রিসেট

বেসরকারি শিক্ষকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার), ২০২৫ Archive 2022Source: স্টাফ রিপোর্টার

ঘোষণার পরও জাতীয়করণ না হওয়ায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখী পদযাত্রা করেছে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। গতকাল সকাল থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থানের পর বিকাল ৪টার দিকে যমুনার উদ্দেশ্যে রওনা করেন তারা। হাইকোর্টের সামনে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়। সেখানে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে লাঠিচার্জ, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। 

এর আগে ‘বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে সোমবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হন জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়া প্রায় ৫ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। তারা বলেন, ২০১৩ সালের ৯ই জানুয়ারি তখনকার আওয়ামী লীগ সরকার সারা দেশের সব বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছিল। সে সময় ২৬ হাজার ১৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি হলেও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কনসালটেশন কমিটির সুপারিশে ৫ হাজার বিদ্যালয় বাদ পড়ে যায়। এরপর থেকে দফায় দফায় নিজেদের দাবি আদায়ে আন্দোলন করে আসছেন তারা। গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও স্কুল জাতীয়করণের দাবিতে কয়েক দফা আন্দোলন করেছেন তারা। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ২০১৬ ও ২০১৮ সালে একাধিক সরকারি চিঠি ইস্যু করা হলেও জাতীয়করণ কার্যকর হয়নি। সর্বশেষ গত ৩রা ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়। এরপর মন্ত্রণালয়ের কনসাল্টেশন কমিটি বাদ পড়া বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের সুপারিশ করলেও তার কোনো অগ্রগতি নেই। এই জন্য বাধ্য হয়ে আমরা আবারো রাজপথে অবস্থান নিয়েছি। আমরা জাতীয়করণের তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর জাতীয়করণ চাই।

বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষক ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মো. নওশাদ আহমেদ বলেন, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের চিঠি ও কনসালটেশন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী জাতীয়করণ বঞ্চিত অনধিক ৫ হাজার বেসরকারি বিদ্যালয় দ্রুত জাতীয়করণ করতে হবে। এই শিক্ষকরা খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সংগঠনটির সমন্বয়ক মাহবুবা মালা বলেন, অন্যের শিশুকে পাঠদান করলেও আমাদের নিজেদের ভাগ্যের উন্নতি হয় না। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ চাই। তিনি ছাড়া আর কেউ আমাদের ভাগ্যের উন্নতি সাধন করতে পারবে না। গতকালের আন্দোলনে যোগ দেয়া বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক আব্দুর রহিম, শহিদুল ইসলাম, অহিদুলসহ বেশ কয়েকজন বলেন, আমাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সারাদিন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থানের পর আমরা শান্তিপূর্ণভাবে যমুনার উদ্দেশ্যে রওনা করি। কিন্তু পদযাত্রা নিয়ে যাওয়ার পথে হাইকোর্টের সামনে পুলিশ আমাদের বাধা দেয়। আমরা তাদের বলি আমার শিক্ষক, কোনো ঝামেলা হবে না। আমাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। কিন্তু কোনো উস্কানি ছাড়াই তার বেধড়ক লাঠিচার্জ শুরু করে। এরপর জলকামান থেকে পানি ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। তাদের হামলায় আমাদের অন্তত ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষক আহত হয়েছেন। আমরা এর বিচার চাই। 

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি’র শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালিদ মনসুর বলেন, শিক্ষকরা সকাল থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় আন্দোলন করলেও আমরা তাদের কিছু বলিনি। উল্টো আমরা তাদের ৭ জনের একটি প্রতিনিধিদলকে সচিবালয়ে যেতে সহায়তা করি। তারা গিয়ে দেখাও করে আসে। এরপরও তারা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় যাওয়ার চেষ্টা করে। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ডিএমপি’র রমনা জোনোর উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম বলেন, রাস্তা অবরোধ করে জনভোগান্তি সৃষ্টি করায় তাদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে।