রিসেট

গৃহবন্দি ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট বলসোনারো, যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা

প্রকাশিত: ৫ আগস্ট (মঙ্গলবার), ২০২৫ Archive 2022Source: মানবজমিন ডেস্ক

ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট দেশটির সাবেক ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোকে গৃহবন্দি রাখার আদেশ দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি একটি অভ্যুত্থানের পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন। যদিও এই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে আসছেন তিনি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এতে বলা হয়, মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরায়েস বলেন, বলসোনারো গত মাসে দেওয়া নিষেধাজ্ঞাগুলো অমান্য করেছেন, এজন্যই তার বিরুদ্ধে নতুন করে ওই আদেশ দেওয়া হয়েছে। বলসোনারোর আইনজীবীরা অবশ্য নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন তারা।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে বলসোনারোর গৃহবন্দির আদেশের সমালোচনা করেছে। এক্সে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা আদালতের এ আদেশের নিন্দা জানাই এবং নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডে সহায়তাকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনব।

এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলসোনারোর বিচারকে  ‘উইচ-হান্ট’ (অন্যায়ভাবে হয়রানি) আখ্যা দিয়েছেন এবং এর জের ধরে ব্রাজিলের কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও ব্রাজিলের সঙ্গে  যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে।

বিচারপতি মোরায়েস নিজেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছেন। তিনি বলেছেন, বলসোনারো তার সমর্থকদের এবং ছেলেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সুপ্রিম কোর্টের ওপর হামলার আহ্বান এবং ব্রাজিলীয় বিচার ব্যবস্থায় বিদেশি হস্তক্ষেপে উৎসাহিত করেছেন। রোববার, বলসোনারোর পক্ষে বিভিন্ন ব্রাজিলীয় শহরে বিক্ষোভ হয়। রিও ডি জেনেইরোতে এক সমাবেশে তার ছেলে সিনেটর ফ্লাভিও জনতার সামনে বাবাকে ফোনে স্পিকারফোনে তুলে ধরেন।

পরে ফ্লাভিও একটি ভিডিও প্রকাশ করেন যেখানে তার বাবা সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছেন। যদিও তিনি পরে সেই ভিডিও মুছে ফেলেন। বিচারপতি মোরায়েস তার রায়ে বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, বলসোনারো ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ আদালতের পূর্বের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছেন। রায়ে বলা হয়, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগুলোর প্রতি এমন নির্লজ্জ অবজ্ঞা দেখিয়েছেন। রায়ে আরও বলা হয়েছে, বলসোনারোকে কেবল আইনজীবী বা সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া আর কাউকে সাক্ষাৎ দিতে নিষেধ করা হয়েছে। এছাড়া তিনি মোবাইল ফোনও ব্যবহার করতে পারবেন না।

বিচারপতি মোরায়েস বলেন, বিচার অন্ধ, তবে বোকা নয়। তিনি আরও লিখেছেন, আদালত এটা হতে দেবে না যে একজন আসামি রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিচার ব্যবস্থাকে উপহাস করবে এবং শাস্তির হাত থেকে বাঁচবে। এ কঠোর পদক্ষেপের অন্যতম কারণ হলো আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তিনি ডনাল্ড ট্রাম্পকে মামলায় হস্তক্ষেপ করতে উৎসাহ দিচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, ট্রাম্প ও বলসোনারোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল, এবং তারা ২০১৯ সালে হোয়াইট হাউসে সাক্ষাৎ করেছিলেন। গত মাসে এক সামাজিক মাধ্যমে পোস্টে ট্রাম্প বলসোনারোর প্রশংসা করে বলেন, তিনি কোনো অপরাধ করেননি এবং তিনি এমন একজন শক্তিশালী নেতা যিনি নিজের দেশকে সত্যিকারের ভালোবাসেন।