা হয়েছে ওই খান থেকে যারা যারা বালু উঠায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার জন্য।
প্রসঙ্গত, পরিবেশ সংরক্ষণ আইনসহ বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী নদী, ছড়া বা সরকারি খাসজমি থেকে অনুমোদন ছাড়া বালু উত্তোলন দণ্ডনীয় অপরাধ। তবুও অনেক এলাকায় রাতের আঁধারে বা প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এ কর্মকাণ্ড চলমান রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
